এ্যানিভার্সারির শুভেচ্ছা পত্র

পুরুষ মানুষ এ্যানিভার্সারির দিনে অতিরিক্ত রকম বিনয়ী পোস্ট দেয়। বেশির ভাগ লিখে,
– আমার মত খারাপ ছেলের সাথে বারো বছর কাটিয়ে দিলে, এমন করেই পাশে থেকো।
সাথে হাতে হাত ধরা ছবি। ছেলের হাত কুচকুচে কালো, মেয়ের হাত ধবধবে ফর্সা। দেখলেই বুঝা যায়, পুরা মিস ম্যাচ। আবার লিখে,
– বারোটি বছর ধরে অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমাকে, বুঝে না বুঝে – কখনো হাত ছেড়ে যাওনি। আমি ভাগ্যবান।
লাগে যেমন সব ফেরেশতা, এক একজন পরীরে বিয়ে করছে। দুনিয়াতে খালি শান্তি আর শান্তি।

মিথ্যা মিথ্যি একদিনের জন্য এইসব বলার দরকার কী বুঝলাম না। Continue reading “এ্যানিভার্সারির শুভেচ্ছা পত্র”

ভয়ানক ছাত্র

টিউশনি করা ব্যাচেলর মেধাবী ছাত্ররা সাবধানে। গতকাল ছিল আমার নতুন টিউশনির প্রথম দিন। কিন্তু বড়ভাই সাবধান করে দিয়েছে। ছাত্র নাকি অনেক টাউট বাজ আমি যেন সেই ভাবে পড়াই। প্রথম দিন,
– তোমার নাম কি?
~ স্যার আমার নাম ফটিক। কিন্তু আমার স্কুলের বন্ধুরা আমাকে আদর করে ফটকাবাজ বলে ডাকে।
ছাত্রের মুখ থেকে এই কথা শুনে বুঝতে পারছিলাম ছাত্র আমার ১ নাম্বারের টাউট। আমিও কম যাই না। আমি আমার ছাত্রকে বললাম,
– শুনো ফটিক, আমি খুব রাগী একটা মানুষ। তোমার মত অনেক ফটকাবাজ ছেলেদের আমি পিটিয়ে মানুষ করেছি। তাই আমার সাথে কোন চালাকি করবে না। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিনই শেষ করতে হবে।
ছাত্র আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
~ আমি কি আপনাকে স্যার বলে ডাকবো না কি দুলাভাই বলে ডাকবো? Continue reading “ভয়ানক ছাত্র”

কর্পোরেট স্লাট (প্রথম পর্ব)

২০০১ সাল। ঘটনাস্থল উত্তরা ৭ নং সেক্টর। আমি যে বাড়ীতে থাকতাম তার পাশেই ছিলো বেশ কিছু হোষ্টেল। একটি হোস্টেলের নাম ছিল ‘প্রথম হোস্টেল’। সেই বাড়ীতে এখন ‘উত্তরা ইউমেন কলেজ’ এর ক্যম্পাস। আমি থাকতাম এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সাথে। ৭ নং সেক্টরে তখন এরকম ছেলেদের হোস্টেল ছিল ৪০ টির মত আর সবগুলোতেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্র থাকত। আর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষের তত্বাবধানে একটা মেয়েদের হোস্টেল ছিল যা ছিল ক্যাম্পাসের একদম কাছে ৭ নং রোডে। সেই বাড়ীতে এখন একটা স্কুলের ক্যম্পাস। মেয়েদের হোস্টেল ছিল ৪ তলা বিল্ডিং। প্রায় শ’খানেক ছাত্রী থাকত। বাইরে কড়া সিকিউরিটি পাহারা দিত। হোস্টেলের চাবি থাকত মেয়েদের কাছে। কেউ (শুধুমাত্র মেয়ে) Continue reading “কর্পোরেট স্লাট (প্রথম পর্ব)”

বাজার সদাই

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট সাধারণ মানুষের অবস্থা নিজ চোখে দেখতে শহরের সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজারে মাংসের দোকানে উপস্থিত হলেন।
প্রেসিডেন্ট (মাংসের দোকানের কসাইকে): কেমন আছো? বেচাকেনা ভালো তো?
দোকানদার: বেচাকেনা এমনিতে ভালো। তবে আজ বিক্রি একদম বন্ধ।
প্রেসিডেন্ট (বিস্মিত কণ্ঠে): কেনো কেনো? আজ বিক্রি বন্ধ কেনো?
দোকানদার: আপনি পরিদর্শনে আসছেন বলে কোনো ক্রেতাকে আজ বাজারে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আপনি চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
প্রেসিডেন্ট (সহানুভূতির সুরে): মন খারাপ করো না। আজ আমিই হবো তোমার প্রথম কাস্টমার। ওই রানটা থেকে পাঁচ কেজি মাংস কেটে দাও দেখি। Continue reading “বাজার সদাই”

জান থেকে জানোয়ার

পদ পদবীই মূল কথা। সব ক্ষেত্রেই মানুষ পদ-পদবীকে বিবেচনায় নিয়ে মানুষ বিচার করে। যতক্ষণ একজন মানুষ পদে থাকে ততক্ষণই তার গুরুত্ব থাকে। চেয়ার ছাড়া মানুষের তেমন দাম নেই। যে ধোনী বছর খানেক আগেও চরম দাপটধারী ছিলেন, অধিনায়কত্ব হারিয়ে তিনি এখন অনেকটা করুণায় দলে খেলেন। দুইবছর আগে সে স্থানে উনি ছিলেন, সেই স্থানে আর উনি নেই। মানুষটা ঠিকই আছেন, চেয়ারটা নেই। তাই সেই ধোনীও নেই। মা মারা গেলে নানারবাড়ির সাথে সম্পর্কটা কেমন যেন হয়ে উঠে। সেই অধিকারবোধটা কেন যেন আর কাজ করে না।

যে অফিসে জব করবেন, জবে থাকাকালীন সময় কলিগরা যে আচরণ করবে, ছেড়ে দিলে তা আর করবে না। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে Continue reading “জান থেকে জানোয়ার”

লকডাউন

পাশের বাসায় ঝগড়া লেগেছে। সেই লেভেলের চিল্লাচিল্লি। কাহিনী হলো, কোয়ারেন্টাইনে স্বামী-স্ত্রী মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করতে গিয়ে পুরাতন তোষকের নীচ থেকে বউ কয়েকটা ঐতিহাসিক প্রেমপত্র উদ্ধার করেছে। স্বামী বেচারার মহাবিপদ। কঠিন জেরা চলছে।
– কে?
– কী?
– কাকে?
– কোথায়?
– কবে?
– কখন?
ইত্যাদি.. ইত্যাদি। Continue reading “লকডাউন”

Page 1 of 23912345...102030...Last »