আমাদে ছক্কা ছয়ফুর

তাঁর নাম ছয়ফুর রহমান। পেশায় ছিলেন বাবুর্চি। খুব নামিদামি বাবুর্চি এমন নয়। সিলেটের সালুটিকর নামের একেবারেই গ্রাম্য বাজারের পাশের ছাপড়া ঘরের দিন আনি দিন খাই বাবুর্চি। তাঁর দ্বিতীয় পেশা ছিল ঠেলাগাড়ি চালনা। যখন বাবুর্চিগিরি করে আয় রোজগার হতো না তখন ঠেলাগাড়ি চালাতেন। কিন্তু এই লোকটির ছিল অসম সাহস। যেকোনো ইস্যুতে তিনি একেবারেই জনসম্পৃক্ত রাজনীতি করতেন। ধরুন সালুটিকর থেকে শহরে আসার বাসভাড়া আটআনা বেড়ে গেছে। ছয়ফুর রহমান কোর্ট পয়েন্টে একটা মাইক বেঁধে নিয়ে ওইদিন বিকালে প্রতিবাদ সভা করবেনই করবেন। বক্তা হিসেবে অসম্ভব রসিক লোক ছিলেন। ছড়ার সুরে সুরে বক্তৃতা করবেন। তারপর মূল ইস্যু নিয়ে অনেক রসিকতা করবেন; কিন্তু দাবি তাঁর ঠিকই থাকবে। তার বক্তৃতা শুনতে সাধারণ শ্রমজীবি মানুষের ভিড় হতো। Continue reading “আমাদে ছক্কা ছয়ফুর”

জারণ-বিজারণ

রমনা পার্কে প্রেমিকার সাথে বসে আছি আর বাদাম খাচ্ছি। এমন সময় দেখি একজন দ্বীনি ভাই আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ভালো করে তাকায় দেখি আরে এটা না আমার আব্বা! তাড়াতাড়ি প্রেমিকার ঘাড়ে থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে আমার আর প্রেমিকার মধ্যে দুই হাত ব্যবধানে দূরত্ব বজায় রাখলাম। প্রেমিকা আমার এই হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন দেখে বললো,
– “কি হইলো এতো দূরে গেলা কেন? একটু আগেই না বললা শীত শীত লাগছে”।
আমি কাচুমাচু হয়ে বললাম,
– চুপ করে বসে থাকো, সামনে যে লোক আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন উনি আমার আব্বা হুজুর। উনাকে দেখেই আপাতত গলা শুকিয়ে হাত পা গরম হয়ে গেছে। তাই দূরে আসছি। আর শুনো উনি সামনে এসে কিছু জানতে চাইলে বললা তুমি আমার স্টুডেন্ট। আমি তোমাকে কেমিস্ট্রি পড়াই। আর আব্বা হুজুর খুব ভালো মানুষ আর আমাকে খুব ভালবাসে। Continue reading “জারণ-বিজারণ”

হত্যা ও ভালোবাসা

সত্য ঘটনার পুলিশ ডায়েরী। খুব ভোরে পীরগাছার অন্নদানগর রেল লাইনের পসুকানপুকুর রেল ব্রীজের কাছে হাত-পা-মাথা বিচ্ছিন্ন কাটা ছেড়া একটি মৃত দেহের উপস্থিতি সবাইকে হতবাক করে। গ্রামের মানুষ রেল লাইনের উপর এরুপ দূর্ঘটনা দেখতে মোটেই অভ্যস্ত নয়। অনভ্যস্ত ঘটনা দেখার জন্য উৎসুক লোকের জমায়েত বাড়তে থাকে। কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারে না মৃতদেহটি কার বা কোথা থেকে এসেছিল। রেল ব্রীজ হতে ৮-১০ কিঃ মিঃ দূরে তাম্বলপুর বাজার। কাউনিয়া সান্তাহার রেল লাইনটি এ বাজারটি স্পর্শ করে গিয়েছে। ২০১৪ সালে T-20 বিশ্বকাপ ক্রিকেট সারা বাংলাদেশকে মাতিয়েছে। তাম্বুলপুর-ই বা বাদ থাকবে কেন? নিকটবর্তী সাধু সোনারায় গ্রামের আল আমিন নয়নের বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম স্থানীয় মুদি দোকানদার। ৬-ই এপ্রিল ছিল সম্ভবত বিশ্বকাপের শেষ দিন। বাড়িতে বিদুৎ সংযোগ না থাকায় নয়ন মা’কে বলে বাজারের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে খেলা দেখতে যায়। মোটামুটি ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত সুদর্শন এ ছেলেটি গাইবান্ধা সরকারী কলেজের ইতিহাসের ৩য় বর্ষের ছাত্র। Continue reading “হত্যা ও ভালোবাসা”

শ্রেণীবিভাগ চলতে থাকে

ঘটনা এক,
– ভাই আপনি কি মুসলমান?
– হ, মুসলমান।
– সুবানাল্লাহ, আমিও মুসলমান। আপনে শিয়া নাকি সুন্নি?
– সুন্নি।
– আলহামদুল্লিহ! আমিও সুন্নি। কোন মাজহাবে আছেন?
– হানাফি
– মাশাল্লাহ, আমিও হানাফি। আপনি সৌদি নাকি উপমহাদেশীয় হানাফি?
– উপমহাদেশীয়।
– মারহাবা, আমিও উপমহাদেশীয়। আপনে শরিয়তি নাকি মারফতি?
– শরিয়তি।
– জাযাকাল্লাহু খায়রান। আমিও শরিয়তি। Continue reading “শ্রেণীবিভাগ চলতে থাকে”

অভয়ের বিয়ে (শেষ পর্ব)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “হঠাৎ দেখা” কবিতাটা পড়ার সময় পুনা একেবারে চুপচাপ আমার বুকে কান পেতে শুনলো। আর একটু পরে পরে আমায় আঁকড়ে ধরলো। আরো অনেক কবিতা ওকে শুনিয়েছি। ওর অনুরোধে আমার লিখা “ইচ্ছে” কবিতাটাও শোনালাম।
“আমার খুব ইচ্ছে করে কারো প্রতীক্ষার প্রহর হতে
কাকচক্ষু জলের মতো কারো চোখে
তীব্র অনুভূতির টলটলা অশ্রুর কারণ হতে
ভালবেসে যে আমায় প্রার্থনা করবে ঈশ্বরের দুয়ারে
ইচ্ছে করে কারো চুলের সিঁথির ভাঁজে
সিঁদুর পরা আশীর্বাদের দাবিদার হতে।”
কবিতাটা আবৃত্তি করার সময় পুনা পাঞ্জাবি খামচি দিয়ে ধরেছিলো আমার বুকের কাছে ।
– “তোমাকে বোঝাতে পারবো না এই কবিতাটা আমার কত প্রিয়। বিশ্বাস করবে, Continue reading “অভয়ের বিয়ে (শেষ পর্ব)”

রকমারি খাদক সমাচার

১. সুখী খাদকঃ এদের খাওয়া নিয়ে কোনও টেনশন নাই। মোটা হইতে হইতে ট্রাকের চাকার মত হইয়া গেলেও এরা নিজের শরীরের শেপ নিয়ে টেনশন করেনা। যা পায় তাই খায়। খাওয়ার সময় এদের মুখে এক ধরনের সুখের অনুভূতি দেখা যায়। এরা পৃথিবীতে আসছে খাওয়ার জন্য।
২. দুঃখী খাদকঃ এরা খাবার খায় দুঃখ ভুলে থাকার জন্য। মন খারাপ হইলে নতুন কিছু খায় অথবা রেস্টুরেন্টে যায়।

৩. নাক সিটকানো খাদকঃ এদেরকে নিয়ে পৃথিবী মুশকিলে আছে। যেই খাবারই দেয়া হয়, তারা সেটার মধ্যে বাজে গন্ধ পায় অথবা খাবারের খুঁত বের করে। Continue reading “রকমারি খাদক সমাচার”

Page 1 of 26612345...102030...Last »