ধরো

ধরো।
শীতের রাতে তুমি ঘুমাচ্ছো। আমি মাঝ রাতে তোমাকে কোলে করে ফ্লোরে শুইয়ে এক বালতি পানি এনে তোমাকে ভিজিয়ে দিয়ে যদি বলি,
– ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি।
তুমি কী তখন রাগ করবে? না কী মুচকি হেসে বলবে, ভালবাসি তো পাগলটা।

ধরো।
একদিন তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো। তুমি সকাল থেকে সাজ গোছ করছো। এক মিনিটের কথা বলে বাইরে গিয়ে আমি বাড়ি ফিরলাম রাত বারোটায়। তুমি দরজা খুলতেই আমি যদি জড়িয়ে ধরে বলি, Continue reading “ধরো”

যদি

★ আমি যদি পতিতাবৃত্তি নিয়ে কোন আর্টিকেল লিখি নিশ্চই আমি পতিতা নই।
★ যদি হিজড়াদের নিয়ে কোন লিখা শেয়ার দেই তার মানে আমি হিজড়া হয়ে যাইনি।
★ লেসবিয়ান বা গে নিয়ে কোন ডকুমেন্টারি ক্লিপ আমাকে কৌতুহলী করলেও দুটোর একটাও কিন্তু আমি নই।
★ এইডস নিয়ে লিখলেই কি আমার এইডস আছে নাকি?
★ যদি আমি মন খারাপ নিয়ে দুটো কথা আউড়াই তার মানে আমার সংসারে কোন সমস্যা ঘটেনি।
★ সোসাল মিডিয়াতে লিখালিখি করা মানুষজনের অবিশ্বাস্য সুন্দর বাস্তবের সাথে মিলে যাওয়া কিছু পোস্ট নিজের ওয়ালে কালেক্টেড মেনশন করে পোস্ট দিলেও ইনবক্সে নক আসে *সব ঠিক আছেতো?*
★ ডিভোর্স, এডাপশন, সেকেন্ডলি মেরিড, সেপারেশন, ব্রোকেন ফেমিলি – এসব পরিচিত শব্দের সাথে রিলেটেড প্রতিটা লিখাই যদি আমার সাথে বিলং করে তাহলেতো আমি শব্দজট। আমার জট ছাড়ানো মুশকিল। Continue reading “যদি”

সত্য বচন (ষষ্ঠ পর্ব)

খুব মনে পড়ছে স্কুলে শেষ পিরিয়ড খতম হতেই ঘন্টা বাজতো। প্রথমে আট টা ঘন্টা পরে আরো অনেক ছুটির ঘন্টা। একরাশ হইহুল্লোয় ক্লাস থেকে বের হতাম। সপ্তাহের ৬ টা দিনে প্রতিদিন বিকেল চারটায় প্রতিবার মুক্তির স্বাদ। প্রত্যেকবার একই রকম অনুভূতি। এখন ক্লাস শুরু হয় নিস্তব্ধতায় শেষ হয় তারচেয়েও চুপি চুপি। প্রতি ক্লাসে বন্দিত্বের অনুভূতি বোধ হয় প্রবল। মোটামুটি হুট করেই প্ল্যান ছাড়া জম্পেস ঘুরাফিরাগুলো আনন্দময় হয়। পা ব্যাথা পর্যন্ত হাটাহাটি তারপর বাড়ি ফেরা হয়। এই শহরের কোলাহলে, ব্যস্ততায় আমি নিতান্তই খুব আনপ্রোডাক্টিভ দিন কাটাচ্ছিলাম।

আজ তার বিরতি ছিলো। কিছুটা সময় গেছে কারো দিকে ফিরে দেখার সময় হয়নি, Continue reading “সত্য বচন (ষষ্ঠ পর্ব)”

কথা ঠিক না বেঠিক

পাসপোর্ট অফিসে গেলাম একটা জরুরি পাসপোর্ট করার জন্য। জিজ্ঞেস করলাম কত দিন লাগবে। বলল,
– সাধারনত ১২ দিনে পাওয়ার কথা। তবে এখন বই সংকট। ১ মাসও লাগতে পারে।
মন খারাপ করে বাইরে চলে এলাম। অমনি এক দরবেশ বাবা ডাক দিলো,
– হে বৎস, মন খারাপ করে কোথায় যাচ্ছিস? তোর কি লাগবে আমাকে বল।
বললাম,
– বাবা আমার জরুরি পাসপোর্ট দরকার। কিন্তু ওনারা বলছে ১ মাসও লাগতে পারে।
– হক মাওলা, দেখি তোর কাগজপত্রগুলো।
তারপর দরবেশ বাবা আমার কাগজগুলো নিয়ে ফচাৎ করে ছিড়ে ফেললেন। তারপর নতুন ফরম দিয়ে বললেন,
– এটা পুরন কর।
বললাম,
– বাবা আমিতো অরিজিন্যাল কুমিল্লার রসমালাইর মতো Continue reading “কথা ঠিক না বেঠিক”

ডুব

জগত চায় আপনি একা থাকুন। আপনাকে একা হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে। আর আপনি অসহায়ের মতন আঁকড়ে ধরছেন এখানে সেখানে এ মানুষ সে মানুষ। এ ছেড়ে যায়, আপনার বুক ভেঙ্গে আসে। সে আরেকজনের হাত ধরে আপনি কাঁদতে বসেন। ন্যাচারাল ল এর বাইরে গেলে দুঃখ পেতে হবেনা? একলা চলতে পারছেন না কেন? সমস্যাটা কোথায়? সকালের লম্বা ছায়া দুপুর বেলা এসেই কেমন শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে, দেখননি? মানুষ সামাজিক জীব, এরকম খেলো সস্তা রসিকতা বিশ্বাস করে ঠকেছেন? মানুষ একটা একলা জীব, বেয়াদব জীব, যা খুশি তাই করে অস্বিকার করা জীব।

অনুভুতিকে বিশ্লেষণ করে দেখুন মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরন খুব অদ্ভুত ভাবে সারা দিচ্ছে। চোখটা একটিবার বন্ধ করে দেখুন কি মায়াবী মুখ। Continue reading “ডুব”

সুখপোকা দুখপোকা

অতিমাত্রার গভীর ভালবাসার সঙ্গে হারানোর ভয়টা থাকলে একটা মানুষ মূলত সাইকো হয়ে উঠে। একটা স্বাভাবিক মানুষ যখন সাইকো হয়ে উঠে তখন সবার কাছেই সে অসহ্য হয়ে উঠে। একটা মেয়ে বা ছেলে কেন সাইকো হয়ে উঠে সেটা বুঝার নূন্যতম চেষ্টাও আমরা করি না। বরঞ্চ তার এক্সপ্রেশনটাকে নিয়েই কাটাছেঁড়া করি। তলিয়ে দেখতে গেলে নিজেকেও কিছুটা তলায় নিয়ে যেতে হয়। কে চায় হায়! চাল থেকে ভাত হওয়া সবাই দেখে। কিন্তু চাল থেকে ভাত হওয়ার মধ্যবর্তী ম্যাকানিজম কেউ দেখে না। দেখতে চাইলেও পারে না। আমরা শুরু এবং শেষটা দেখি বা দেখতে পছন্দ করি। একটা মানুষ খারাপ হয়ে গেলে তার সমালোচনা করতে থাকি।

কিন্তু একটা মানুষ কেন খারাপ হয়ে গেল সেটা কখনো তলিয়ে দেখিনা। দেখার সময় আমাদের নেই। Continue reading “সুখপোকা দুখপোকা”

Page 1 of 25812345...102030...Last »