অপরাজিতা

  •  
  •  
  •  
  •  

মেয়েটা ভাঁজ খুলে দাঁড়ালো। মঞ্চের চারিদিকে অন্ধকার। ঠিক মাঝখানে আলোর নিচে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। চেহারা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আলো আর ছায়া দেখা যাচ্ছে কেবল। আলোটা চোখ ধাঁধানো আলো। ছায়াটা গভীর কালো। মেয়েটি চুলের খোঁপা খুলে ফেললো। দর্শক সারিতে পিনপতন নিরবতা। কোথাও কোথাও গভীর শ্বাস শোনা যাচ্ছে। কোথাও বা ঢোক গিলার শব্দ। মেয়েটা এবার বুকের উপরে ঝুলতে থাকা শাড়ির আঁচল ফেলে দিলো। দর্শক সাড়িতে দ্রুত হচ্ছে শ্বাস। মেয়েটার সুউচ্চ বুক তৈরি করেছে বুকের নিচেই গাঢ় অন্ধকার। মেয়েটা পিছন ফিরে দাঁড়ালো। পিঠে ছড়িয়ে আছে খোলা চুল। ব্লাউজের নিচে কোমরের ভাঁজ। ভারি নিতম্বে আটকে গেছে দর্শকদের চোখ। মেয়েটা আস্তে আস্তে আবার সামনে ফিরলো। এতোদূর থেকেও মেয়েটার মুখে আলো ছায়ার ভাঁজ দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটা মুচকি হাসছে। মেয়েটার হাত আস্তে আস্তে ব্লাউজের দিকে চলে যাচ্ছে। একটা বোতাম খুললো। মেয়েটা হাসছে এখনো। দর্শকের সারিতে চাপা চাপা নিঃশ্বাসে শোনা যাচ্ছে,
– ওয়ান মোর! ওয়ান মোর!! ওয়ান মোর!!!
মেয়েটা আরেকটা বোতাম খুললো। এই সময় প্রচণ্ড শব্দে বেজে উঠলো সাইরেন। সবাই কানে হাত দিলো। মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার কথা ভুলে গেলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য।

মঞ্চের চারিদিক থেকে ভেসে এলো এক কণ্ঠস্বর,
– “তোমরা নিজেদের সংযত করো। তোমরা নিজেকে নিয়ন্ত্রণহীন করলে নিজেদের বিপদের জন্য যথেষ্ট হবে।”
দর্শকের সারি থেকে একজন চিৎকার করে উঠলো,
– “বন্ধ করো এই ধর্ম প্রচার। ধর্ম মানুষকে সংকীর্ণ করে তোলে। ধর্ম বলে কিছু নেই। মানব ধর্মই পরম ধর্ম। আধুনিক যুগে ধর্ম হলো বর্বরতা।”
মঞ্চে দাঁড়ানো মেয়েটা ব্লাউজের আরেকটা বোতাম খুললো। মেয়েটার অন্তর্বাসের ফিতে দেখা যাচ্ছে। একজন দর্শক চাপা গলায় বললো,
– “ধর্ম দিয়ে কি নারীকে মুক্ত করা যায়। আমরা নারীকে মুক্ত করে আনবো। আধুনিকতায় তাকে সাজাবো। ধর্ম নারীকে ঘরে বন্দি করে রাখে।”
যেই লোকটি কথাটা বলেছে তার হাত চলে গেছে প্যান্টের জিপারের কাছে। মেয়েটি ব্লাউজের শেষ বোতামটা খুলছে। দর্শক সারিতে চাপা উত্তেজনা। মেয়েটা ব্লাউজ খুলে ফেলেছে। পিঠে হাত দিয়ে অন্তর্বাস খুললো। সাথে সাথে মেয়েটির বুক থেকে খসে পড়লো দু’টো টেনিস বল। মেয়েটি মাথায় হাত দিয়ে খুলে ফেললো চুল। না কোন মেয়ে না। একজন পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে।

দর্শক সারিতে উত্তেজনা। অনেকের হাতে উঠে এসেছে পায়ের জুতো। চিৎকার করে উঠলো অনেকে,
– “আমরা নারীকে আধুনিক করতে এসেছি। পুরুষকে নয়।”
তখনই আবার সেই কণ্ঠস্বর শোনা গেলো,
– “তোমরা নিজেদের সংযত করো। তোমাদের পাপের সুবিধার জন্য তোমরা ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করেছো। আধুনিকতার নামে যৌনতা সহজলভ্য করেছো। তোমরা সংযত হও।”
একজন চিৎকার করে বলল,
– “দূর হও তুমি। ধর্ম মানুষকে অন্ধকারে নিয়ে যায়।”
চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেলো। দর্শক সারিতে সবার কণ্ঠস্বর বদলে গেলো। আলো জ্বলে উঠলো আবার। সব দর্শক উলঙ্গ দাঁড়িয়ে আছে। ওরা কেউ আর পুরুষ নেই। নারী হয়ে গেছে। সবাই বিভ্রান্ত- কি হচ্ছে এসব। আবার সেই কণ্ঠস্বর শোনা গেলো,
– “এবার তাহলে তোমরা তোমাদের মুক্ত করো।”
একজন দর্শক ফিসফিস করে বলল,
– “নারী হয়ে নারীর শরীর নিয়ে কোন আকর্ষণ তো পাচ্ছি না। নারীকে মুক্ত করে আমার কি লাভ! পুরুষ জাতটাই আসলে খারাপ।”
সোরগোল করতে করতে মঞ্চ থেকে বের হয়ে গেলো সব দর্শক। রাস্তায় লোকজন দেখতে পেলো একদল উলঙ্গ নারী ছড়িয়ে যাচ্ছে শহরের অলিতে গলিতে। এরপর থেকে তারা আন্দোলন করছে,
– “পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ থেকে মুক্ত করতে হবে নারীদের। পুরুষ মানেই লম্পট। ওদের কাছে নারী মানেই ভোগের বস্তু। নারীকে হতে হবে শক্তিশালী- অপরাজিতা।”

০৩/০৭/২০২০, ১০.৫৫ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *