অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (সপ্তম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

উনিশ
রাত কত হয়েছে কিছুই জানি না। আমি প্রচন্ড পেটের যন্ত্রনায়কাত্রাতে কাতরাতে বিছানার উপর গিয়ে পরলাম। মাথার যন্ত্রনা, তীব্র গরম ভাব আর শারীরিক দূর্বলতা নিয়ে হাস-ফাস করতে লাগলা। খুব দ্রুতই মনে হতে লাগলো, আমি আর নিঃশ্বাস নিতে পারবো না। আবার বমি আসছে। এক দৌড়ে বাথরুমে চলে গেলাম। বমি করা শেষে শাওয়ার ছেড়ে নিচে দাঁড়িয়ে রইলাম বেশ খানিক্ষণ। আমার সারা শরীর থেকে মনে হচ্ছে গরম আভা ঠিকরে বেরুচ্ছে। আমার চামড়ার নিচে এ যেন জলন্ত আগ্নেয়গিরি লুকিয়ে ছিলো। ঠান্ডা পানির প্রবাহ পেতেই যেন ঠিকরে বেরিয়ে এলো সব গরম ভাপ। আমি চোখ বুঝে আমার পরবর্তি করনীয় কি তা ভাবতে লাগলাম। বাকি রাত টুকু আল্লাহ আল্লাহ করে পার করে দিতে পারলে সকালে আমি ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে আনতে পারবো কিংবা খুব খারপা লাগলে আমি ডাক্তারও দেখাতে পারবো। এই মূহুর্তে রাত টা পার করাই আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ
জ্বরের দ্বিতীয় দিনে, রাতের বেলা সিলিঙের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম, এভাবে পড়ে থাকলে আমি আর সুস্থ হবো না। আমাকে সুস্থ হতে হবে। আমাকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আমাকে খেতে হবে। আমাকে বাঁচতে হবে। আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে হবে। এ বিদেশ বিভূইয়ে বসে, কোথা থেকে যে মনে এত বল এলো জানি না। খুব ঠান্ডা মাথায় ভাবলাম, বাসায় কিছু নাপাজাতীয় ওষুধ এনে রেখেছিলাম, ইমারজেন্সি সময়ের জন্য। আর খাবার বলতে কৌটায় বিস্কিট আর কিছু শুকনো খাবার আছে। পাশেই একটা বড় বোতলে পানি ভরে রেখেছিলাম হাতের কাছে। দ্রুত উঠে বিস্কিট খেয়ে একটা প্যানাডল (নাপা জাতীয় ঔষধ) খেলাম। তিন বেলা নিয়ম করে শুকনো খাবার, পানি আর প্যানাডল খেয়ে শরীরে যেন ধিরে ধিরে শক্তি ফিরে পেতে শুরু করলাম। তৃতীয় দিন বিকেলে বেলা হামাগুরি দিয়ে দরজার কাছে যেয়ে আমি পাশের রুমমেটকে ডাকতে শুরু করলাম। তার পায়ের শব্দ কাছে আসতে শুরু করলো। দরজা খুলে আমাকে দেখে সে ভূত দেখার মত চমকে উঠলো। জানতে চাইলো, আমার শরীর এতো খারাপ অথচ তাদের কেন জানাইনি। আমি তাকে কিছু খাবার দেয়া যাবে কিনা জানতে চাইলাম। আমাদের সাথে এক মাসি থাকতেন (তিনি বৌদ্ধ ধর্মের ছিলেন)। সেই রুমমেট তার মাসিকে বলে আমার জন্য ভাত তরকারির ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি সে যাত্রায় মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ কৃপায় সুস্থ হয়ে উঠলাম।

Photo: Rockdale House.
Place: Sydney, Australia.

একুশ
শাওয়ার বন্ধ করে তোয়ালে দিয়ে সারা শরীর মুছে আমি হাতের তোয়ালে ভালো করে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিলাম। আস্তে আস্তে, এটা সেটা ধরে ধরে বিছানায় গিয়ে বসলাম। হাতের ভেজা তোয়ালে দিয়ে ঘাড় থেকে পিঠ ও সামনে বুক পর্যন্ত দিয়ে ভালো করে মুরিয়ে ফ্যনের নিচে চোখ মন্ধ করে বসে রইলাম। ঘারের পেছনের রগ টান টান হয়ে আছে। কপালের দুই পাশের শিরা দপ দপ করে তাদের উন্মাদ নৃত্ত করে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে আমাকে। আমার দু চোখ বন্ধ। আমি চিন্তা করতে লাগলাম আর সেই সাথে কথা বলতে লাগলাম নিজের সাথে। মুখে আল্লাহ্‌র নাম তো আছেই, দমে দমে জপছি আর পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে একটা জিনিসই চাইছি – “হে আল্লাহ, আমাকে আমার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। এই কঠিন সময় দূর করে সহজ করে দাও।”। এতো বেশি দূর্বল ছিলাম যে, আমি দীর্ঘক্ষন বসে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেললাম। মূহুর্তেই আমি বেহুশ হয়ে পড়ে গেলাম কোলকাতার কোন এক হোটেলের কামরার বিছানায়।

[চলবে]

২৫/০৯/২০২০, ০৯.২০ PM

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (দ্বিতীয় পর্ব)

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (তৃতীয় পর্ব)

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (চতুর্থ পর্ব)

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (পঞ্চম পর্ব)

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (ষষ্ঠ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *