আমার দেশে ফুরিয়ে গেছে ফাগুন

  •  
  •  
  •  
  •  

আমার মাঝেমাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে, ভালবাসাহীন হৃদয় নিয়ে সারাজীবন বেঁচে থাকা মানুষগুলো মৃত্যুর সময় কি ভাবে? তারা কি কাতর হয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে আরো কিছু কাল বেঁচে থাকার আকুতি করে? তারা কি ভালবাসাসিক্ত একটা শরতের দুপুর কামনা করে? পৃথিবীতে বেঁচে থাকার প্রথম শর্তই ছিলো ভালোবাসা। অথচ মানুষগুলো একে অপরকে কতই না ঘৃণা করে বেঁচে থাকে। মধ্যরাতে মশারিতে আটকে পড়া মশাটার মতন ঘৃনা করতে থাকে। আমাদের সুন্দর মুখটার কোণে লেপ্টে থাকার কথা ছিল ভূবন জোড়া হাসি অথচ কত হতাশা নিয়েই না আমরা এক একটা বেঁচে থাকার নিঃশ্বাস নিতে থাকি। আমাদের চোখগুলো হবার কথা ছিল মাতৃভাষায় লেখা এক একটা প্রেমের উপন্যাস। চোখে চোখ রেখে মাপার কথা ছিল ভালবাসার গভীরতা, খুঁজে পাবার কথা ছিল প্রিয় গন্তব্য। অথচ নিঃশব্দের চোখগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বাহারি রঙিন চশমা।

ভালবাসাগুলো অপরিচিত কোন শহরে থাকে না। আমাদের খুব কাছাকাছিই ভালবাসার বসবাস। মাঝ রাতে ঘুম ভাঙ্গা হাত অন্ধকারে যে মানুষটাকে খুঁজে পায়, তার বালিশের নিচেই ভালবাসার সংসার। পথে হাঁটতে হাঁটতে বাম হাতে লতার মত হঠাৎ পেচিয়ে যাওয়া আঙুলের ফাঁকে স্বাধীন হয় ভালবাসা। তার নামে লেখা নীল খামের চিঠিতে থাকে ভালবাসা। কিশোরীর কাঁচা হাতে লেখা ডাইরীর পাতায় বেনামি শুকনো গোলাপের পাপড়িতে বড় হয় ভালবাসা। উঠোনের শিকলে শুকোতে দেয়া আসমানী শাড়িতে উড়তে থাকে ভালবাসা। আমাদের সবার জীবনে কোন এক বৃক্ষ মানব আসুক। লাগিয়ে দিক ভালবাসার এক চারাগাছ। ডালপালা গজিয়ে একদিন ভালবাসা গাছে ছেয়ে যাক এই নগরী।

অথচ কারো কারো কাছে এই রাত যেনো, হাজার বছরের আদিম রাত। বাতাসে পিচঢালা রাস্তার বৃষ্টি ভেজা গন্ধ। নদীর ওপারে সাদা মেঘের মতন ধোঁয়া এপারে বুক পকেটে ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক। ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা জাহাজগুলো নীরবে ভালবাসা ভরে হারিয়ে যাচ্ছে অথৈ সাগরে। নিকোটিন-ভালোবাসায় পুড়ছে আজ যুবকের প্রেমিক হৃদয়। আমার চৈত্রের আকাশে আজ কালো মেঘের ছায়া, পুঞ্জীভূত মেঘ হয়ে ঝরে পড়ছে আদিম যতো ক্ষোভ। দূরে কোথাও কারো নতুন ঘর বাঁধার আনন্দ, বিচ্ছেদের সকল কষ্ট ম্লান করে হাসছে। বধূ বেশে চলে যায় চির চেনা প্রিয় মুখ।

জোয়ার ভাটার জীবনে আবার শুরু হয় নতুন পথচলা, নতুন কোন প্রিয় মুখ। হঠাৎ রাস্তায় দেখা হবে নিঃশব্দের চার চোখ, জাতিস্মর আমি ফিরে যাবো পূর্ব জন্মে। এই জন্মের বিচ্ছেদের সকল স্মৃতি মুছে দিয়ে ফিরে যাবো আমি পূর্ব জন্মে। তুমি রাধা, রন্ধনের ব্যাকরণ ভুল করে কাঁনাইয়ের বাঁশির সুরে যেন ছুটে যাচ্ছ যমুনার পাড়ে। নদীর এপাড়ে দাঁড়িয়ে মাতাল যুবক উড়িয়ে ভালবাসা আকাশে, চেয়ে আছে জাহাজের নোংরে। স্মৃতি খোঁজে ফিরে শূরার মদিরায়। তুমি ভালবাসা হয়ে উড়ো মেঘের পালকে, বৃষ্টি হয়ে ঝরো বিরহিনীর অন্তরে।

১৪/০৯/২০২০, ১০.৩১ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *