আমি আর আমার বউ এবং একজোড়া কানের দুল (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  


সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছিলাম। দাঁড়িয়ে আছি কসমেটিকের দোকানের সামনে। আজ আমার বউয়ের জন্মদিন। এই ঢাকা শহরে কাকের সাথে ঝগড়া করে বেঁচে আছি। আমরা দুজনেই কেন যেন জোড় করেই দিনটার কথা ভুলে থাকতে চাই। ভুলে থাকতে গিয়েই ভুল করতে থাকি একের পর এক। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে ও আমার পা ছুঁয়ে সালাম করে। ওর মাথায় হাত রেখে ওকে একটু কাছে টানি। যেভাবে পুইশাককে গাছে বাইয়ে দেওয়া হয় বউও সেভাবে আমায় জড়িয়ে ধরে থাকলো। ছাড়তে ইচ্ছে করছিলো না। কেমন একটু সংকোচে দুজন আলাদা হয়ে গেলাম। বউয়ের কপালে চুমু দিয়ে অফিসের দিকে পা বাড়ালাম।


অফিসে বসে বার বার বউয়ের কথা মনে হচ্ছে। সামান্য একটা চাকরি করি আমি। তেমন কিছুই দিতে পারিনি আজো বউকে। একটা মেয়ের কত সখ আহ্লাদ থাকে। অথচ ও কোনদিন মুখ ফুটে কিছুই চায়নি। জানে চাইলে যে দিতে পারবোনা। দিলেও মাসের শেষে অনেক টানাটানিতে পরে যাবো। কিন্তু এই মাসে মাঝখানেই টানাটানিতে পরে গেলাম। আজ মাসের ২৪ তারিখ। বউয়ের জন্মদিন। হাতে গাড়ি ভাড়া ছাড়া বাড়তি পয়সা নেই। ইসস! বউয়ের জন্মদিন যদি মাসের শুরুতে হতো তাহলে ওকে একটা শাড়ী কিনে দিতে পারতাম।


কসমেটিকের দোকানে এক জোড়া দুলের সামনে চোখ সেঁটে আছে। পুনা অনেক আগে খুব সংকোচে একবার বলেছিল,
– “আমাকে এক জোড়া দুল কিনে দিবা।”
সেদিন বলেছিলাম সামনের মাসে মাইনে পেলেই কিনে দিবো। অনেক মাস পেড়িয়ে গেছে। আজো কিনে দেওয়া হয়নি। বউ ও চায়নি আর। হয়তো ভুলেই গেছে।

[চলবে]

১৭/০৭/২০২০, ১১.১৬ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *