আমি কাউকে বলি নি সে নাম

  •  
  •  
  •  
  •  

খুব সকালে ঘুম ভাঙ্গার অভ্যাসটা সেই কবেই গিয়েছে। এত আগে উঠে কি করবো সেটাই তো ভেবে পাই না। তবে কি আগে উঠলে সকালটা খরচ হয় না? চা – নাস্তা নিজেই বানিয়ে ফেলি আর লেট হলে হোটেল থেকে খেয়ে নিই। আগে ক্লাস শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে উঠতাম। আর এখন, অফিস শুরু হবার আধা ঘন্টা পর উঠি। কোন কোন দিন বিছানা রুম না ঝাড়ু দিয়েই ক্লাসে চলে যেতাম। থাকতাম একা একা। সব কাজ আমাকেই করতে হতো। আমার সবার মত সকাল এত ভালও লাগে না তবে মাসে একবার সকাল উপভোগ করে ডায়েরিতে কয়েক পাতা লেখা যায়।

সেদিন খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গেছিল তাও আবার ঘার ব্যাথার করণে। উঠেই জানালার পর্দাটা সরিয়েছি। ওমা! এত ঘোলা কেন! কুয়াশা। জানালার থাই ঘেষে কে যেন দাড়িয়ে আছে। মাথা খারাপ দোতালার গ্রিলে ঘেরা বন্ধ বারান্দায় কেউ জানালার বাহিরে কিভাবে দাঁড়াবে? ঘুমের ঘোর কাটে নি তাই চোখের ভুল ভেবে নিলাম। কিন্তু চোখই তো সরাতে পারছিলাম না। থাই টা খুলেই ফেললাম। কুয়াশা পাড়ি দিয়ে জোড় চোখে বাসার পাশের রাস্তার ধারের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কাউকে ঝাপসা চোখেই দেখতে পেলাম। কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুব সকালে চা পান করছে। ক্ষানিক বাদে আমার মনে হলো, আরে দূর এটাও আমার কাল্পনা। সম্ভবত হ্যালোসিনেশন হচ্ছে আমার। মাস কয়েক আগে কেউ একজন বসে বসে গান গেয়েছে আর আমার চোখ টা তখন বেশ সচ্ছ দেখে।

কেউ কেউ এমন অসময়ে শীতের ভোরে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে। তারপর কোথায় যেন হারিয়ে যায়। এই জীবনে কখনোই আর তার দেখা পাওয়া যায় না। তবু মাঝে মাঝে কোন এক পরিচিত রাস্তায় শীতল বাতাস যখন বয়ে যায় অথবা মাঝরাতে জানালার ফাঁক গলে জোছনার আলো যখন লুটিয়ে পড়ে, চোখ বুজলেই সেই অপরিচিতা এক পশলা বৃষ্টির স্পর্শ পাই। যে বৃষ্টি ক্ষণিকের জন্য ভুল সময়ে চলে এসেছিলে, ভুল মানুষের দৃষ্টি সীমায়। যে বৃষ্টি এখন খুব অচেনা। যে বৃষ্টিকে ছুঁয়ে দেখার অধিকার আমার নেই! এই পৃথিবীতে কোন কোন মানুষকে নিয়ে ঠিকঠাক প্রেমের গল্প লেখা যায় না। কেউ কেউ ‘এত প্রেম কাছে এসে এলো না’ – এর মত চির অধরা। কেউ কেউ –
‘আমি কাউকে বলি নি সে নাম,
কেউ জানে না, না জানে আড়াল’ – এর মত অপরিচিত হয়েই রয়ে যায় পুরোটা জীবন।

১৭/০১/২০২০, ১২.০১ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *