আসলান (দ্বিতীয় পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

সেদিন রাতে আসলানের বান্ধবীকে নামিয়ে দেয়ার পরে একা মেয়েটাকে পেয়েই ধর্ষণের পরিকল্পনা করে সুফি। মূল সড়ক ছেড়ে জঙ্গলের দিকে গাড়ি ঘোরায় সে। নির্জন একটা জায়গায় নিয়ে গাড়ি থামিয়ে আসলানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। আসলান সম্ভবত এরকম কিছুর জন্যে প্রস্তত ছিল, ব্যাগে থাকা পিপার স্প্রে’টা বের করে রেখেছিল সে। সুফী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেই সেটা লোকটার মুখের ওপর সরাসরি স্প্রে করেছিল আসলান। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে কোমরে গুঁজে রাখা ছুরিটা বের করে সেটা দিয়ে আসলানকে একের পর এক আঘাত করতে থাকে সুফী। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত মেয়েটা যখন বাসের মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছিল, তখন একটা লোহার রড দিয়ে বারবার তাকে আঘাত করে গেছে এই অমানুষটা, যতোক্ষণ না আসলানের দেহটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।

মৃত্যু নিশ্চিত হবার পরে আসলানের দেহটা সেই জঙ্গলের মধ্যেই লুকিয়ে রেখে গিয়েছিল খুনি সুফী। তারপর বাড়ি ফিরে তার বাবা আর এক বন্ধুকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। তিনজন মিলে আবার জঙ্গলের সেই জায়গাটায় ফিরে আসে, যেখানে আসলানের লাশটা রেখে গিয়েছিল সুফী। ওরা তিনজন আসলানের মৃতদেহটা পুড়িয়ে ফেলে, যাতে এটাকে সনাক্ত করা না যায়। পোড়ানোর আগে আসলানের দুই হাত কেটে নিয়েছিল ওরা, যাতে পুলিশ লাশটা খুঁজে পেলেও মৃতদেহ থেকে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির ডিএনএ স্যাম্পল বের করতে না পারে। মৃত্যুর আগে সুফীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছিল আসলানের, তার হাতে বা নখের ফাঁকে কোন আলামত লেগে থাকলে সেটা পুলিশের ফরেনসিক টিম বের করে ফেলতে পারতো খুব সহজেই। এজন্যেই মৃতদেহ থেকে হাত দুটো আলাদা করে অন্য এক জায়গায় পুঁতে ফেলেছিল ওরা। আর বাকী দেহটা ফেলে দিয়েছিল জঙ্গলের ভেতরের একটা খাঁড়িতে।

মৃত্যুর একদিন পরে, তেরোই ফেব্রুয়ারী খুনী সুফীর দেয়া তথ্যমতে সেই পরিত্যক্ত খাঁড়ি থেকে আসলানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। নিজের জীবন দিয়ে ধর্ষণ ঠেকিয়ে গিয়েছিল মেয়েটা। ইতিমধ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নারীদের তীব্র আন্দোলন। প্রতিক্রিয়াশীল এই দেশটিতে নারীরা যে খুব সম্মানজনক অবস্থানে আছেন, এমনতা নয়। সেখানেও নারী নিগ্রহ বা নারী নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটে। কিন্ত আসলানের ঘটনাটা সবার মনে দাগ কেটে গিয়েছিল প্রবলবভাবে। মেডিকেলের মর্গ থেকে আসলানের লাশ মিছিল করে নিয়ে এসেছিল নারীরাই, শেষবারের মতো তাকে গোসল করিয়ে জানাজা পড়িয়েছিল নারীরা। আসলানের কফিন কাঁধে করে তাকে কবরস্থানে যারা নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের প্রায় সবাই নারী। সেই নারীরাই দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন, কোন পুরুষকে আসলানের মৃতদেহটা ছুঁতেও দেননি!

[চলবে]

০২/১১/২০১৯, ১১.৫৮ PM

আসলান (প্রথম পর্ব)

আসলান (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *