আসলান (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

তুরস্কের একটা ঘটনা বলি আজ। ২০১৫ সালের কথা, ওজগেকান আসলান নামের উনিশ বছর বয়েসী এই তরুণী ছিল সাইকোলজির ছাত্রী। মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবতে ভীষণ ভালো লাগতো তার। নিম্ন মধ্যবিত্ত একটা পরিবারে তার বেড়ে ওঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপটা না পেলে হয়তো পড়ালেখাও চালিয়ে যেতে পারতো না সে। তার পড়ালেখার খরচ জোগানোর জন্যে তার মা একটা হোটেলে বাড়তি কাজ করা শুরু করেছিলেন। চাকুরী করে বাবা-মায়ের রক্ত পানি করা পরিশ্রমটাকে সার্থক করবে, এমনটাই হয়তো ভাবনা ছিল আসলানের। কিন্ত মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক। মানুষের মনের হিজিবিজি রেখা নিয়ে ভাবতে থাকা সেই মেয়েটা হয়তো জানতো না, বিকৃতমনস্ক কয়েকজন পুরুষের লালসার শিকার হয়ে মাত্র উনিশ বছর বয়সেই তাকে পাড়ি জমাতে হবে না ফেরার দেশে!

২০১৫ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী ক্লাস শেষে এক বান্ধবীর সঙ্গে শপিংমলে গিয়েছিল আসলান। সেখান থেকে খেয়েদেয়ে বেরুতে বেরুতে রাত হয়ে এসেছিল প্রায়। বাড়ি ফেরার জন্যে মিনিবাসে উঠেছিল দুই বান্ধবী। আসলানের সেই বান্ধবী তার বাড়ির সামনে নেমে গিয়েছিল, আসলানের গন্তব্য আরও খানিকটা দূরে। গাড়িতে তখন সে একাই যাত্রী ছিল। কিন্ত সেই রাতে আসলান আর ঘরে ফেরেনি। পরদিন আসলানের পরিবারের সদস্যেরা থানায় রিপোর্ট করে। যোগাযোগ করা হয় আসলানের সেই বান্ধবীর সঙ্গে। তার দেয়া তথ্যমতে পুলিশ খুঁজতে থাকে সেই মিনিবাস আর তার চালককে। কিন্ত গাড়ির নাম্বার মনে ছিল না আসলানের বান্ধবীর। সেদিন রাতে সেই পথ দিয়ে যেসব যানবাহন গিয়েছে, সবাইকেই একটা চেকপোস্ট পার হয়ে যেতে হয়েছিল।

সেই চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের সাহায্য নেয় পুলিশ। সেখান থেকে পাওয়া গেল অদ্ভুত একটা তথ্য, সেদিন রাতে একটা খালি মিনিবাস আটক করেছিল চেকপোস্টের নিরাপত্তাকর্মীরা, বাসের মেঝেতে রক্তের ফোঁটা দেখে সন্দেহ হয়েছিল তাদের। তবে ড্রাইভার জানিয়েছিল, বাসের দু’জন যাত্রী মারামারি করাতেই নাকি এই রক্ত মেঝেতে পড়েছে। সন্দেহজনক আর কিছু না পেয়ে গাড়িটা ছেড়ে দিয়েছিল তারা। নম্বর মিলিয়ে পুলিশ এবার খুঁজে বের করলো সেই মিনিবাসটাকে। আসলানের বান্ধবী সনাক্ত করলো মিনিবাসের চালক সুফীকে। পুলিশ কাস্টোডিতে নেয়া হলো তাকে। কিছুক্ষণ ভুলভাল তথ্য দেয়ার পরে হঠাৎ করেই লোকটা স্বীকার করলো, আসলানকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে খুন করেছে সে। আর মৃতদেহ গুম করতে তাকে সাহায্য করেছে তার বাবা আর এক বন্ধু! পুরো ঘটনাটাই তার জবানবন্দীতে রেকর্ড করা হয়।

[চলবে]

০৪/০৯/২০১৯, ১১.৩৮ PM

আসলান (দ্বিতীয় পর্ব)

আসলান (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *