একজন বাবা

  •  
  •  
  •  
  •  

গত ২ দিনে; কন্যা দিবস গেলো, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনও গেলো। দুটো দিবস মিলিয়ে একটা কথাই বোধয় বলার আছে, ‘যে দেশে একটার পর একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এবং তার একটা বিচারও চোখে পড়ার মতো করে দৃশ্যমান হচ্ছে না সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, স্পিকার একজন নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রি নারী, এমনকি এক্স বিরোধীদলীয় নেত্রীও নারী বলে আমাদের গর্ব করাটা আজ বড্ড বেমানান লাগছে।’ গত শনিবারে সিলেটে জামাইয়ের সাথে বেড়াতে যেয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাটা, পুরো সমাজকে, সমাজব্যবস্থাকে একটা বড় ধাক্কা দিয়েছে। আমাদের যে কোন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েদের মায়েদের একটা কমন ডায়লগ হলো,
– ‘এখন কোথাও যাবার দরকার নেই…বিয়ের পরে জামাইয়ের সাথে যেখানে ইচ্ছে ঘুরতে যেও।’
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একবার ভাবেন সেই সকল মা’দের কেমন লাগছে গত শনিবারের ঘটনাটার পর থেকে?

জন্মদিন আপনার প্রতি বছরেই আসবে, কিন্তু এই জন্মদিনটা প্লিজ সকল মায়েদের ভেঙ্গে যাওয়া ভুল ধারনাকে ফিরিয়ে আনার তরে উৎসর্গ করেন। বেশি কিছু করা লাগবেনা, জাস্ট একটা আইন পাশ করেন, ‘ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড’। আপনার মনে থাকবে ২০০২ সালে বাংলাদেশে দুইটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল যার একটি ছিল ‘এসিড অপরাধ দমন আইন’ এবং সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছিল যে এই অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে (ধারা ৪)।

আপনি নিজেই তথ্য খুঁজলেই দেখতে পারবেন যে এই আইনের পর আসিড নিক্ষেপের সংখ্যা কমতে কমতে এখন প্রায় শুন্যের কোঠায়। এই দেশে অনেক ক্ষেত্রেই, একে তো আইন নেই, তারপর আইন থাকলেও থেকে যায় আইনের মারপ্যাঁচ। জাস্ট এই একটা কারণে আজ পর্যন্ত সকল ধর্ষক জামিন পেয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছে সমাজে। এর সলুশান একটাই। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট তথা মৃত্যুদণ্ড। একটা সিম্পল আইন পুরো সিস্টেমকে আবার চাঙ্গা করে দিবে ট্রাস্ট মি। প্লিজ একটা কিছু করেন আপনার এবারের জন্মদিন এবং কন্যা দিবস, দুটোই চির স্মরণীয় করে রাখার জন্য

০৩-১০-২০২০, ১২.৪১ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *