একলা পাখি (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

কিছুদিন আগে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-এ একটা লেখা বেরিয়েছিলো। একা থাকা নিয়ে। আরো দুচারটে লেখা চোখে পড়লো এদিক সেদিক, ওই একই বিষয়ে। প্রতিটি লেখাতেই বলছে একা থাকা লোকের সংখ্যা কত হতে পারে। আরো ঠিক করে বললে, ইচ্ছে করে একা থাকা লোকের সংখ্যা নাকি সারা বিশ্বে দিনে দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আমি ভয়ানক আগ্রহ নিয়ে বিস্তর সময় নষ্ট করে লেখাগুলো পড়লাম কারণ আমাকে নিয়ে তো বেশি লেখালিখি হয়না, যা হয় লোভীর মতো চেটেপুটে পড়ি। কিন্তু পড়ে আমি সত্যি বলছি, হতাশ।

যে যে কারণে লোকে একা একা থাকতে চায় বলছেন বিশেষজ্ঞরা, তার সাথে আমার কারণগুলো বেশিরভাগই মেলেনি। কেউ বেশি ঘুমোবে বলে, কেউ একা একা গান গাইবে বলে, কেউ আরও বেশি করে ক্রিয়েটিভ হবে বলে নাকি একা থাকে। আমি এগুলোর একটাও চাইনা। সে না হয় হলো, যেটা নিয়ে আমার সব থেকে আপত্তি, বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন – “এককালে যা ভাবা হতো যে একাবোকা হয়ে থাকলে পাড়ার লোকে ডাকখোঁজ করবে না, শেষটা দরজার বাইরে মাদার ডেয়ারির প্যাকেট জমতে দেখে হিন্দু সৎকার সমিতিকে ফোন করবে – ঘটনাটা নাকি সেরকম একেবারেই নয়।”

লোকের সাথে হ্যাং আউট করার ইচ্ছে থাকলেই বরং আপনার বেশি করে একা থাকা উচিত। সংসার করেছেন কি সোশ্যাল লাইফের গলায় দড়ি। শনিবার সন্ধ্যেয় ওয়াইল্ড পার্টি করতে চান, নাকি টেঁপিকে বগলদাবা করে গানের স্কুলে যেতে? রবিবার মাথা ফাটানো হ্যাং ওভার নিয়ে বেলা বারোটার সময় ঘুম থেকে উঠতে চান, নাকি রাধা বল্লভী কিনতে পাড়ার শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্নে দশটা বাজতে না বাজতে লাইন দিতে? রবিবার বিকেলে প্রদর্শনীতে গিয়ে ঠাণ্ডা পানীয়ের গেলাস হাতে লাইক মাইন্ডেড লোকজনের সাথে সন্দীপ্ত কথোপকথন করতে চান, নাকি পিসিমার বাড়ির ঠাণ্ডা সিঙ্গারা আর চিমসে রসগোল্লার প্লেট হাতে সামাজিকতা সারতে? মোদ্দা কথা হচ্ছে চার দেয়ালের মধ্যে নিজেকে আটকে রেখে কী হবে যখন সারা পৃথিবীটা বাইরে অপেক্ষা করে আছে?

[চলেব]

২৭/০৭/২০২০, ১১.৪০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *