কর্পোরেট স্লাট (প্রথম পর্ব)

  • 1
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

২০০১ সাল। ঘটনাস্থল উত্তরা ৭ নং সেক্টর। আমি যে বাড়ীতে থাকতাম তার পাশেই ছিলো বেশ কিছু হোষ্টেল। একটি হোস্টেলের নাম ছিল ‘প্রথম হোস্টেল’। সেই বাড়ীতে এখন ‘উত্তরা ইউমেন কলেজ’ এর ক্যম্পাস। আমি থাকতাম এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সাথে। ৭ নং সেক্টরে তখন এরকম ছেলেদের হোস্টেল ছিল ৪০ টির মত আর সবগুলোতেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্র থাকত। আর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষের তত্বাবধানে একটা মেয়েদের হোস্টেল ছিল যা ছিল ক্যাম্পাসের একদম কাছে ৭ নং রোডে। সেই বাড়ীতে এখন একটা স্কুলের ক্যম্পাস। মেয়েদের হোস্টেল ছিল ৪ তলা বিল্ডিং। প্রায় শ’খানেক ছাত্রী থাকত। বাইরে কড়া সিকিউরিটি পাহারা দিত। হোস্টেলের চাবি থাকত মেয়েদের কাছে। কেউ (শুধুমাত্র মেয়ে) ভিতরে ঢুকতে চাইলে ভিতর থেকে মেয়েরা গেইট খুলে দিত। এমনকি বুড়ো দারোয়ানেরও ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নেই।

পুরুষ অভিভাবক এমনকি বাবা এলেও তাকে বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হত। মুলত এই কারনেই এই ছাত্রী হোস্টেলের ডিমান্ড ছিল বেশি। এছাড়া ক্যাম্পাস ছিল দুই বিল্ডিং পরে। তখন ২১ নং রোডে ব্যান্ড শিল্পী জেমস থাকত। ওটা সম্ভবত ওনার নিজের বাড়ী ছিল। জেমসের নাম কেন নিলাম তা পোষ্টের শেষে উল্লেখ করব। আরকটা কথা – তখন মোবাইলের প্রচলন ছিল খুব কম। যেহেতু এশিয়ান ইউনিভার্সিটিত ছাত্র ছাত্রীরা সাধারত মধবিত্ত পরিবারের তাই তখন তাদের হাতে মোবাইল ছিল না। তখন শুধুমাত্র উত্তবিত্তের হাতে মোবাইল ছিল। তবে প্রায় সব হোস্টেলেই টিএন্ডটির লাইন ছিল।

এক রাতে হঠাত আমাদের রুমের দরজায় কে যেন জোরে জোরে থাবা দিল। রাত তখন দুইটা, আমি সবে মাত্র ঘুমিয়েছি। রুমমেটরা পাশের রুমে কার্ড পেটাচ্ছিল। তারাই চিল্লাচিল্লি করে আমার ঘুম ভাঙাল। সবাইকে উত্তেজিত দেখলাম। একজন রান্না ঘর থেকে দা বটি হাতে নিল, আরেকজন কোথা থেকে লাঠি যোগাড় করল। পরে দেখি লাঠিটা হল ঘরের ঝুল পরিষ্কারের লাঠি! ঘটনা যা জানলাম তা হল – সেই লেডিস হোস্টেল থেকে সাহয্য চাওয়া হয়েছে। ঐ হোস্টেলে কারা যেন আক্রমন করেছে। আমিতো অবাক। থানার এত কাছে, ক্যম্পাস থেকে দু’কদম দূরে উত্তরা ৭ নং সেক্টরের মত একটা জায়গায় রাতে হামলা হতে পারে কীভাবে? ঘটনা যাই হোক না কেন বুঝলাম ঘটনা সুবিধার না। সবার মত আমিও দ্রুত প্যান্ট পরে ঐ হোস্টেলের দিকে রওনা হলাম।

[চলবে]

০২/০৪/২০২০, ১১.৩৮ AM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *