কাগজের নৌকা

  •  
  •  
  •  
  •  

সব কিছুতেই মুগ্ধ হওয়ার অসম্ভব ক্ষমতা আমার। আশেপাশের যাই দেখি তাতেই মুগ্ধ হই। রাস্তার পাশে মুড়িওয়ালাকে দেখে অবাক হই। খুব নিমগ্ন চিত্তে তাঁর মুড়ি মাখানো দেখি। হাত আর চোখের সন্নিবেশন দেখি। কত অল্প সময়েই সে একঠোঙ্গা মুড়ি মাখিয়ে ফেলে। দুর্দান্ত। মাঝেমধ্যেই দেখি এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে গান গাইতে গাইতে রিক্সা চালাচ্ছে চালক। একই সাথে তাঁর ব্রেইন কত নিখুঁতভভাবে কয়েকটি কাজ চালাচ্ছে। গান, প্যাডেল, দিক, গানের সাথে সাথে হয়তো সে কোন স্মৃতি মনে করছে। অপূর্ব।

রাস্তায় হাটার সময় আমি প্রায়শঃ চারদিকে দেখতে দেখতে যাই। আমার ভাল লাগে। মুগ্ধ হতে ভাল লাগে। ছোটবেলায় বাবার সাথে বাজার বা হাটে গেলে বাজার করা ভুলে সাঁপের খেলা দেখতাম, কিংবা বানরের খেলা। যাদুমন্ত্রের মতো লাগতো এ দুই খেলা। একটা লাঠির উপর ভর দিয়ে বানর কি দুর্দান্ত খেলাই না দেখাতো। আমার চারপাশে যেসব কোডার আছেন তাঁদের দেখেও অবাক হই। অবাক হই গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করা মানুষদের নিয়ে। ঐশ্বরিক বানীর মতো কতকিছুই না বের হয় হাত হয়ে কিবোর্ড থেকে ডিসপ্লেতে। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি তাঁদের হাতের দিকে, তাদের কাজের দিকে। চোখ মুখে সৃষ্টির অপার নেশা।

কেউ যখন আমার সাথে গেম খেলে কিংবা প্রতারণা করে তখনো মুগ্ধ হই। তাঁদের ইন্টিলেজেন্সি আমি কিছুটা বোঝার চেষ্টা করি। কতই না দুর্দান্ত তারা। প্রতারিত হওয়ার আগে বুঝতেই পারি না। কী নিখুঁত দুশরা টাইপের ডেলিভারি। অবাক হই আমি। মুগ্ধ হয়ে তাদের এলগরিদম বুঝার চেষ্টা করি। কাউকে মুগ্ধ করতে পারি না আমি। কিন্তু চারপাশে সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করতে পারে। মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিতে পারে চোখে মুখে। নিজে নিজেই মিষ্টি হাসির লাভা ছড়িয়ে রাখি নিজ ঠোঁটের কোণে।

০৭/০৩/২০২০, ১০.৪২ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *