কেউ কখনো ছিল না কোথাও (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

টং দোকানে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তেই ঝমঝমিয়ে আকাশ থেকে বৃষ্টি নেমে এলো। একটু আগেও আকাশে গোমরা মুখের মেঘ গুলোকে ঝুলে থাকতে দেখেছিলাম। এতো তাড়াতাড়ি ওরা মান অভিমান ভেঙ্গে নেমে আসবে ভাবিনি। আজ রাস্তাঘাটও প্রায় ফাঁকা ফাঁকা। মানুষজন সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরে গেছে। টং দোকান গুলোও ফাঁকা পরে আছে। দ্রুত চায়ের কাপ হাতে ছাউনির নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। সিগারেট শেষ হলেই ভিজতে নামবো। আজ মনটা কেমন যেন শুষ্ক হয়ে আছে। এক পশলা বৃষ্টির জলে মনটা ভেজানো খুব প্রয়োজন। ছোট টং দোকানের ছাউনির নিচে দুই জন কাস্টমার দাঁড়িয়ে আছে। টিনের ছাউনির উপরে রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ।

হুট করে নূপুরের শব্দ তুলে কোথা থেকে একটা মেয়ে দৌড়ে এসে ছাউনির নিচে দাঁড়ালো। খুব চেনা নূপুরের শব্দটা। একটু সাইডে চলে গেলাম। মেয়েটা পাজামা থেকে কাদার ছিটা ঝাড়ছে। ওড়না দিয়ে কপাল-মুখ মুছে নিচ্ছে। আমার হাতের সিগারেটের দিকে এক পৃথিবী ঘৃণা নিয়ে তাকিয়ে নাকে ওড়না চাপা দিলো। মেয়েটার ঘৃণাটাও খুব চেনা চেনা লাগছে। সিগারেট ফেলে দিবো কিনা ভাবছি। বেচারির হয়তো অন্যসব মেয়েদের মতোই সিগারেটের গন্ধ সহ্য হয় না। মেয়েদের আর কি দোষ আমার নিজেরই তো সহ্য হয় না। অন্য কেউ সিগারেটের ধোঁয়া উগড়ে দিলে গন্ধে আমার মাথা ধরে। মেয়েটা আরো দুইবার আড় চোখে তাকালো। আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি একটা ভিন্ন কারণে।

এই মেয়েটাকে আমি চিনি। হঠাৎ করেই চিনতে পেরেছি। গতকালই স্বপ্নে আমাদের দেখা হয়েছিলো। এই যে এতোক্ষণ ধরে যা হচ্ছে সবই আমি স্বপ্নে দেখেছি। এরপরে কি হবে আমি তাও জানি। আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞাস করবো,
– আপনার নাম কি সামান্তা?
মেয়েটা অবাক হয়ে মুখ থেকে ওড়না নামাতে নামাতে বলবে,
– “হ্যাঁ!”
আমি এরপরে আর কিছু না বলেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাস্তায় নেমে পরবো। অনেকটা এগোনোর পরে একটা রিক্সা এসে থামবে আমার পাশে। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখবো মেয়েটা। ও আমায় ডাক দিয়ে বলবে,
– “এই যে উঠে আসো। চল রিক্সায় করে ভিজি।”
বলেই মেয়েটা আমায় জায়গা করে দিবে বসার জন্য। আমি মেয়েটার পাশে বসবো। মেয়েটা চোখ বন্ধ করে গান ধরবে,
“আজি ঝর ঝর মুখরো
বাদল দিনে…।”

[চলবে]

১৭/১০/২০২০, ১০.০৭ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *