কেউ সুখি নয়

  •  
  •  
  •  
  •  

কখনো কি ভাবা হয় তুমি ঠিক তোমার নিজের কতোটুকু? তুমি নিজের জন্য ঠিক কতোখানি বাচোঁ? তুমি যখন সন্তান তখন তুমি তোমার বাবা-মায়ের, পরিবারের। তাদের আদেশ- নিষেধ এর নিয়মের পালনকারী। ভালো রেজাল্ট, ভালো হয়ে থাকার প্রচেষ্টা সব বাবা-মায়ের মান সম্মানের খাতিরে। শিক্ষা তোমার নিজেরই কিন্তু তবুও তোমার ইচ্ছের না কারন হয়তো তুমি। আকাশ ছোয়ার দুর্নিবার ইচ্ছায় হতে চাও তুমি পাইলট। কিংবা সমুদ্র জয়ের নেশায় হতে চাও ডুবুরি। কিন্তু তারা চায় তুমি হও ডাক্তার বা হও বড় কোন অফিসার। তুমি চাও নিজ পায়ে দাঁড়াতে আর তারা চায় তুমি সংসারী হও। যখন তুমি এই ধাপ পেরিয়ে একটু স্বাধীনতার দিকে পা বাড়াও ঠিক তখনি সেখানে স্বাধীনতার চেয়েও দায়িত্বশীলতার ভার চলে আসে বেশি। তখন জীবন তোমার চেয়েও অন্যদের জন্য হয়ে যায় বেশি।

অফিসে মানিয়ে চলা, ঘরটাকে সামলানো- সবমিলিয়ে তোমার জন্য তোমার নিজের কোন সময় নেই। এভাবেই একটু একটু করে তুমি তোমার নিজ স্বত্তাকে আড়াল রেখে অন্য স্বত্তায় বাচোঁ, অন্যকে খুশি রাখার জন্য নিজ ধরনের বদল করে অন্য আদলে বাচোঁ। হয়তো তুমি বেশ চটপটে স্বভাবের, কিংবা তার উল্টো। তুমি ভালোবাসো গান করতে, ঘুরে বেড়াতে, মুহূর্ত বন্দী করতে তোমার ক্যামেরার বিচিত্র যন্ত্রে। কিন্তু তোমার ধরন আর ইচ্ছেগুলো পাল্টে যায়, নীরব হয়ে যায় জীবন স্রোতের এই বিচিত্রিতায়। সত্যি বলতে- আমরা কেউই আমাদের না। নিয়ম চক্রের এক অদ্ভুত ঘূর্ণাবর্তনে আমরা একই নিয়মে বেড়ে চলছি।

খুব কম মানুষই থাকে যারা নিজের জন্য বাচঁতে পারে, যারা নিজের ইচ্ছে- স্বপ্নের আদলে জীবনকে সাজাতে পারে, যারা অন্যের মন যুগিয়ে চলার অভিনয় করতে অনিচ্ছুক কিন্তু এদের ভালোবাসার মানুষের সংখ্যাও থাকে স্বল্প। এরা স্বার্থপর, সন্ন্যাসী, উদাসীন হিসেবেই পরিচিত। এই দুই ভাবে বেচেঁ থাকার সুখ দুই রকম।কেউ মানিয়ে নেয়াটাকেই সুখের নাম দেয় আর কেউ এক চুল পরিমানও ছাড় না দেয়াটাকেও সুখের নাম দেয়। এটাই তো জীবন, এটাই বেচেঁ থাকা। তবে আমি মনে করি মাঝেমধ্যে নিজের জন্যেও একটুখানি বেচেঁ থাকা উচিত কারন পরজন্ম বলতে কিছু নেই। এই একটাই জীবন তোমার যাকে তুমি অনুভব করতে পারো প্রতিটি মুহূর্তে, যাকে ভালোবাসতে পারো নানান রূপে, নানান রং এ।যাকে সাজাতে পারো তোমার সকল ইচ্ছা আর কল্পনায়।

০৬/০৩/২০২০, ০৩.৫০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *