গণতন্ত্রে স্বৈরশাসন

  •  
  •  
  •  
  •  

ছয় সদস্যের আমাদের পরিবার নামক রাষ্ট্রে একসময় আব্বা ছিলেন ‘স্বৈরশাসক’! তিনি যা বলতেন তাই হতো। মাসহ আমরা চার ভাইবোন নিরীহ নাগরিক। যদিও মাঝেমধ্যেই মা-ই কিছুটা প্রতিবাদ করতেন। যদিও আব্বা পাত্তাই দিতেন না সেসব প্রতিবাদের। যতক্ষণ আব্বা বাড়িতে থাকতেন, আমরা ফিসফিস করে কথা বলতাম। পড়ার বাইরে কিছু করা মানেই ছিল ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ অপরাধ! অনেকটা ১৪৪ ধারা চলতো সবসময়। পড়ার টেবিল থেকে উঠার জো ছিল না। পরিবারে যেকোন সিদ্ধান্ত আব্বা-ই নিতেন। কারো মতামতের তোয়াক্কা করতেন না। কেউ তাঁর কথায় দ্বিমত পোষণ করলে বাঘের মতো হুংকার দিতেন। পুরো বাড়ি কেঁপে উঠতো। বাঘের মতো আমার সেই আব্বা, এখন যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে সবার মতামত নেন।

এই সেদিনও বাড়িতে নতুন একটা ঘর দিবেন, আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী করলে ভাল হয়। আমি বললাম,
– আপনার যা ভাল মনে হয়।
উনি বললেন,
– না, বলো। তোমারও তো একটা মতামত আছে।
বললাম,
– আপনি যা ভাল মনে করবেন, সেটাই আমার মতামত।
আব্বা সবকিছুতেই এখন মতামত চান। কিছুই আর একক সিদ্ধান্তে করেন না। কেন করেন না তা জানি না। মায়ের কাছেও সিদ্ধান্ত চান। আব্বা অনেকটাই গণতান্ত্রিক শাসক হয়ে গেছেন এখন, কিন্তু সেটা কি বয়সের কারনে? আমার ভাল লাগে না এতে। এই আব্বাকে দেখে অভ্যস্ত নই আমি। আমি প্রতিমুহুর্তেই চাই, আব্বা সেই স্বৈরশাসকই থাকুক। আগের মতই তার কন্ঠে থাকুক বাঘের হুংকার। এই গণতন্ত্র আমি চাই না। আমি বারবার ফিরে পেতে চাই সেই স্বৈরশাসন।

১৩/০৫/২০২০, ১০.৫০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *