চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (দ্বিতীয় পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

উনার সমস্যার কথা জানতে চাইলে উনি যা বললেন তার সারমর্ম হচ্ছে, তাকে তার স্বামী সন্তান কেও ভালবাসেনা। তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সারাক্ষণ তাকে ছোট করে, ইগ্নর করে, তাকে নিয়ে আড়ালে কথা বলে, ফিসফিস করে। এমনকি তিনি মনে করেন তার স্বামীর এক্সট্রা ম্যারিটাল এফেয়ার আছে একাধিক। বাসায় যে বুয়া কাজ করে তার সাথেও তার স্বামীর সম্পর্ক আছে বলে তিনি মনে করেন। শেষ কথা হল, তার জীবন পুরাপুরি ব্যর্থ, উনি মরে যেতে চান। আমি তার সাথে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কথা বললাম তার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি বের করার উদ্দেশ্যে। দুঃখজনক ভাবে উনি সত্যতা প্রমাণের মত কোন যুক্তিই দিতে পারলেন না। কথা বারতায় বেরিয়ে এল, এগুলো নিছক তার অনুমান, তার ইমাজিনেশন।

তার সামনে অন্য কেও কথা বলেই মনে হয় তারা তাকে নিয়েই কথা বলছে, বুয়া তার বেডরুমে কাজ করতে ঢুকলেই তার মনে হয় তার স্বামী এবং বুয়ার মধ্যে অনৈতিক কিছু ঘটছে। আমি তাকে আমার স্বল্প জ্ঞান দিয়ে কাউন্সেলিং করার যথেষ্ট চেষ্টা করলাম তবে আমি জানি তার প্রফেশনাল কাউন্সেলিং দরকার। উনি একটা অন্ধকার রাস্তায় হাঁটছেন, যেটা এই মুহূর্তে বন্ধ না করা গেলে উনি চির অন্ধকারে হারিয়ে যাবেন।

আমার মনে হয়েছে, উনার কন্ডিশন সাধারণ কোন সন্দেহ প্রবণতা না, এগুলো স্কিটজোফ্রেনিয়া বা সিজোফ্রেনিয়ার পূর্ব লক্ষণ। যে রোগে মানুষের তার চিন্তার উপর কোন কন্ট্রোল থাকেনা, কথা এবং আচরনে অসঙ্গতি দেখা দেয়, মানুষ তার নিজের ইমাজিনেশনের জগতে বসবাস করতে শুরু করে, তার মনে হয় সবাই তার শত্রু, সবাই তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, এক্সত্রম কেইসে তাদের নানা রকম হ্যালুসিনেশন হয়, ভুত প্রেত দেখেন, মনে হয় কেও তার সাথে কথা বলে, একসময় মনের রোগ শরীরকেও গ্রাস করতে শুরু করে।

[চলবে]

২৬/০৬/২০২০, ১১.৫২ PM

চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (প্রথম পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *