জীবিত কিন্তু একপ্রকার মৃত্যুই

  •  
  •  
  •  
  •  

একটি অনাহুত মৃত্যু আমাকে দূরে নিয়ে যায়। ছোট ছোট অসংখ্যবার মরে গেছি টের পেয়ে যারা আমাকে ছেড়েছে। ভাবো তাদের কি করে বলি নক্ষত্রের দুপাশ দিয়ে রাস্তা চলে গেছে! একদিন ছিল সকল ঐশ্বর্য দুহাতে ধরে। আর আজ তবে পরিশ্রান্ত শিশুর মত ঘুমিয়ে রইলাম ভালোই। অথচ আমি অনন্ত হতেই অন্ধকার চেয়েছিলাম। সমস্ত আলোর আগে সন্তানের হাত ধরা হলো না এখনো। কিন্তু আত্যন্ত আশ্চার্জ্জনক ভাবে আমি বেঁচে আছি সেই আদমের পর থেকে। মৃত্যু আমাকে, আমার নিস্তরঙ্গ আঁধারকে উন্মচোন করেনি এখনো। আমার বেঁচে থাকা লাশের উপরে অবোধ শিশুর মত আত্মা খেলে যায় এক অদ্ভুত খেলা। প্রতি মুহূর্তে একটি নিশ্চয়তার দাবি নিয়ে। বেঁচে থাকা এবং তারপরেও বেঁচে থাকা। কত সুপ্রশন্ন আমি।

গুলতিমার্কা চাঁদখানি আধাশোয়া হয়ে জানালার পাশে আছড়ে পড়ছে বারবার। জানালার পর্দার ফাঁক বেঁয়ে বেঁয়ে মোমবাতি জ্বালানো টেবিলে উঁকিঝুঁকি মারছে। পেছনে শতবছরের ‘অতীত’ ইতিহাস। ক্লিউপিডের রঙ জ্বালানো ক্ষতে পুরোনো ঘাঁ। গজ-ব্যান্ডেজে মোড়ানো ‘বর্তমান’। প্রতিদিনের ড্রেসিংয়ে ক্ষতের উপর নতুন ক্ষতের প্রলেপ পড়ছে। মর্গের সামনের করিডোর কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। গত সময়ের সব আত্মাদের মিলনমেলা বসেছে তাঁর ভাঙা কার্ণিশে। সবার হাতেই লাল পেয়ালা। হয়তো সেটা চা-য়ের হতে পারে, নয়তো ঠান্ডা হিম শীতল জমাটবাঁধা রক্ত। ভ্যাপসা গরমে কিছুটা গলছে আর তাঁরা তা পান করছে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে। জীবিত কিন্তু একপ্রকার মৃত্যুই। ব্যান্ডেজ মোড়ানো হাত- কোন নরম-উষ্ণ হাতের স্পর্ষ পাবে এটা যেন বিলাসিতাই। আস্বাদন করারই তো কেউ নেই। যে ডুব মারবে শীতযোনিতে, যে পরখ করবে মৃত্যু কিংবা জীবনের স্পন্দন। আর তাকে জানাই লাল সালাম।

১৪/০৫/২০২০, ১১.৫৮ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *