ডার্ক চকোলেট (প্রথম পর্ব)

ডার্ক চকোলেট (প্রথম পর্ব)
  •  
  •  
  •  
  •  

ঠিক এই মুহুর্তে কলকাতার এক শপিং মলের বাইরে দাঁড়িয়ে অভিমানী প্রেমিকার হাতে চকোলেটের গিফট প্যাক তুলে দিচ্ছে দেরি করে আসা প্রেমিক। ঠিক এই মুহুর্তে দিল্লীর এক বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে সিঙ্গেল মল্টের সাথে ডার্ক চকোলেট আর তন্দুরি চিকেন সহযোগে পার্টি চলছে। ঠিক এই মুহুর্তে আপনার কন্যাটির মুখে হাসি ফুটেছে সারাদিন পরে। মুখে লেগে আছে কোকোর গন্ধ। ঠিক এই মুহুর্তে অ্যালি পালাচ্ছে। চকোলেট ছেড়ে। চকোলেটের গন্ধে বমি পায় তার। এই পর্যন্ত পড়ে যারা ভাবছেন আমি একটা থ্রিলার লিখছি, অপেক্ষা করছেন একটা চেজ অ্যান্ড রান সাস্পেন্স এর, তারা বরং টিভি খুলে ক্যাডবেরির অ্যাডে মন দিন। ‘সাত সমুন্দর পারকে ম্যায় তেরি পিছে পিছে…’।

বাকিরা আমার সাথে চলুন সাত সমুন্দর পেড়িয়ে এক অন্ধকার সফরে। যার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ডার্ক চকোলেট। অন্ধকার। এতটাই যেখানে নিশ্বাস নেওয়াও বারণ। না, অ্যালি পালাতে পারবে না। যেমন পারবে না ১.৮ মিলিয়ন আফ্রিকান শিশু যারা তাদের শৈশব র‍্যাপিং পেপারে মুড়ে ঢেলে দিচ্ছে আমার আপনার সন্তানের মুখে। আইভরি কোস্ট আর ঘানা। পশ্চিম আফ্রিকার এই দুটো দেশে পৃথিবীর মোট কোকোর ৭০% চাষ করা হয়। কালো মানুষ, কালো মাটি, কালো চকোলেট। কিন্তু অ্যালি কে? কোথা থেকে পালাচ্ছে সে? আসুন, ওর সাথে পরিচয় করা যাক। অ্যালির বাড়ি মালিতে। পৃথিবীর সবথেকে পিছিয়ে পরা দশটি দেশের মধ্যে একটি। এক মাথা কোঁকড়া কোঁকড়া চুল, মায়াবী চোখ। রাত্রে আগুনের পাশে বসে বুড়োবাবা মানে অ্যালির ঠাকুর্দা গল্প বলত। এক দৈত্যের গল্প। যে উত্তরের জঙ্গলে থাকে। বাচ্চা দেখলে তার রক্ত চুষে পুতুল বানিয়ে দেয়। ছোট্ট অ্যালি ভয় পেত। একদিন সেই দৈত্য ওকে ধরে নিয়ে গেল সামান্য ৮০ ডলারের বিনিময়ে।

তখন ওর বয়স পাঁচ। চমকে যাবেন না বন্ধুরা। শুধু একবার তাকিয়ে দেখুন আপনার শিশুটির দিকে। যাইহোক, প্রতিদিন হাজার হাজার বাচ্চা পাচার হয়ে যায় মালি, বুরকিনা ফাসো এইসব প্রতিবেশী দেশ থেকে ঘানা, আইভরির কোকো ফার্মগুলোতে। স্কুল, কাজ, ডলারের লোভ দেখিয়ে বা রাস্তা থেকে তুলে আনা হয় বাচ্চাদের। সকাল ছটা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত অমানুষিক পরিশ্রম করানো হয়। খাদ্য বলতে সস্তার ভুট্টা সেদ্ধ আর কলা। রাত্রে জানোয়ারের মত জানলা দরজা হীন কাঠের আস্তাবলে ফেলে রাখা হয়। কখনো শিকল দিয়ে বেঁধে। তার মধ্যে যারা পালানোর চেষ্টা করে তাদের ভাগ্যে থাকে বেধরক মার। মার খেয়ে বা ধর্ষণে মরে গেলে নদীতে বা কুকুরের মুখে ছুঁড়ে দেওয়া হয় শরীর। ভয় লাগছে? ঘেন্না লাগছে? আপনার শিশুটির মুখে লেগে থাকা চকোলেটের খয়েরী দাগের দিকে তাকাচ্ছেন? তাহলে আর পড়বেন না। কারণ ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল এখানে অকেজো।

২১/০৯/২০১৮, ০৯.৫৮ PM

ডার্ক চকোলেট (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *