তরুনের তারুন্য (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

এই মৃতের শহর,
বেঁচে আছে লাশের শরীরে,
অথচ সারি সারি কঙ্কাল
ছোটে আরোগ্য সদনে।
জানে কি কেউ?
কে কোথায় আছে বেঁচে,
এই অকাল বোধনে?

তখন কলেজে পড়ি। কালচারাল এক্টিভিটির সাথে পুরো মাত্রায় জড়িত বলে কলেজের প্রায় সবাই আমাকে চেনে। খুব ভালো এবং সত্যিকারের কিছু বন্ধু-বান্ধবি পেয়েছিলাম তখন। আমার বয়স কম ছিলো যে কারনে হা-হুতাশটাও একটু বেশীই ছিলো তখন। যেখানে বন্ধু-বান্ধবীরা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়াতো আর আমি সেখানে গালে হাত দিয়ে ভাবতাম, ওরা রিলেশন করে কি করে, মেয়ে পটায় কি করে, সিক্রেট ফর্মুলাটাই বা কি?

ভেবে ভেবে আমার মাথার চুল যেখানে ঝরে যাবার পথে সে সময় আমার খুব কাছের এক বান্ধবী মুখ বাঁকিয়ে কটাক্ষের হাসি হেসে বলেছিলো,
– “রিলেশনশীপে জড়াইতে গেলে সাহস লাগে চান্দু, এমনি এমনি হয় না। একটা বয়লার মুরগীরও তোর থেকে অনেক বেশী সাহস। তুই ভীতুর ডিম একটা।”
বলে চলে গেলো। সেই থেকে আজ অব্দি প্রেমিক পুরুষ হওয়া হয়নি আমার। নিজের সাথে নিজের অনেক যুদ্ধ হয়েছে, তর্ক হয়েছে এই একটা বিষয় নিয়ে। তবে কি সত্যিই আমি ভীতু? আমি কি কাউকে ভালোবাসতে পারবো না? কারো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারবো না “তোমাকেই চাই।” পরিশেষে জেনেছি, আমার কাছে সম্পর্কের মানে ভিন্ন। যার কোন বাজার মূল্য অন্যের কাছে নাও থাকতে পারে। আমি বিশ্বাস করি – “i love you” এবং “i love you too” – এটা বলার মানে এই নয় যে you are in a relationship.

সম্পর্ক তখনই সম্পর্ক, দু’জন তখনি দু’জনার, যখন একজন আর একজনকে কখনো আলাদা করে দেখবে না। সেখানে থাকবে না তোমার-আমার টাইপ কোন শব্দ। ভুলের শাসন থাকবে ঠিকই তবে থাকবে না ক্ষমার অযোগ্য শাস্তি, অকারন ঝগড়া, অকারন অবহেলা। যত সমস্যা হোক, যে বিপদই আসুক না কেনো i am with you বলার মত সাহস যে রাখতে পারবে, জয়ী সেই। সবার সামনে গলা ছেড়ে যে বলতে পারে “you are my life, i want to be with you forever” জয়ী সেই।

[চলবে]

১১/০৬/২০১৬, ৮.২৫ PM

তরুনের তারুন্য (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *