তালেবান হামলা থেকে বেঁচে ফেরা (দ্বিতীয় পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

কক্ষের আলো নিভিয়ে ভাসিলাইউস ভারী পর্দা ও আসবাবপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। দেড় ঘণ্টা পার হয়েছে। তিনি তখনো জানতেন না, নিচতলায় লবি, রেস্তোরাঁ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার প্রায় প্রত্যেককেই হত্যা করা হয়েছে। হামলাকারীরা সেখানে হত্যাযজ্ঞ শেষে ওপরের দিকে ওঠা শুরু করেছে। তাঁর মাথার ওপর ছাদে হামলাকারীদের দৌড়াদৌড়ির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। সেখানে তারা ইন্টারকন্টিনেন্টালের নিজস্ব বাহিনীর হেলিকপ্টারের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছিল। এর কিছু পরেই ষষ্ঠ তলায় তাঁর কক্ষের সঙ্গের করিডরে গুলির শব্দ শুনতে পান। হঠাৎ হোটেলের সব বৈদ্যুতিক আলো নিভে যায়।

ভাসিলাইউস টের পান, হামলাকারীরা পাশের ৫২১ নম্বর কক্ষে ঢুকছে। কক্ষটি তাদের রাতভর অভিযান পরিচালনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। ভাসিলাইউসের কক্ষের দরজায় গুলি করা হলে তিনি ভাবতে থাকেন, তিনি যেখানে লুকিয়েছেন, সেটা খুব একটা ভালো জায়গা হয়নি। তিনি জায়গা বদল করলেন। যে বিছানায় ম্যাট্রেস আছে, সেটির নিচে ঢুকে পড়লেন। দুই হাতের তালু ঠেকিয়ে তিনি বিছানাটা কিছুটা উঁচু করে ধরেছিলেন। আর বিছানার ওজনের ভারসাম্য রাখতে পায়ের বুড়ো আঙুলের ওপর ভর দেন। বিছানার নিচে ফাঁক দিয়ে খুব সামান্যই তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন। মাত্র ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তিনি উঁচু করে ধরেছিলেন বিছানাটি। সেই ফাঁক দিয়ে দেখলেন, গুলি করে ও হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে কক্ষে ঢুকছে চার হামলাকারী। বারান্দার দরজা খোলা দেখে একজন দ্রুত সেদিকে ছুটল। ভাসিলাইউস পিস্তলের গুলির একটি শব্দ শুনলেন।

ডান পাশে ৫২০ নম্বর কক্ষ। এরপর ৫২১ এবং পরেরটি ৫২২ নম্বর কক্ষে ছিলেন ভাসিলাইউস। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

ভাবছিলেন আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি মরতে যাচ্ছেন। চোখের সামনে ভেসে উঠল পরিবার আর সন্তানদের মুখ। জীবনের সুখের ও কষ্টের ঘটনাগুলো মনে পড়তে লাগল। তাঁর কক্ষের দরজাটি খোলাই রইল। হামলাকারীরা আসা-যাওয়া করতে লাগল কক্ষে। ষষ্ঠ তলায় তাঁর পাশের কক্ষগুলোতে তাঁর সহকর্মী কয়েকজন পাইলট ও স্টুয়ার্ড ছিলেন। মাঝেমধ্যে তাঁদের হত্যা করার আগে কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। মাঝেমধ্যে চারপাশ ছিল সুনসান। তাঁর মনে হলো, ওই ফ্লোরের প্রতিটি কক্ষে হামলাকারীরা ঢুকে যাদের পেয়েছে, তাদেরই হত্যা করেছে। প্রতিবার হত্যার পর হামলাকারীরা হাসছিল। যেন এটা একটি খেলা অথবা বড় ধরনের কোনো পার্টি বা আর কিছু।

[চলবে]

২৯/০৪/২০২০, ১১.৩১ PM

তালেবান হামলা থেকে বেঁচে ফেরা (প্রথম পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *