তিমির হননের গান

  • 1
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

নিঃশ্বাসে বুক ভার হয়ে আসে খুব। নিজের জন্য যখন আর কিছুই পাইনা। ছোটবেলায় অন্ধকার ভয় পেতাম। গভীর রাতে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে বিচিত্র কারণে ঘুম ভেঙে যেতো সাথে সাথেই। ভয় পাওয়া গলায় বাবাকে ডাকতাম। বাবা উঠে এসে আলো জ্বালিয়ে ঘরের মাঝে রাখতো। তারপর নিভু নিভু আলোর দিকে পাশ ফিরে শুয়ে জেগে থাকতাম। তারপর একসময় ঘুমিয়ে পড়তাম। এখন অভ্যেস বদেলেছে অনেক। কিংবা হয়তো আমিই অনেকখানি বদলেছি। সামান্য আলোতেও ঘুম আসেনা। বা সামান্য আলোতেই ঘুম ভেঙে যায়। একরাশ হতাশা জমে আছে নিজের মধ্যে। এখন বিষন্নতার চেয়ে শূন্যতার পরিমান অনেক বেশি।

এখন যখন অনেক কিছুই বুঝতে পারি তখন মনে হয় না বুঝাতে শেখাটাই ভালো ছিলো। মানুষ যখন একবার কিছু প্রয়োগ করতে শেখে তখন প্রয়োজনে আর সেটা প্রয়োগ না করে থাকতে পারেনা। না শিখলে ভিন্ন কথা। আমার অনুমান শক্তি খুব একটা খারাপ না। কাছের কেউ সন্তপর্ণে যে ব্যপারটা আড়াল করে চলতে চায় আমি প্রায়ই তা ধরতে পারি। একধরণের ইনট্যুশান বলা যায়। আমি দেখি মানুষের না বলে বেড়ানোর মতো কত অসহ্য যন্ত্রণা আছে। অনেক ধন সম্পত্তি ওয়ালা মানুষদের মাঝে কত অসীম অসহায়ত্বই না আছে। দেখলে মায়া হয়। না দেখলে ঈর্ষা হয়।

ফিরে আসাটা সবসময়ে খুব সুখকর হয়না। ফিরে আসা মানে কোথাও থেকে বিদায় নিয়ে আসা। বুকের ভেতর যে ঝি ঝি পোকার বাস, সে চুপ হয়ে থাকে। বাতাসেই দিন নিভে যাওয়ার মতো ঘটনা। আমারও চুপ হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। একদম চুপ। যে নিঃশব্দে পুকুরে মাছ একবার খাবি খেলেও সে শব্দ শোনা যাবে। আজ হতে শতবর্ষ দূরে কোনো আলোকমালার রঙিন রূপ দেখবে। সেদিন পূর্বের কোনো স্মৃতি তোমার মনে না থাকাই স্বাভাবিক। মনে থাকবেনা পৃথিবীর দক্ষিণ কোন থেকে এক হাওয়া তোমায় রোজ ছুঁয়ে যেতো। ভালো লাগার বার্তা শোনাতো। আমার অবস্থানের কথা জানাতো। আমি জানি সেদিন তোমার আমায় মনে না রাখাই স্বাভাবিক।

০২/০৩/২০২০, ০৬.১০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *