তুমিই সত্য “হে সমাজ”

  •  
  •  
  •  
  •  

সেইরাম ‘ধার্মিক’ ভাব নিলেও আমরা বাঙ্গালীরা আসলে ধর্মের চেয়ে সামাজিক নিয়ম অনেক বেশী মেনে চলি, আর এত কঠোর ভাবে সামাজিক প্রথা মেনে চলাটাই হচ্ছে অনগ্রসর সমাজের বেঞ্চমার্ক। বুঝিয়ে বলি, হালাল আয় করাটা আমাদের ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়, কিন্তু হালাল আয় করেনা দেখে বিয়ে ভেঙ্গে গেছে বা পাত্রীপক্ষ বিয়ে দিতে অস্বীকার করেছে সেটা ইহজীবনে কয়বার দেখেছেন বা শুনেছেন? বাংলাদেশের বিয়েতে পাত্রের হালাল আয় থাকাটা কি আদৌ কোন ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত?

বিয়ের কথা চিন্তা করুন, ইসলাম ধর্মে কোথায় আছে যে একটা নির্দিষ্ট বয়স না হলে, বড় ভাই বা ছোট বোন বিয়ে না করলে ভাইদের বিয়ে দেয়া যাবেনা? একজন পুরুষ যদি ১৮ বছর বয়সে সংসার করার মত আর্থিক এবং মানসিক সামর্থ্য রাখে, ইসলাম ধর্ম অনুসারে তার অবশ্যই অধিকার আছে সেই বয়সেই বিয়ে করে ফেলার, কিন্তু আসলেই যদি সে তা করতে চায়, গড়পরতা বাংলাদেশী বাবা-মা কি সেটা তাকে করতে দিবে? প্রশ্নই আসেনা! ছি ছি, লোকে কি বলবে! এই বয়সেই! তোর বড় ভাই এখনও বিয়ে করেনি, আর তুই! ইত্যাদি ইত্যাদি। অপর দিকে আছে পাত্রের কামাই রোজগার।

হারাম কামাই না থাকলেই বরং বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে পাত্রকে ‘অপদার্থ’ হিসেবে গন্য করা হয়, সমাজ বলে পাত্র কিভাবে কত আয় করে সেটা কোন ফ্যাক্টর না, পাত্রের গাড়ী-বাড়ী আছে কিনা সেটাই ফ্যাক্টর। আরো আছে, ৫-৭ বছরের ছোট বোন থাকলে তাকে বিয়ে না দিয়ে বড় ভাইয়ের বিয়ে করে ফেলাটা বাংলাদেশী সমাজে রীতিমত ‘হারাম’ বলে বিবেচনা করা হয়, সেই ছোট বোনের জন্য বর খুজতে খুজতে বাছতে বাছতে বড় ভাইরা আবার প্রায় সময় জোকের তেলের ডিলারশিপ নিয়ে ফেলে, অবশ্য তাতে বাবা-মার কিছু আসে যায়না, সমাজ তো আর কিছু বলছে না! সমাজ হে, তুমিই সত্য!

০৯/০৭/২০২০, ১১.৫২ AM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *