তোর জন্য, প্রিয়তা (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

আয়োজন করে তোমাকে চিঠি লিখতে বসেছি। আধ পোড়া মোম বাতি জোগাড় হয়েছে। অন্ধকার ঘরের চার দেয়ালে আলো ছায়ার খেলা খেলতে খেলতে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে সে। পাশে রাখা কোনা ভাঙ্গা কাপ আর ফ্লাক্সে আছে অতিরিক্ত চিনিওয়ালা চা। গুনে গুনে ৩ কাপ চা খেয়ে তোমায় লিখতে বসেছি। জানো তো তিন হচ্ছে প্রাইম সংখ্যা। তিন মানে আমি-তুমি-সে। তিন মানে স্বর্গ-মর্ত-নরক। সাথে সিগারেট নেই। আনতে ইচ্ছা করছে না। বয়সের সাথে আলস্যের সম্পর্ক সমানুপাতিক। ঊনত্রিশ হাজার সিগারেট কে চুম্মন করে এই ঠোঁট আজ ক্লান্ত। এমনিতেও তুমি সিগারেট পছন্দ করতে না। একদিন ক্লাস শেষে সিগারেট ধরাতেই হঠাৎ মুখের মধ্যে পানি ছুঁড়ে মেরেছিলে! মেরে এমন ভাব করলে এটাই স্বাভাবিক। আমাকে পানি মেরেই তোমার দিন কাটে! ভেজা শার্ট নিয়ে সারাদিন পিছে পিছে ঘুরলাম একটা সরি’র আশায়। সরি পাওয়ার সাথে সাথে উদাসিন ভাবে আরেকটা সিগারেট ধরাতেই তুমি ফিক করে হেসে দিলে।

কখনও তোমাকে বলা হয় নি, ওই হাসি দেখার জন্যই ভার্সিটি আসা হত আমার। নাহলে কে আসে দেড় ঘণ্টার বিরক্তিকর ক্লাস করতে! শেষ বেঞ্চে বসে কবিতা লেখা ছাড়া কখনও কিছু করেছি বলে তো মনে পড়ে না! তোমাকে নিয়ে লেখা আমার প্রথম কবিতা ছিল “চোখ”। তখন ও আমাকে ঠিক চেনা হয়ে ওঠেনি তোমার। শুধু জানতে ভায়োলেট কালারের চশমা পড়া এই ছেলেটা হঠাৎ হঠাৎ ক্লাসে আসে আর স্যারেরা কিছু জিজ্ঞেস করলেই রাজ্যের লজ্জা নিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে। কবিতাটা লিখে যখন তোমাকে দিলাম সে কি বিস্ময় তোমার চোখে! আমি অপলক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম। এই বিস্মিত চোখ আর ঝর্নার মতো হাসি বুকে নিয়েই তো এক একটা দিন কাটত আমার। সম্ভবত তুমি জানতে।

জানতে বলেই সকাল সকাল আমাকে ফোন দিয়ে বলতে,
– “এই হারামি উঠ! ক্লাসে আসবি না?”
সারারাতের খেয়ালিপনা শেষে হয়ত ঘুমিয়েছি ভোর ৬ টায়। ফোন ধরেই বালিশের পাশে রেখে দিতাম। তুমি চিল্লাচিল্লি করতে। আমার কাছে ঘুম পাড়ানির গান মনে হত। তারপর যখন এলোমেলো চুল নিয়ে খালি ব্যাগ কাঁধে কোনমতে এসে ১২টা ৩০ এর ক্লাস ধরতাম তুমি ছোট ছোট চোখ করে বলতে,
– তুই এমন ক্যান!
কখনও জিজ্ঞেস করা হয় নি, “আমি ক্যামন প্রিয়তা?” এমন কত শত কথা আজো জিজ্ঞেস করা হয় নি তোমাকে! এই যে এত কথা বলা হল অথচ চিঠির প্রথম লাইনটাই ঠিক করে লেখা হল না। আমি এমন ই প্রিয়তা, আমি এমন ই।

[চলবে]

২৩/০৩/২০২০, ১০.১০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *