থিওরি অফ আনসার্টেনিটি অফ লাভ

  •  
  •  
  •  
  •  

সুবর্না মুস্তফাকে অপি করিম জিজ্ঞেস করেছিলেন,
– ধরেন সৌদ আপনাকে ছেড়ে চলে গেলো, তাহলে কি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবেন?
সুবর্না মৃদু হেসে বললেন,
– মোটেই না। আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি বাবা-মা মারা যাওয়ার সময়, এরপর যতই কষ্ট পাই সেটা ওটার সমান হবে না কখনো। কাজেই সৌদ যদি আমার সাথে না থাকতে চায়, থাকবে না। তাতে আমি কখনোই সবচেয়ে বেশি কষ্ট আর পাবোনা।
এটা দেখে মনে হয়েছিল ভালোবাসা কখনো গিরগিটির মতো রঙ বদলায় না, সম্পর্ক রঙ বদলায়। যেমন ধরেন নেপোলিয়নের জীবনের শেষ শব্দের নাম ছিলো- জোসেফাইন। আইন্সটাইন থিওরি অফ রিলেটিভিটির গবেষণা শুরু করেছিলেন স্ত্রী মিলেভা মেরিকের সাথে, মার্থা গেলহর্নের উৎসাহে হেমিংওয়ে লিখেছিলেন ভুবনবিখ্যাত উপন্যাস ‘ফর হুম দ্যা বেল টোলস’।

অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এই জুটিরা কেউ একসাথে থাকতে পারেনি। থিওরি অফ রিলেটিভিটি নিয়ে গবেষণার এক পর্যায়ে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় আইন্সটাইন আর মিলেভার, গেলহর্নের সাথে তুচ্ছ ঝগড়ার জন্য ডিভোর্স হয়ে যায় হেমিংওয়ের, জোসেফাইনের সাথে সংসার চলাকালীন নেপোলিয়ন জড়িয়ে যান আরেকজনের সাথে। এগুলো না হলে হয়তো বাস্তবতা সুন্দর হতো খুব। আইন্সটাইন আর মিলেভা যৌথ নোবেল পেতেন, গেলহর্ন হেমিংওয়ে চষে বেড়াতেন ভূমধ্যসাগর, জোসেফাইন পাশে দাঁড়িয়ে জিতিয়ে দিতেন ওয়াটারলুর যুদ্ধ। জীবন এরকমই, কল্পনার মতো সুন্দর নয় কিন্তু বাস্তবতার মতো বৈচিত্র‍্যময়- থিওরি অফ আনসার্টেনিটি।

হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতির মতো। এক মূহুর্ত পরে কি ঘটবে তা জানিনা, কিন্তু বেঁচে থাকা ওই না জানা, না শোনা, না দেখা মূহুর্তের জন্য। আমরা ধরে রাখতে চাই সুন্দর মূহুর্তের স্মৃতি, কিন্তু সেই স্মৃতিময় মূহুর্তগুলো হারিয়ে গিয়ে তৈরি করে নতুন স্মৃতি। এক মূহুর্ত আগের ভালোবাসা এক মূহুর্ত পরের স্মৃতি হয়ে বুক হাতড়ায়, মনের গভীরের পুকুরে সাঁতরায়। কে বলেছে সময় স্রোতের মতো? আমি বলি আমাদের বেঁচে থাকাটাই স্রোতের মতো। জীবনের আনন্দ আর বৈচিত্র‍্য ওখানেই। বেঁচে থাকার জন্য আমরা বাঁচিনা। আমরা বাঁচি বেঁচে থাকাকে বাঁচিয়ে রাখতে। আমরা ভুলে যাই জগৎ রহস্যময় বলেই সুন্দর, সুন্দর বলেই রহস্যময় নয়। আমরা বাঁচি সেইসব মানুষদের জন্য যারা চলে গেলে আর ‘সবচেয়ে বেশি কষ্ট’ পাওয়া সম্ভব নয়। একারণেই সূর্যকে ধন্যবাদ দেয়া হয়না পৃথিবীতে আলো দিয়ে গাছপালাকে সজীব রাখার জন্য। একারণেই মা’কে কখনো বলা হয়না- ভালোবাসি।

২৭/০২/২০২০, ০২.১৭ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *