দীর্ঘস্থায়ী দীর্ঘশ্বাস

  •  
  •  
  •  
  •  

মেয়েটি ঊর্ধ্বাঙ্গের পরিধেয় বস্ত্র খুলে ফেললো। তারপর খুলে ফেললো নিম্নাঙ্গের বস্ত্র। একঝটকায় খুলে ফেলে দিলো অন্তর্বাসও। নিজেকে একঝলক দেখে নিয়ে বের হলো রাস্তায়। টানটান উদ্ধত বক্ষ, কাঁধে ব্যাগ, নিতম্বের দোল, চারপাশে পিনপতন নীরবতা অহেতুক সোরগোল। দুটো চোখহীন ফড়িং উড়ছে পিছুপিছু! কিছু ঝরাপাতা ছুটে গেলো মাতৃবৃক্ষ ভুলে। মেয়েটির ভ্রূক্ষেপ নেই, সে আপনমনে চলে, স্বীয়তালে হাঁটে! পথ থেকে পথে, মাঠ থেকে মাঠে! ততক্ষণে চাউর হয়ে গেছে দিকেদিকে, যৌবন হারানো বৃদ্ধ, উঠতিবয়সী যুবক, দাম্পত্যে অসুখী গোবেচারা গৃহকর্তা, কর্মজীবী, ধর্মজীবী সকলশ্রেণির পুরুষ দলেদলে ছুটলো, আদুলগায়ের মেয়েটিকে দেখবে বলে!

সকলে যখন পৌঁছলো গিয়ে রাস্তার মোড়ে। দেখা গেলো মেয়েটির হাতে থেঁতলে যাওয়া কর্তিত এক রক্তাক্ত পুরুষাঙ্গ! দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে সে যেনো বাঁশি বাজাচ্ছে! মুহূর্তে সকল পুরুষের দল চোখনামিয়ে নিলো, নিজের নিস্তেজ অঙ্গ স্বস্থানে আছে ভেবে প্রত্যেকেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললো! ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন চেঁচিয়ে উঠলো,
— মা! মুহূর্তে অজস্র কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকলো, মা! মা! মা!
পরদিন একজন সাংবাদিক খবরের কাগজে লিখলো — পুরুষাঙ্গ কর্তিত ধর্ষকের কথা। মেয়েটির পরিধানে কী ছিলো এই নিয়ে নেই কারও সামান্য মাথাব্যথা!!

১৯/১০/২০২০, ১১.১৮ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *