নদীর নাম ধলেশ্বরী

  •  
  •  
  •  
  •  

এই নদীটির নাম ধলেশ্বরী। এই অংশটি সাভারের ভেতরে পড়েছে। যেখানে দাঁড়িয়ে ছবিটি তুললাম গতকাল, তার দৃষ্টিসীমানায় চোখে পড়ে ট্যানারি শিল্পের দালান কোঠা। স্থানীয় এক কৃষকের ভাষায়,
– ‘হাজারীবাগের ভ্যাজালডা এইখানে বসায় দিয়া গ্যাছে।’
‘ভ্যাজাল’টা যে কি, তা বোঝা যাবে নদীর পানির দিকে তাকালে। এই বর্ষা মৌসুমে, যখন নদীতে প্রবাহ রয়েছে, রয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণ পানি। সে সময়েও কয়েক মাইল জুড়ে গভীর কালো পানির দেখা মেলে। আমাদের ট্যানারি শিল্পপতিদের অবদান। ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি এই নদীতে ফেলা হয়। এর গভীর প্রভাব পড়েছে আশেপাশের জনজীবনে, প্রকৃতিতে।

এই অঞ্চলের নদীতে মাছের দারুণ বৈচিত্র্য ছিল। যে ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে এই ছবিটি তুললাম, এর এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত প্রতি বিকেলে মাছের ডালি সাজিয়ে বসতেন জেলে ও ব্যাপারীরা। মাত্র এক দশকেই তা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে এই নদী থেকে সেচের উপর নির্ভরশীল কৃষি। স্থানীয়রা জানালেন, নদীতে রাসায়নিক দূষণের মাত্রা এতো বেশি যে, বাষ্পীভবনের মাধ্যমে যে পানি আকাশে উঠে, তা তাদের টিনের ঘরবাড়িগুলোকেও অতিদ্রুত জীর্ণ করে দিচ্ছে। তাঁরা এই ক্ষতির মাত্রা নিজেদের জীবনে উপলদ্ধি করে, বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করেছেন। মিছিল করে ট্যানারি ঘেরাও করেছেন। প্রত্যেকবারই শিল্পপতিরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, অচিরেই পানি বিশুদ্ধ করে, তারপরই নদীতে ফেরানো হবে।

কিন্তু সেই চির অচির আর আসে না। বাংলাদেশের পরিবেশ আইন অনুযায়ী এই ধরনের কার্যক্রম অবৈধ ও অপরাধ। কিন্তু বছরের পর বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে এসব ঘটে চলেছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। এর মধ্যে শিক্ষায় পরিবেশ রক্ষার ডাক দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত কিছু পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ছাপিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সেসব সেঁটে দিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। গল্প শেষ। এতেই পরিবেশ রক্ষার সরকারি উদ্যোগের নটে গাছটি মুড়িয়ে গেছে।

০৫/০৮/২০২০, ০৩.২৫ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *