নীতু

  •  
  •  
  •  
  •  

– ‘জানালাটা বন্ধ করে দেবে? ঠাণ্ডা বাতাস আসছে।’
– ‘হ্যাঁ, দিচ্ছি।’
নীতু উঠে গেল। নীতুর শ্যামলা ছিপছিপে শরীরে অনভ্যস্ত এলোমেলো জড়ানো শাড়ি, পিঠে লুটিয়ে থাকা বেণী, বাহু তুলে জানালা বন্ধ করার ছোট ভংগিমাটুকুও অপরূপ লাগে আমার। নতুন নতুন বলেই কি! দু’দিন সবে হল বিয়ে হয়েছে আমাদের। সেটাও খুব চট করে, মাত্র একবারের দেখাতে। সত্যি বলতে, আমি প্রথমেই ওর অসম্ভব মিষ্টি মুখের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। বাবা-মা ওকে আংটি পরিয়ে দিতে চাওয়ায় তাই আর আপত্তি করি নি। সেদিন ড্রয়িং রুমে মুরুব্বিদের মাঝে বসে মাথা নিচু করে মুখ টিপে টিপে হাসতে থাকা মেয়েটি এখন আমার বউ। আমার। কেমন অবাক লাগে ভাবতে।

শীতের সন্ধ্যা, গরম চায়ের কাপ হাতে আধশোয়া হয়ে আমি। নীতু জানালা লাগিয়ে এসে আমার সামনে বসল। মায়াবী মুখের এই তরুণীর দিকে তাকিয়ে আমার মনে হল, জীবনটা তো খুব খারাপ নয়। নীতু উঠতে যেতেই হাত ধরে ফেললাম ওর।
– ‘কোথায় যাচ্ছ?’
হাসল নীতু। আমি আবার মুগ্ধ হলাম। এত মিষ্টি,
– ‘জানালাটা অল্প একটু ফাঁক করে দিয়ে আসি। পুরোপুরি লাগালে নীলুর একটু অসুবিধা হয়। দমবন্ধ লাগে।’
– ‘কার অসুবিধা হয়?’
– ‘নীলুর কথা বলছি।’
– ‘নীলু কে?’
নীতু খিলখিল হাসিতে ভেঙে পড়ল,
– ‘কে মানে? আমার যমজ বোন নীলু, আবার কে?’
পাশে তাকিয়ে হাসতে হাসতে নীতু বলল,
– ‘দেখেছিস কাণ্ড?’
নীতুর পাশে কেউ নেই। থাকার কথাও নয়। বাসায় আমরা একা। আর নীতুর কোনও বোন নেই। আমি হাত থেকে চায়ের কাপ নামিয়ে উঠে বসলাম।
– ‘কৌতুকটা বেশি মজার হচ্ছে না কিন্তু।’

নীতুকে বিভ্রান্ত দেখাল এবার,
– ‘কী বললে বুঝলাম না।’
আবার শূন্যে তাকিয়ে কথা বলল ও,
– ‘নীলু, কী বলছে ও?’
কয়েক মুহূর্ত চুপ করে কিছু যেন শুনল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে অনিশ্চিতভাবে হেসে বলল,
– ‘শুনলে তো? নীলুও কিছু বুঝতে পারছে না।’
আমার গলা শুকিয়ে আসছে,
– ‘নীলু কেন এসেছে, নীতু?’
সাবধানে জিজ্ঞাসা করলাম।
– ‘কেন আবার? আমরা তো ছোটবেলাতেই ঠিক করেছিলাম সবসময় একসাথে থাকব, কক্ষণো আলাদা হব না। এমন কি বিয়েও করব একই মানুষকে। বিয়ে তো তুমি আমাদের দুজনকেই একসাথে করেছ। দেখো নি বিয়ের দিন?’
নীতু সত্যিকার অবাক মুখে তাকাল। শীতের বাতাস এখন আর ঘরে ঢুকছে না, তবু নীতুর নিখাদ বিস্ময়ে ভর্তি ঘন পাঁপড়িঘেরা টলটলে চোখ জোড়ার একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকা দেখতে দেখতে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল হঠাৎ।

১৬/০৯/২০২০, ১০.৩৮ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *