পর্নগ্রাফি ও কোকেন সমাচার (শেষ পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

পর্ন
আর আপনার ব্রেইনে বয়ে যাওয়া ডোপামিনের বন্যা শুধু ক্ষনিকের সন্তুষ্টিই দেয় না, ব্রেইনে স্পন্দনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুরস্কার পাওয়ার নতুন পথ অর্থাৎ রিওয়ার্ড প্যাথওয়ে তৈরী করে, যা একজন ইউজারকে আগের সেই কাজে ফিরিয়ে নিয়ে যায় যে কাজের মাধ্যমে কেমিক্যালটা নির্গত হয়েছিল। একজন ড্রাগ বা পর্ন ইউজার যত বেশী ড্রাগ নেয় বা পর্ন দেখে, তাদের ব্রেইনে এই প্যাথওয়েগুলো তত বেশি তৈরি হয়। ড্রাগ/পর্ন ব্যবহার সহজ থেকে সহজতর করতে থাকে। যার ফলে একজন মানুষ বার বার ড্রাগ নিতে চায় কিংবা পর্ন দেখতে ফিরে আসে, যদিও তারা তা অন্তর থেকে চায় না।

একজন আসক্ত ব্যক্তির ব্রেইনে এই কেমিক্যালগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় নির্গত হতে থাকে। ফলে ব্রেইনে অন্যান্য পরিবর্তনও ঘটে থাকে। একজন নেশাখোর আগের চেয়ে বেশি মজা পাওয়ার আশায় কিংবা ক্ষনিকের ভালো অনুভূতি পেতে অনেক বেশি ড্রাগ নিতে থাকে। পর্ন ব্যবহারকারীদের ব্রেইন অতিমাত্রায় ডোপামিনে ডুবে থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাই তারা আসক্তও হয় তাড়াতাড়ি। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, একজন পর্ন ব্যবহারকারী তার ব্রেইনের পরিবর্তনগুলো সহজে টের পায় না। কারণ, অতিরিক্ত ডোপামিনের বোঝা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ব্রেইন কিছু ডোপামিন রিসেপ্টর (dopamine receptor) কমিয়ে ফেলে। কম রিসেপ্টর থাকায় ডোপামিনের পরিমাণ কমে গেছে বলে মনে হয়। তাই একই মাত্রার পর্ন ইউজারকে আগের মতো উত্তেজনা দেয়না। যার ফলে, অনেক পর্ন ইউজাররা আরো বেশি বেশি পর্ন খুঁজতে থাকে, অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দেয় কিংবা আরো এক্সট্রিম পর্নের দিকে ঝুঁকে যায়। উদ্দেশ্য একটাই। অতিরিক্ত ডোপামিন উৎপাদনের মাধ্যমে পূর্বের উত্তেজনা ফিরে পাওয়া।

যখন একজন পর্ন ইউজার তার ব্রেইনে স্পন্দনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া কেমিক্যালগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যায়, যখন বুঝতে পারে যে সে আসক্ত, তখন তার মধ্যে এই অভ্যাস প্রত্যাহার করতে চাওয়ার প্রবণতা তৈরী হয়, যেমনটা একজন ড্রাগ ইউজারের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। অনেকে মনে করে পর্ন সর্বকালেই ছিল। তবে এখনকার পর্নের ভার্সন পুরোই আলাদা। ধন্যবাদ, ইন্টারনেট। ধন্যবাদ, সকল ওয়েব ব্রাউজারকে। তোমাদেরই গর্ভে পর্ন বিস্তার লাভ করছে। ডোপামিনের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজকে। পর্নের বিকৃত সব ক্যাটেগরি আর একের পর এক কৃত্রিম সৌন্দর্যের অধিকারী পর্ন অভিনেত্রীদের কাছে হার মেনে যাচ্ছে মানবতা। ভালোবাসা তো এখন জাদুঘরে।নারীর সম্মানের কথা আর না-ই বললাম। ইউ.এস. সিনেট কমিটিকে, ড. জেফারি স্যাটিনোভার পর্নের ইফেক্ট নিয়ে বলেছিলেন,
– আমরা যেন নতুন এক হিরোইনের উদ্ভব ঘটিয়েছি, যা নিজের ঘরে সম্পূর্ণ প্রাইভেসির মধ্যে ব্যবহারযোগ্য এবং চোখের মাধ্যমে সরাসরি চলে যায় ব্রেইনে।

০৫/০২/২০১৯, ১০.৪৫ PM

পর্নগ্রাফি ও কোকেন সমাচার (প্রথম পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *