পর্নগ্রাফি ও কোকেন সমাচার (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

কোকেইন ও পর্নের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে কোনো মিল নেই। তবে গবেষণায় দেখা যায়, পর্ন দেখার ফলে আমাদের ব্রেইনে এক ধরনের আনন্দদানকারী কেমিক্যাল উৎপন্ন হয়। একই কেমিক্যাল ড্রাগ ব্যবহারকারীদের ব্রেইনেও উৎপন্ন হয়। পর্ন বা ড্রাগে আসক্ত ব্রেইন নতুন করে নিউরাল সার্কিট (Neural Circuit) তৈরি করা শুরু করে। শুনতে আজব লাগলেও, এটাই সত্যি। অসুন, ব্যাপারটা নিয়ে আরেকটু গভীরে যাওয়া যাক। আগেই বলেছি, কোকেইন ও পর্নের মধ্যে সাধারণত তেমন কোনো মিল পাওয়া যায় না। একটি পাওয়া যায় জীর্ণ চিপা-চুপায়; অন্যটি ডাউনলোড করা যায় ফ্রিতে। একটির অভ্যাস খুব দ্রুত প্রবল হতে থাকে, যেখানে অন্যটি নির্ভর করে হাই স্পিড ইন্টারনেট কানেকশনের মূল্যের উপর।

তাহলে মিলটা কোথায়?
মিলটা হচ্ছে ব্রেইনের ভেতর। আপনি যদি একজন নিউরোসার্জন নাও হয়ে থাকেন তারপরও এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, আমাদের ব্রেইন কীভাবে কাজ করে। নিউরাল সায়েন্স (Neural Science) সম্পর্কিত এ বিষয়গুলো আপনি যত ভালোভাবে বুঝবেন পর্নের প্রতি আপনার তত অনীহা সৃষ্টি হবে। আমাদের ব্রেইনের গভীরে রিওয়ার্ড প্যাথওয়ে (reward pathway) বা পুরষ্কার তৈরীর পথ বলে একটি ব্যাপার থাকে। এই রিওয়ার্ড প্যাথওয়ের কাজটা তার নামের মতোই, এটা আপনাকে ঠিক সেভাবে পুরস্কৃত করে যেভাবে সে আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জটিল লাগছে ব্যাপারটা? আচ্ছা, আপনার সুবিধার জন্য আরেকটু সহজ করে বলছি, ব্রেইনের এই সার্কিটটি আপনাকে পুরস্কৃত করে অর্থাৎ আনন্দ দেয় যখন আপনি জীবনকে অগ্রসর করার মতো কিছু করেন। মজার কোনো খাবার খাওয়া কিংবা পছন্দের কোনো কাজ করার সময় আমাদের ব্রেইনে এমনটা ঘটে থাকে। তখন আমাদের ব্রেইনে কিছু কেমিক্যাল নির্গত হয়। এদের মধ্যে সাধারণত যে কেমিক্যালটি নির্গত হয় তার নাম হচ্ছে ডোপামিন, কিন্তু অক্সিটোসিনের মতো অন্য কেমিক্যালও নির্গত হয়।

সাধারণত, এই কেমিক্যালগুলো পাইকারি হারে উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ, পরিতৃপ্তি পাওয়া যায় এমন যেকোনো কিছুতেই তারা উৎপন্ন হয়ে বসে থাকবে। আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলা ঠিক এভাবেই এগুলো সৃষ্টি করেছেন। এদের কাজ আমাদের পরিতৃপ্তি অনুভব করানো, অন্য মানুষদের সাথে সম্পর্ক তৈরীতে সাহায্য করা এবং আনন্দদায়ক কোনো কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়া। তবে সমস্যা হচ্ছে, এই রিওয়ার্ড প্যাথওয়ে হাইজ্যাকড্ (hijacked) হতে পারে। কোকেইন ও আফিম জাতীয় ড্রাগগুলো অনেক বেশী পরিমানে ডোপামিন নির্গত করতে চায়। ফলে তারা ব্রেইনের রিওয়ার্ড প্যাথওয়েতে আঘাত হানে। নেশাখোরদের মাতাল করে নাকানিচুবানি খাওয়ায়। এমন পিনিক পেতে তাদের খুব বেশি কষ্ট করা লাগে না। কয়েকটা টানই যথেষ্ট। অন্য কোন জিনিসটি এমন করে থাকে চিন্তা করুন তো?

[চলবে]

২৩/১০/২০১৮, ১১.৫৩ PM

পর্নগ্রাফি ও কোকেন সমাচার (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *