পিজ্জা বিলাস

  •  
  •  
  •  
  •  

খাওয়া দাওয়ার ব্যপারে সৌখিনতা থাকলেও আমি সধারনত খাবার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে কোন রিভিউ পোষ্ট করিনা। কিন্তু একটা সময় ভেবে দেখলাম, খাবার ভালো হলে ভালো, আর খারাপ হলে গঠন মূলক সমালোচনা করাই যায়। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোষ্ট করে অন্যান্য ভোজনরসিকদের সাথে নিজের চিন্তা ভাবনার বিনিময়ও করা যায়। এতে হয়তো আমিও খাবার বিষয়ে আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় শানিয়ে নেয়ার সুযোগ পাওয়ার পাশা পাশি ভালো খাবার কোথায় পাওয়া যায়, কেমন দাম আর কিভাবে যেতে হবে তার একটা পূর্নাংগ ধারনাও আমি আমার ব্লগার রিডারদের দিতে পারবো। যাতে করে পরবর্তিতে তারা তাদের স্বাধীন চিন্তার ইচ্ছা ও বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের চিন্তা, স্বাদ ও চিন্তার সাথে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কোন সম্পর্ক নেই। তাই এখন থেকে সময় পেলে ফুড রিভিউ লিখবো বলেও মনস্থির করেছি।

সাম্প্রতিক নেগেটিভ রিভিউর ভিড়ে রিস্ক একটা নিয়েই ফেললাম। বলছি সাভার, থানা রোডে অবস্থিত ফিউশন রেষ্টুরেন্ট নবাব এর কথা। তাদের পিজ্জা সেকশনটা এই রোজায় নতুন চালু হয়েছে। সেই থেকেই তাদের পিজ্জা ট্রাই করার ইচ্ছা ছিলো। তাই আজ নবাবের পিজ্জা আইটেম থেকে ১২ ইঞ্চির “বিফ লাভার” সিলেক্ট করলাম। অর্ডার করে যথারীতি ভেতরে ভেতরে প্রমাদ গুনা শুরু করলাম তার কারন একটাই, সাভার ফুড ব্যাংকের কিছু নেগেটিভ রিভিউ।

সে যাই হোক, নবাব কতৃপক্ষ আমার অপেক্ষাকে দীর্ঘায়িত না করে যথারীতি পিজ্জার প্যাকেট আমার হাতে তুলে দিতেই বিল পরিশোধ করে বাড়ি এলাম। নিজে এক পিস মুখে নিতেই দু’চোখ বুজে এলো। প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তির পাল্লা ভারি হলে এমনটাই হয়। পিজ্জায় যথেষ্ট পরিমান বিফ সহ অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতি চোখে পরার মতো। দেশ বিদেশে ভ্রমনের সুবাদে ভিন্ন ভিন্ন দেশের, ভিন্ন ভিন্ন ধরনের পিজ্জা খাবার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। সেই দিক থেকে এটুকু বলতে পারি, “অসাধারন টেষ্ট। নবাবসের পিজ্জার নেগেটিভ রিভিউর সাথে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পূর্ন বিপরীত। তাদের অন্যান্য পিজ্জা কেমন জানিনা কিন্তু আমি যে “বিফ লাভার” ট্রাই করেছি, সেটা এক কথায় অসাধারন ছিল।”

ব্যবহার: ১০/১০
পরিবেশ: ১০/১০
পিজ্জার মান: ১০/১০ (আমার নিজস্ব মত)
পিজ্জার নাম: বিফ লাভার
সাইজ: ১২ ইঞ্চি
মূল্য: ৪৫০ টাকা
স্থান – নবাব রেস্টুরেন্ট, থানা রোড। এনাম মেডিকেল এর থেকে একটু সামনে।
যাতায়াত – সাভার থানা ষ্ট্যান্ড নেমে রিক্সা নেবেন। এনাম মেডিকেল কলেজের একটু পরেই হাতের বায়ে নবাব রেষ্টুরেন্ট পাবেন। বড় লাল রঙের সাইনবোর্ড রয়েছে। থানা রোড থেকে নবাব যেতে রিক্সা ভাড়া ১০ টাকা।

লেখার এই পর্যায়ে বলে রাখা ভালো, খাবার দাবার বিষয়ক যে কোন রিভিউ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব মতামত। এর সাথে কারো অভিজ্ঞতা না মিললে স্বাধীন চিন্তার প্রকাশক হিসেবে আমি দায়ী নই। এটা নিতান্তই আমার চিন্তা, চেতনা, স্বাদ ও অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। পূর্বে যারা নবাবের পিজ্জা ট্রাই করেছিলেন এবং পরবর্তিতেও যারা ট্রাই করবেন, তাদের সাথে আমার অভিজ্ঞতা ১৯/২০ হতেই পারে। তার জন্যে ব্যক্তিগত ভাবে আমি বা এই ব্লগের কেউ কোন ক্রমেই দায়ি থাকবেন না। ধন্যবাদ।

১৭/০৬/২০১৯, ১১.৫১ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *