পিৎজা দোকানের রূপবতী (দ্বিতীয় পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

মনের ভেতর নানান প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি দিতে লাগলো। আচ্ছা, এই মেয়েটির বয়স কতো? ওর নাম কি? থাকে কোথায়? সে কি বাঙালী? কমপ্লেকশন তো তাই বলছে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ওর বয়স বড়জোর সাতাশ কিংবা আটাশ। বেশিও হতে পারে। কোথায় যেন পড়েছিলাম ওই বয়সে মেয়েদের রূপ খোলে। যিনি এই কথাগুলো লিখেছিলেন তিনিও নিশ্চয়ই আমার মতন কেউ। গুড অবজারভেশনিস্ট।
মেয়েটি কাউন্টারের ইটালিয়ান লোকটাকে বলল,
– “লার্জ পাই টু গো” প্লিজ।
কথাটা শুনে আমি মনে মনে খুশি হলাম। লার্জ পাই বানাতে সময় লাগে। পনেরো মিনিটের কম না। পনেরো মিনিট অনেক সময়। মেয়েটা আমার উল্টো দিকের চেয়ারটায় বসেছে। হাতে ফোন। চোখ দুটো ফোনের ছোট্ট স্ক্রিনে নিবদ্ধ। কি দেখছে সে? ফেসবুক! ও কি এখন চেক-ইন দেবে?

লোকজন ইদানীং কোথাও গেলেই চেক-ইন দেয়। ফেসবুকে আমার এক আপু আছেন চব্বিশ ঘন্টায় অন্তত আটচল্লিশটি স্ট্যাটাস দেন। তার দিনের প্রথম স্ট্যাটাসটি থাকে বিছানায়। ঘুম ঘুম চোখে ক্যামেরার দিকে তাঁকিয়ে সেলফি। নিচে ক্যাপশন : গুড মর্নিং বন্ধুরা, দৃতীয় স্ট্যাটাস বাথরুমে দাঁত মাজার ছবি, তৃতীয় স্ট্যাটাস চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন এমন একটা সেলফি। এভাবে তার সারাটা দিন স্ট্যাটাস দিয়েই কেটে যায়। এই রূপবতী কি ওই গোত্রের কেউ? আমি পিঁজা দোকানের ফেসবুক পেজে ঢুঁ মারলাম। যা ভেবেছিলাম তাই! রূপবতী চেক-ইন দিয়েছে। নিচে ক্যাপশনে বাংলায় লিখা,
“আজকে রান্না করিনি, পিজ্জাই ভরসা।”

রূপবতীর নাম “জয়তুন বিবি” নামটা দেখে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। এমন সুন্দর স্মার্ট একটি মেয়ের নাম “জয়তুন বিবি”? এটা কোন কথা হলো? ওর নাম হওয়া উচিত ছিল রিম্মি, উর্মিলা কিংবা ফারিয়া জাতীয় আদুরে কোন নাম। জয়তুন বিবি’র সব ফেসবুক পোস্টই পাবলিক। অতঃএব বুঝা যাচ্ছে সে মাকাল টাইপের ফেসবুক ইউজার। প্রোফাইল তার ছবিতে ভর্তি। হাজার খানেকের কম না। নানান ভঙ্গিমায় তোলা সেসব ছবি। আমি ওর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস চেক করলাম। সেখানে লিখা সিঙ্গেল। আমার মনটা ভালো হয়ে গেলো। বয়স প্রায় ত্রিশ প্লাস কিন্তু এখনো বিয়ে করিনি তবে জয়তুন বিবি’র মতন কাউকে পেলে আমি এক্ষুনি, এমনকি এই মুহূর্তে বিয়ে করতে রাজি আছি। আমি রূপের কাঙাল।

[চলবে]

১৫/০৬/২০২০, ১০.২০ PM

পিৎজা দোকানের রূপবতী (প্রথম পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *