প্রজন্মের জন্য অবশ্য দ্রষ্টব্য

  • 1
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

এডজাস্টমেন্ট আর কম্প্রোমাইজ বহু ব্যবহৃত দুটো শব্দ। মানব সম্পর্কের সাস্টেইনিবিলিটি আর ডেভেলপমেন্ট এর সাথে এই শব্দ দুটো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমস্যা হল আমরা বেশীরভাগ মানুষ এই শব্দদুটোর সঠিক প্রয়োগ এবং ব্যবহার জানি না এবং দুটোকে প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করি। অথচ এদের শাব্দিক অর্থ পুরাপুরি আলাদা এবং বিপরীত। এডজাস্টমেন্ট মানে হল ছোট ছোট চেঞ্জ এর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া বা খাপ খাওয়ানো। ধরেন আপনি এবং সে একসাথে বাইরে খেতে যাবার প্ল্যান করলেন। আপনার চাইনিজ খেতে ইচ্ছা হল কিন্তু প্রেমিক/প্রেমিকা/স্বামী/স্ত্রীর ইচ্ছা ইন্ডিয়ান খাবার খাওয়ার। আপনি তার পছন্দকে সম্মান জানিয়ে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে গেলেন। অথবা, কোন পার্টিতে যাবার সময় আপনি ভাবলেন সালোয়ার কামিজ পরবেন কিন্তু আপনার স্বামী/প্রেমিক অনুরোধ করলেন শাড়ি পরতে। আপনি ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও সেদিনের মত তার পছন্দকে প্রাধান্য দিলেন, অথবা স্বামী স্ত্রী মিলে ঠিক করে নিলেন মশারী তিনদিন সে টানাবে, চারদিন আপনি। সেটা হল এডজাস্টমেন্ট।

এডজাস্টমেন্ট হেলদী প্র্যাক্টিস। এতে নিজের এবং সম্পর্কের কোন ক্ষতি হয় না বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ে। আর কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতা হল সম্পর্কের জন্য পয়জনের মত।কম্প্রোমাইজ মানে নিজের পছন্দ অপছন্দ, ভাললাগা-মন্দলাগা, ইচ্ছা অনিচ্ছা বিসর্জন দিয়ে আরেকজনকে খুশী করা। যেমন বিয়ের পরে আপনাকে বলা হল আপনি আর চাকরী করতে পারবে না বা আপনার ক্যারিয়ার প্ল্যান, সোশ্যাল লাইফ, পারসোনাল লাইফ সব ব্যাপারে কন্ট্রোল করতে শুরু করলেন আপনার আদার হাফ। এমনকি আপনি কি পোষাক পরবেন, কোথায় যাবেন, কার সাথে বন্ধুত্ব করবেন, তার সিদ্ধান্তও নিতে শুরু করলেন আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা/স্বামী/স্ত্রী। আপনি কলহ এড়াতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেনে নিলেন সব। এটা হলো কম্প্রোমাইজ। যেহেতু মেনে নেয়া মানেই মনে নেয়া না তাই আপনার মন এই কম্পোমাইজের সাথে জীবনেও এডজাস্ট করতে পারবে না। ফলাফল হিসেবে আপনি একটা স্ট্রেসফুল, হতাশ, পরাধীন জীবন কাটাতে থাকবেন। আর যদি সেটা তে দূর্ভাগ্যবশত ইউজড টু হয়ে যান তার মানে আপনি আর আপনি নাই, আপনি মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।

আপনার স্বকীয়তা, নিজস্বতা, আত্মসম্মানবোধ কিছুই অবশিষ্ট নাই। আপনার অস্তিত্ব বলেই আর কিছু নাই। আপনার মত যে মানুষটা হেটে চলে বেড়ায়, যাকে জীবন্ত বলে মনে হয় সে আসলে একজন কন্ট্রোল ফ্রিক পার্টনারের হাতের পুতুল। বয়েলিং ফ্রগ সিন্ড্রোম বলে একটা জনপ্রিয় মেটাফোর আছে। উনিশ শতকে একজন সাইন্টিস্টের ব্যাং নিয়ে করা একটা এক্সপেরিমেন্ট থেকে এই মেটাফোরের জন্ম। বলা হয়, একটা ব্যাঙ কে যদি আপনি পানি ভর্তি একটা পাত্রে রেখে পাত্রটিকে উত্তপ্ত করতে থাকেন, তাহলে ব্যাঙটা তার অসাধারন অভিযোজন ক্ষমতার কারনে পানির তাপমাত্রার সাথে সাথে নিজের শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য তৈরী করতে থাকে। মানে, সে পানি থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে না গিয়ে পানির উত্তাপ সহ্য করতে থাকে। কিন্তু একসময় যখন পানি প্রচন্ড গরম হয়ে যায় তখন সেই তাপমাত্রা ব্যাঙের শরীর আর মানিয়ে নিতে পারে না।

যখন সে কোনভাবেই আর পানির তাপমাত্রার সাথে তার শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য রাখতে পারে না তখন সিদ্ধান্ত নেয় ফুটন্ত পানির পাত্র থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে যাবার। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হল, তখন আর সে লাফ দিতে পারে না। কারন সে তার সমস্ত শক্তি তাপমাত্রার সাথে খাপ খাওয়াতে ব্যায় করে ফেলেছে। ফলাফল, সরল বিশ্বাসে পানির পাত্রে বসে থাকা ব্যাং টা সেদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করে। আহারে! মরার আগে বোকা ব্যাং জানেও না তার মৃত্যুর কারন আসলে গরম পানি না বরং বিপদজনক পরিস্থিতির শুরুতেই সেই পরিস্থিতি আইডেন্টিফাই করে লাফ না দেয়াটাই তার মৃত্যুর কারন। সব কিছু সহ্য করে নেয়ার প্রবনতাটাই তার মৃত্যুর কারন। সে যদি পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে সমস্ত শক্তি ব্যয় না করতো তাহলে সময় মত লাফ দিয়ে নিজের জীবনটা বাঁচাতে পারত। ব্যাং এর গল্প ক্যান বললাম বুঝলে ভাল, না বুঝলে নাই। মনের আনন্দে সিদ্ধ হন।

১০/০৩/২০২০, ১১.৫৪ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *