প্রশ্ন – উত্তর

  •  
  •  
  •  
  •  

ডক্টর জাকির নায়েক দুবাইতে সেমিনার করতে গেলেই রাহুল নামের এক ইঞ্জিনিয়ার তাঁকে হাজারো প্রশ্ন করত। প্রশ্নগুলি ছিল খুব লজিকাল এবং সুচিন্তিত। সে ঠেক দেবার জন্য নয়, জানার জন্যই প্রশ্ন করত। জাকির নায়েকও সাধ্যমত যুক্তি ও কুরান হাদীস অনুযায়ী সুন্দর উত্তর দিতেন। একবার সে প্রশ্ন করল,
– ইসলামের আল্লাহ বলেন যে শুধু তাঁর ইবাদত করতে হবে, অন্য কোনো কিছু বা কাউকে ইলাহ বা ইবাদতের যোগ্য মানলে তাকে মাপ করব না, জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। এখন এইটা তো খুব অহংকারীর মত কথা হল। আমরা জানি, আল্লাহর মধ্যে মানবীয় কোনও সীমাবদ্ধতা বা বৈশিষ্ট্য নেই। যদি থাকত তাহলে তাঁকে আল্লাহ মানার কোনও কারণ ছিল না। যেমন তাঁর মৃত্যু নেই, ক্ষুধা নেই, ঘুম লাগে না, বিশ্রাম লাগে না, তিনি কারও পিতা নন কেউ তাঁর পিতা নয়। তিনি অনাদি অনন্ত। মানে শুরু আর শেষ দিয়ে যেমন সকল সৃষ্টি বাঁধা, তিনি সেরকম নন। বরং শুরু এবং শেষ এই দুটিরও স্রষ্টা তিনি। তাহলে এই যে অহংকারীর মত বললেন, আমাকে ছাড়া কারও ইবাদত করবা না, এইটা তো অহংকারও হল, হিংসাও হল। অহংকার আর হিংসা এগুলা তো মানুষের বৈশিষ্ট্য। এগুলি যদি উনার থাকে, তাইলে তো হল না।

এর উত্তর জাকির নায়েক অত্যন্ত সুন্দরভাবেই দিয়েছেন। তবে আমার মনে হয়েছে আহমেদ দিদাত বেঁচে থাকলে আরও সংক্ষেপে উত্তরটা দিতে পারতেন। আর তা কিছুটা এরকম হতে পারত,
– অহংকার আসলে মানবের বৈশিষ্ট্য না। এ কারণেই মানুষ যখন অহংকার করে, তাকে সবাই বলে, সে বোধহয় নিজেকে খোদা ভাবতে শুরু করেছে। অহংকার এমন এক বৈশিষ্ট্য যা শুধুমাত্র এক আল্লাহকেই মানায়। অন্য যে কেউ করলে সেটা অযৌক্তিক হয়। তেমনি বিনয়ে মাথা নত করে থাকা, শুধুমাত্র সৃষ্ট জীব তথা মানুষ, জ্বীন, অন্যান্য প্রাণীদের শোভা পায়। কারণ নিঃশ্বাসটা যে নিতে পারছে, পরবর্তী সেকেন্ডেও যে বেঁচে আছে, সেটা আল্লাহর পরম করুণায়। আর অন্য ইলাহদের হিংসা করেন তাই অন্য কারুর ইবাদত করতে মানা করেন, এই উক্তিটা শুধুই হাস্যকর ছাড়া কিছু না। আল্লাহ কুরানে বার বার ভাল করে যুক্তি দিয়ে বোকা মানুষ জাতিকে বুঝিয়েছেন যে কেন দুইটা স্রষ্টা থাকা সম্ভব না। যে মনে করে দুই বা ততোধিক স্রষ্টা মিলে জগত সংসারের সব বানিয়েছে, সে সৃষ্টি শব্দের নিগুঢ় অর্থটাই বোঝে নাই। রান্না করা, ছবি আঁকা, গল্প লেখা, রোবট বানানো বা ক্লোন তৈরী করা – এগুলি একটাও সৃষ্টি না। এগুলি একটা শক্তি বা রিসোর্সকে আরেকটা ম্যাটেরিয়ালে রূপান্তর করা মাত্র। চালকে ভাতে রূপান্তর, কালি-রং-কাগজকে ছবিতে রূপান্তর, এইরকম প্রত্যেকটাই।

সৃষ্টি মানে অস্তিত্বহীনকে অস্তিত্ত্বে আনা। যেটা শুধু এক আল্লাহ পারেন। যদি স্রষ্টা দুইটা হত তাইলে অবশ্যই দেখা যেত দুইটার মধ্যে একটা আরেকটাকে বানিয়েছে। তাইলে ছোট আর বড় আছে! ঘুরে ফিরে লাউ আর কদু, স্রষ্টা একজনই, বাকিগুলা তাঁর সৃষ্টি। সৃষ্টি আরেক সৃষ্টির ইবাদত করবে এইটা আসল ও একমাত্র স্রষ্টা মানা করবেনই কারণ যাবতীয় ভুল ত্রুটি মানুষকে দেখিয়ে দেয়ার জন্যই তিনি ওহী নাযিল করেছেন যা মূলত আমাদের জন্য ম্যানুয়াল বুক যে কী ঠিক আর কী বেঠিক। যা হোক, মনে হল উত্তরটা আসলে এইটুকু বললেই দেয়া যেত। জাকির নায়েক যা করেছেন তার জন্য আল্লাহ তাঁকে উত্তম পুরস্কার দিন। উনি যা করেছেন তা অসামান্য। উনার হাজার হাজার প্রশ্নোত্তরে এই একটিতে মাত্র আমি ৯০% হ্যাপি আর বাকি সবগুলায় ১০০% হ্যাপি ছিলাম। ১০% নিয়ে অনেকদিন ভাবনা চিন্তা করে এইটা মাথায় আসছিল তাই বললাম।

২৩/১২/২০১৯, ১১.৫২ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *