প্রার্থনা ও পূজোয় তুমি

  •  
  •  
  •  
  •  

বিপরিত ধর্মের প্রেম গুলো টিকে যাক আর ভেঙ্গেই যাক, এই প্রেম গুলোতে মুখ্য যে বিষয়টা থাকে তা জগৎ অমান্য করলেও সত্যি এটাই যে – ভালোবাসা কখনো ধর্ম মেনে হতে পারে না। আমি একটা ছেলের কথা জানি। সে মসজিদের আজানের পরই নামাজের সময় জায়নামাজে বসে দু’হাত তুলে দেয় হিন্দু মেয়েটির জন্যই। ছেলেটি দূর্গা পূজার অষ্টমীর দিন মেয়েটিকে লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে দূর থেকে দেখেই মনে মনে বলেছিলো,
– এমনি বুঝি হয় প্রতিমা। এই প্রতিমার পায়ে সকল প্রেম অর্পন করতে পারলেই হবে আমার দেবীবন্দনা।

মেয়েটিও স্বপ্ন দেখেছে সেই মুসলিম ছেলেটিকে নিয়েই। মন্দিরের দরজায় দাঁড়িয়ে যতবার সে প্রার্থনা করেছে ততবারই চেয়েছে ছেলেটি তার হয়ে যাক। ঈদের দিন মুসলমান বান্ধবীটার বাসায় যখন শখের বসে মেহেদি পড়তে যায় তখন মেহেদির আল্পনার ফাঁকেই ছোট করে ছেলেটির নামের অক্ষর লিখে ফেলে। সে কথা কেউ জানে না। অথচ যে রাতে মেয়েটির মাথায় উঁঠে অন্য কারো হাতের সিঁদূর সেদিন সন্ধ্যে বেলায় পুরনো শিব মন্দিরের পিছনে ছেলেটির সাথে শেষ বার দেখা করতে গিয়ে মিয়েটি তাকে বলেছিলো,
– এই সমাজ আমাদের মেনে নিবে না। তুমি আমাকে ভুলে অন্য কাউকে নিয়ে সুখি হও।

আর ছেলেটি সেদিন দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলো তার দেবী বিসর্জন। এরপর মেয়েটিও ঠাকুর ঘরে প্রার্থনার জন্যে দু’হাত জড়ো করেছে। ছেলেটিও জায়নামাজে বসে হাত তুলেছে আল্লাহর দরবারে। তবে তাদের প্রার্থনায় শুধু একটি কথায় ছিলো,
– আমাকে সব ভুলিয়ে দাও প্রভু এবং তাকে সুখে রেখো।
আর তখনি ঘটে ঈশ্বরের সবচেয়ে পবিত্র দানের অবমাননা। ভালোবাসার পরাজয়ের গল্পের দায়ে হয়ত তখন ছেলেটির আল্লাহ এবং মেয়েটির ঈশ্বরও কাঁদতে থাকেন নীরবে, নিভৃতে।

১৩/০১/২০২০, ৭.৩২ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *