প্রেমিকার বিয়ে

  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সাধারণ কোনো প্রেমিক হতে চাইনি। আমি চেয়েছি আর দশটা প্রেমিক থেকে ভিন্ন কেউ হই। তাই আমার সাথে নিতুর প্রেমটা ছিলো ইদানিং সময়ের ‘রাজনীতি’র মতো। চলছে, তবে আগামাথা নেই। সব প্রেমিক হাঁটু গেড়ে বসে প্রেমিকার হাত ধরে প্রপোজ করে, আমাকে আর দশটা প্রেমিকের মতো হলে চলবেনা। আমি হাঁটু গেড়ে বসে বলিনি ‘মন দাও’। নিতুর সামনে গিয়ে সরাসরি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছি,
– ‘আমি’ তো ‘আমায়’ প্রচন্ড ভালোবাসি; আর ‘আমায়’ ‘আমি’ ও। কিন্তু আজকাল ‘আমায়’ ‘আমাকে’ ভালো বাসছে না। ‘তোমাকে’ বাসছে। তাই ‘আমাকে’ও বাধ্য হয়ে ‘তোমাকে’ বাসতে হচ্ছে।
প্রেমিক প্রেমিকা হলেই রাতভর ফোনে গুজুর- গাজুর, ফুসুর- ফাসুর করতে হয়। সবাই ই করে। আমি আর দশটা সাধারণ- কমন প্রেমিক নই। আমি রাত হলে নিতুকে ব্লক দিয়ে শুয়ে পড়তাম, সকাল হলে আনব্লক করতাম।

প্রেমিক প্রেমিকাদের দিনে দুইবার- তিনবার দেখা করার নিয়ম, আমি সময়- সুযোগ থাকার পরেও সপ্তাহে একদিন দেখা করতাম। নিতু অভিমান করতো, আমি আর দশটা সাধারণ- কমন প্রেমিকের মতো ওর অভিমান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করতাম না। উল্টো নিজেই অভিমান করে বসে থাকতাম। প্রেমিক প্রেমিকাদের কথাবার্তায় বাচ্চা বাচ্চা- আদুরে- ‘ওলে ওলে’ একটা ভাব থাকে। তারা দিনের অধিকাংশ সময় সংসার- বাচ্চা কাচ্চার নাম- কিংবা বাসার জানালার পর্দা কি রঙের হবে তা নিয়ে আলোচনা করে। আমি আর দশটা সাধারণ- কমন প্রেমিক নই। আমি নিতুর সাথে দেখা হলে আলোচনা করতাম ট্রাম্প আর কিমের আন্তর্জাতিক পাগলামো নিয়ে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কিংবা তিস্তা নিয়ে মমতার চিন্তাভাবনা। নিতু কাঁধে মাথা রেখে হাই তুলতে তুলতে শুনতো সব। সব প্রেমিক বিশেষ একটা দিবসে ফুল হাতে প্রেমিকার কাছে গিয়ে ভালোবাসি বলে কিংবা ভালোবাসা বাসি করে। আমি আর দশটা প্রেমিকের মতো কমন নই। আমি নিতুর কাছে ভালোবাসা দিবসে কোনো ফুল টুল নিয়ে যাইনি, কোনো ভালোবাসা বাসি ও করিনি। উল্টো সেদিন নিতুকে বলেছি,
– আমায় ডিস্টার্ব করবানা, আমি একটা বাংলা ছবি দেখছি। আরেকবার ফোন দিবা, তো আমি তোমার আব্বাকে ফোন দিবো। দিয়ে বলবো, আপনার মেয়ে প্রেম করে বেড়াচ্ছে।

পৃথিবীর কোনো প্রেমিক, আব্বাকে বলে দিবো টাইপের ধমক প্রেমিকাকে দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। আমি সাধারণ কোনো প্রেমিক নই। দীর্ঘ সম্পর্কে চুটিয়ে প্রেম করে সব প্রেমিক প্রেমিকাই বিয়ে করার প্রস্তুতি নেয়। আমি যেহেতু কোনো কমন প্রেমিক নই। সেহেতু আমায় এই সোজা পথে হাঁটলে চলবেনা। বাঁকা পথ লাগবে। বাঁকা পথটার নাম হচ্ছে বিচ্ছেদ। আমি নিতুর আব্বাকে ফোন দিলাম, সব খুলে বলে ফেললাম। নিতুর আব্বা মনোযোগ দিয়ে সব শুনে ফোন রেখে দিলেন। আমি বড় করে একটা নিঃশ্বাস ফেললাম। নিতুর জন্যে ছেলে দেখার কার্যক্রম আজ থেকেই শুরু হবে, নিতুকে শীঘ্রই বিয়ে দেয়া হবে। প্রেমিকার বিয়েতে কোনো প্রেমিক উপস্থিত থাকেনা। আমি যেহেতু সাধারণ – কমন কোনো প্রেমিক নই, সেহেতু আমি নিতুর বিয়েতে উপস্থিত থাকবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধু তা ই না, পেট পুরে বিরিয়ানি খাবো, হলুদ অনুষ্ঠানে পাশের বাসার ভাবীদের নিয়ে মজা করবো আর সেলফি তুলবো বলেও ঠিক করেছি। পনেরো দিন পর, নিতুর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আমি উপস্থিত ছিলাম। পেট পুরে খেয়েছি, ভাবীদের সাথে মজা করেছি, সেলফি ও তুলেছি। তারপর মুখে রুমাল গুজে কবুল ও বলেছি; আর দশটা সাধারণ- কমন বরের মতোই। ‘প্রেমিকার আব্বার’ কমন ‘বিচ্ছেদ’ থিউরি টা কাজ করেনি, নিতুর আব্বা মোটেও আর দশটা সাধারণ- কমন ‘আব্বা’ ছিলেন না!

১২/০৬/২০২০, ১১.৪০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *