ফেইসবুক ইন অ্যা নাটশেল

  •  
  •  
  •  
  •  

আজকের ফেসবুকের এই আইডিয়াটা জাকারবার্গের ছিল না। জাকারবার্গ আইডিয়া চুরি করেছিলেন। সেখান থেকেই আজকের ফেসবুক। ফেসম্যাশ নামে যে একটা সিস্টেম চলছিল হার্ভাড ইউনিভার্সিটি, যার কাজ ছিল সিস্টেমে আপলোড করা মেয়েদের ছবিতে ভোট করা – হট অর নট। সেই সিস্টেম হ্যাক করে সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ ব্রেক করেছিলেন। ঘটনা ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর। এবং এই হ্যাকের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে দোষি সাব্যস্তও করেছিল। যদিও ফেসম্যাশ’র জনক হিসেবে জাকারবার্গককেই ধরা হয়। কিন্তু ফেসম্যাশের আইডিয়া ছিল তাঁর কাছের এক বন্ধুর। উনি সেই আইডিয়াকে ইমপ্লিমেন্ট করেছিলেন মাত্র। ‘দ্য হার্ভাড ক্রিমসন’ এর একটি সম্পাদকীয় পড়লে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেন, নাম দেন দ্যফেসবুক.কম।

সাইট চালু করার ৬ দিনের মাথাতেই তাঁর তিনজন বন্ধু অভিযোগ করেন, জাকারবার্গ তাঁদের সাথে বেঈমানি করেছেন। সে তাঁদের আইডিয়া চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। আদালতের মাধ্যমে সেই অভিযোগের সুরাহা হয় ২০০৮ সালে। জাকারবার্গ শেষ পর্যন্ত তাদের অভিযোগ সত্য বলে মেনে নিয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সমমূল্য ১ দশমিক ২ মিলিয়ন শেয়ার তার ঐ তিন বন্ধুকে দিয়ে দেন। কেইস খতম। ফেসবুক.কম এই ডোমেইনটাও জাকারবার্গের ছিল না। ২০০৫ সালে ২ লাখ ডলার দিয়ে এই ডোমেইনটা অ্যাবাউটফেস কর্পোরশন নামক এক কোম্পানির কাছ থেকে কেনেন জাকারবার্গ। ততদিনে তিনি পেপ্যাল থেকে বড় অংকের ইনভেস্টমেন্ট পেয়েছিলেন। তারপরে বাকিটা ইতিহাস।

চাইলে করোনার এই লকদাউনে “দ্যা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক” মুভিটা দেখতে পারেন। সেখানে জাকারবার্গ ও তার বাকি দুই বন্ধুদের নিয়ে কিভাবে ফেইসবুক নামক এক সোশ্যাল মিডিয়ার সৃষ্টি করেন ও তাদের সাথে পররবর্তিতে মালিকানা দন্দে জড়িয়ে পরেন সেটাই এই ছবির মূল বিষয়। কাহিনী একটু বলা যাক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যায়। রাত ৩ টার সময় একটি Website তৈরি হয় যার নাম Facemash। যার মধ্যে আছে হার্ভার্ডের সমস্ত মেয়ের ছবি এবং থাকে একটি প্রশ্ন। কে সুন্দরী?? ২ ঘন্টার মধ্যে ২০ হাজার বার ঐ ওয়েবসাইটে হিট পরার কারণে বলা যায় ধুম-ধারাক্কা অবস্থা!! কোন চান্দু এই কাম করলো?? সে আর কেউ নয়। সে Mark Zuckerberg (Jesse Eisenberg) । বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে এই অবৈধ কাজের জন্য কিছু শাস্তি পায় সে। সকলের ঘৃণার পাত্র হয় সে। কিন্তু মনে মনে সকলেই ভাবে এই পোলা তো চররম!!! নজরে পরে সে Winklevoss ভ্রাতৃদ্বয়ের ( Armie Hammer) । Mark কে বলে আইসা পরো আমাগো লগে। সবাই মিলা বানাই HarvardConnection!! Mark আবার চাল্লু কম না। তখন কইলো হ্যাঁ কিন্তু ২০ দিন পরে বলে না। কিন্তু তলে তলে ১০ দিনে বানায় ফেলে theFacebook!! WInklevoss গরুদুইটা পুরা চিল্লাচিল্লি লাগায় দেয়। এদিকে Mark তার বন্ধু Eduardo (Andrew Garfield) এর অর্থ সাহায্যে ধীরে উন্নতি করে TheFacebook এর। কিন্তু Eduardo একটা মহা ব্যাক্কল কিসিমের পাবলিক। তার বোকামির কারণেই ধীরে ধীরে Mark দুরে চলে যায় তার কাছ থেকে। Facebook এর ব্যবসায় সাহায্যে আসে Sean Parker ( Justin Timberlake) । এইটা আবার অতি চাল্লু মাল। অতিচালাকের গলায় দড়ির মত নিজেই ফেঁসে যায় সে। কিন্তু Winklevoss এবং Eduardo পুনরায় আসে প্রতিশোধ নিতে এক আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে।

মুভিটির সবচেয়ে বড়দিক মুভিটি খুব দ্রুত গতি সম্পন্ন। একটুও বোরিং লাগেনি। অভিনয় সবার বেশ ভালোই হয়েছে। বিশেষ করে Jesse Eisenberg এর। Andrew Garfield কেও বেশ ভালো লেগেছে। Justin Timberlake ও খারাপ করেনি। মুভিটি অনেকেই Teen মুভি বলে ভুল করতে পারেন কিন্তু এটি একটি ড্রামা। তবে সবকিছু ভালো হলেও চরম অসাধারণ এর পর্যায় পরে না। কিন্তু শেষ দৃশ্যটি দেখে আমি সত্যিই চমকে গিয়েছি। যেখানে Mark পুরনো এক ভালোবাসাকে facebook এ friend request পাঠিয়ে একটু পর পর Refresh বাটনে ক্লিক করে। বেশ চমৎকার।

১৮/০৫/২০২০, ১১.১০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *