বন্ধুর বন্ধুত্বতা

  • 4
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

বন্ধু মানে সকাল বেলা
বন্ধু মানে সাঁঝ
বন্ধু মানে মনের কথা
বলতে কিসের লাজ!!
বন্ধু মানে ফাঁকা মাঠে
একটুখানি হাওয়া
বন্ধু মানে এই জীবনে
অ নে ক খানি পাওয়া!
– অনিরুদ্ধ বুলবুল

বন্ধু তো অনেক আছে কিন্তু সবাই কি আর বেষ্ট ফ্রেন্ড বা ঘনিষ্ট বন্ধু হতে পারে? সবাই কি আর আপন, আত্নার আত্নীয় হয়? আপন জন, বেষ্ট ফ্রেন্ড, আত্নার আত্নীয় হতে কিন্তু যোগ্যতাও লাগে। যেমন যোগ্যতা লাগে, স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে ভর্তি হতে কিংবা চাকুরি পেতে। এপর্যন্ত দেখা ও অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, স্কুলের ফ্রেন্ডরাই বেষ্ট, ১০০% বিশুদ্ধ। কলেজের ফ্রেন্ড গুলা ৭০% বিশুদ্ধ আর বাকি ৩০% ভেজাল। আর ভার্সিটি লাইফের বেশীরভাগ ফ্রেন্ডরাই সার্থবাজ, সুযোগ সন্ধানী আর কুটিল প্রকৃতির হয়ে থাকে।

তবে আপনার ঘনিষ্ঠ জনদের তালিকা যতো ছোট আর যতো দীর্ঘই হোক না কেন একবার কাউকে আপনার প্রিয় মানুষদের তালিকা থেকে নাম কেটে দিলে পুনরায় কখনোই তাকে সে তালিকায় ঢোকানো সম্ভব হয় না। নাম যে কেটে দিলো এবং যার নাম কাটা পরলো দুজনেরই সম্পর্কের ব্যপারে খুব যত্নবান হওয়া উচিত। মনে রাখবেন – “বন্ধুত্ব” আপনার পাড়ার মোড়ের দোকানের প্লাষ্টিকের বয়ামে রাখা কোন কাঠি চকোলেট না যে দোকানির হাতে পয়সা গুজে দিয়ে মোড়ক খুলে চুশতে চুশতে বাড়ির পথে রওনা দেবেন। আবার ভালো না লাগলে মাঝ পথে নর্দমায় ফেলে মনের সুখে গুন গুনিয়ে গান গাইতে গাইতে আরো ভালো কোন চকোলেট খুজবেন।”

টাকা কিংবা ক্ষমতা দিয়ে বন্ধুত্ব ঝালাই-বাছাই-মাপাই করতে চাইলে ধরে নেবো, “আপনি মানসিক ভাবে আসুস্থ। আপনার অতিসত্বর চিকিৎসার প্রয়োজন।”। কিছু বন্ধু ছিলো ক্লাসে প্রচন্ড তৃষ্ণায় পানি চাইলে বলতো,
– “স্যরি দোস্ত… বোতলে মুখ দিয়ে দিসি।”
আর কোন কোন বন্ধু ব্যাগ থেকে সব বই খাতা নানান বেঞ্চে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখতো বন্ধুদের জন্যে সীট ধরে রাখতে। পরীক্ষার শেষ পাঁচ মিনিটে রি-এরেঞ্জটা দেখালে অন্য বন্ধুর পাশমার্কটা উঠে যায়। কিছু বন্ধু থাকে দেখাবে বলে এমন মুহূর্তে খাতা জমা দিয়ে গনগন করে হেঁটে চলে যায়। আবার কিছু বন্ধ থাকে, নিজের উপর রিস্ক নিয়ে শেষ মিনিট পর্যন্ত বন্ধুর কাছে নিজের এক্সট্রা পেজগুলো দিয়ে রাখে। কোন কোন বন্ধু অন্য বন্ধুর প্রেমিকাকে নিজের করে নেয়। একবারের জন্যেও বন্ধুর জন্যে খারাপ লাগা কাজ করে না। আবার কিছু বন্ধু থাকে নিজের গাড়ির চাবিটা বন্ধুর হাতে দিয়ে বলে,
– “যাহ দোস্ত ওকে নিয়ে ঘুরে আয়। ভালো লাগবে।”
কোন কোন বন্ধু অন্য বন্ধুর বিপদে ধার দেয়ার ভয়ে ফোন বন্ধ করে রাখে। আবার কোন বন্ধু নিজের সব সেভিংস ভেঙ্গে প্লেনের টিকেট কিনে বন্ধুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে,
– “ব্যাটা আমেরিকা যা! ডিগ্রিটা নিয়েই ফিরিস।”

চারপাশে অনেক বন্ধু, কেউ সত্যিকারের। কেউ বা মুখোশ পরা। জীবনের এই সময়ে এসে বন্ধুত্বের খাতায় হিসেব মেলাতে গেলে দেখি খুব কাছের, আপন ভাবা বন্ধু গুলো কতো বড় অভিনেতা, মুখোশধারী, বন্ধু নামের আড়ালে থাকা সার্থপর এক প্রানী। যে জানে শুধু বন্ধুত্বের নাম বেঁচে নিজের সার্থ উদ্ধার করে গা বাঁচিয়ে চলতে। ব্যক্তি জীবনে আমি সব সময় আমার বন্ধুদের প্রায়োরিটি দেই। তাদের জন্য কিছু করতে পারাটা আমার সৌভাগ্য বলেই মনে হয়। আমি কখনোই বিশ্বাস করতে চাই না, আমার বন্ধুরা আমাকে তাদের সার্থ উদ্ধারের জন্য এই আমাকেই ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তারপরেও যখন অযাচিত, অনাকাঙ্ক্ষিত পাবে কারো কারো মুখ থেকে বন্ধুত্বের মুখোস খসে পরতে থাকে তখন খুব অবাক হই আর ভাবি কি করে পারে এতো সার্থপর, এতো কঠোর, এতো কুটিল হতে?

বন্ধুত্বের কুৎসিত রূপ যেমন দেখেছি, তেমনি দেখেছি এর ভালোটাও। আর এই কারনেই চাই, বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব, চায়ের কাপে, শাটল ট্রেনে, সাদা শার্টে লাল ইটের রঙে, নেভালের রেলিঙে।

১১/০৬/২০১৬, ৩.৫০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *