বফের ঘটকালি

  •  
  •  
  •  
  •  

ব্রেকাপের পর নিজের বান্ধবী বুশরাকে হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়ে হাসতে দেখে আহাম্মকের মত তাকিয়ে থাকলাম আমি। বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে। রিসেন্টলি বুশরার ব্রেকাপ হয়েছে শুনে আমরা দুই বান্ধবী এসে তাকে সামলানোর জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু যেয়ে দেখি সে বিছানার উপর পাগলের মত হাসছে। আমাদের দেখেই বলে,
– জানিস, রাফি আমার জন্য আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।
আমরা বুশরার দিকে আহাম্মকের মত তাকিয়েই থাকলাম। বুশরাকে বললাম,
– দেখ বুশরা, এই ব্রেকাপে তোর কোনো দোষ নাই। ছেলেটারই দোষ। সেই তোর প্রতি উদাসীন ছিল। নিজেকে এভাবে দোষারোপ করিসনা বইন।
বুশরা আমার কথা শুনে আরও জোরে জোরে হাসতে থাকলো। তারপর বলল,
– না রে, সত্যি সত্যিই সে আমার জন্য আমাকে ছেড়ে গেছে। আমি ব্রেকাপের পর থেকেই কাঁদার চেষ্টা করছি। কিন্তু হাসির চোটে কাঁদতে পারছিনা।

আমি তখন বুশরার মাথা নিজের ঘাড়ে চেপে ধরলাম, বুশরা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি তাকে জড়িয়ে ধরে সিনেমার মত করে বললাম,
– নিজের দুঃখকে এভাবে চেপে রাখিসনা বোন। নিজের সব মনের কথা আমাদের খুলে বল।
হাসতে হাসতে বুশরার চোখ দিয়ে এবার পানি বের হয়ে আসলো। সে কোনোমতে বলা শুরু করলো,
– রাফি হিমালয়ের ঝরনা নামের এক মেয়ের জন্য আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। মেয়েটার সাথে রাফির পরিচয় হয় তিনমাস আগে।
এটুকু বলে বুশরা হাসতে লাগলো। বেচারির জন্য খুব মায়া হচ্ছে। বুশরাকে বললাম,
– মেয়েটা কে? তুই চিনিস? আমরা এখনই যেয়ে তাকে মেরে আসছি
বুশরা বলল,
– সেটাই তো মজার ঘটনা। হিমালয়ের ঝরনা আর কেউ না, আমিই।
বুশরা আবার হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়ে হাসতে থাকে। আমি নিশ্চিত হই যে তার মাল্টিপল পার্সোপার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার হয়েছে। বুশরা বলতে থাকে,
– সে সবসময় বলে আমি ছাড়া নাকি সে আর কোনো মেয়ের সাথে কথাই বলেনা। তাই টেস্ট করার জন্য হিমালয়ের ঝরনা নামের আইডি খুলি। প্রথমে ভাবছিলাম কয়েকদিন কথা চালিয়ে তাকে মুখের সামনে যেয়ে স্ক্রিনশটগুলা দেখাবো। কিন্তু তা আর করা হয়নি। রাফি একসাথে দুই আইডির সাথে চ্যাট করত। আর আমি দুই আইডি থেকে রাফির সাথে চ্যাট করতাম।
বুশরার দিকে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি।

বুশরা বলতে থাকে,
– পরে দেখি রাফি বুশরার আইডিতে মেসেজ পাঠানো কমিয়ে দেয়। আর ঝরনার আইডিতে কথা বলা বাড়িয়ে দেয়। আমিও দেখতে থাকি যে ঘটনা কতদূর গড়ায়। শেষমেশ সে ঝরনাকে প্রপোজ করে বসে। ঝরনাও এক্সেপ্ট করে। ঝরনার কনফার্মেশন পেয়ে সে আমাকে মেসেজ দেয় যে যে ব্রেকাপ করবে। আমি তো এ দেখে মন খারাপ করব কি! হাসতে হাসতে শেষ!
বুশরা হাসতেই থাকে। এবার তার সাথে হাসিতে আমরাও যোগদান করি। বুশরা এবার বলল,
– ঘটনা এখানেই শেষ না। ঝরনা আইডির প্রোফাইল পিকচার আসলে আমাদের বাসার কাজের বুয়ার।
তাকে একটু সাজিয়ে ক্যান্ডিক্যামে ছবি তুলে আপলোড দিতাম। আর তাতে সে “নাইচ লাগচে” বলে কমেন্ট দিতো।
বুশরা এবার হাসি আর থামাতেই পারেনা। আন্টি এসে একবার ঘুরে গেছেন রুমের মধ্যে যে আমরা কি করছি। মি বললাম,
– তাইলে? এখন কি হবে?
বুশরা জবাব দিলো,
– কি আর হবে? রাফিকে এক কাজিঅফিসের সামনে ডাক দিয়েছি ঝরনা আইডি থেকে। আর আমাদের বুয়ারে তার ছেলের সাথে পাঠিয়েছি সেখানে। নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়েশাদি করুক। সাথে একটা ছেলেও ফ্রি। নিজের বফের ঘটক হয়ে খুব প্রাউড ফিল করছি।
আমরাও বুশরার উপরে অনেক গর্ববোধ করছি। আমাদের একমাত্র ঘটক ফ্রেন্ড। হিস্টিরিয়াগ্রস্তদের মত হাসতে থাকলাম আমরা তিন বান্ধবী।

২০/০৭/২০২০, ১১.৫০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *