বাং গালীর আবেগ

  •  
  •  
  •  
  •  

আমরা বাংগালীরা জগতের সব চেয়ে আবেগ প্রবণ জাতি। আমি অন্তত তাই বুঝি। আর সেই আবেগী জাতির অর্ধ শিক্ষিত নারী (হোক সে স্ত্রী, মা, বোন কিংবা প্রেয়সি) যখন দেখবে তার প্রাণের প্রিয় মানুষটি বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে আর সেই মাটিতে মৃত্যুর মিছিল তখন তারা তাদের প্রিয়জনকে দেশে আসার জন্য অনুনয় বিনয় করবে। এমন কি বাধ্য করবে।কারন সে অবলা নারীরা জানেনা এই দেশে ও করোনার ভয়াল ছোবল আসবে বা আসতে পারে। যেহেতু অতীতে কোনো ভয়াবহ ভাইরাস এভাবে আমাদের কাঁধে চেপে বসেনি বা দেখতে হয়নি। এই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের কি দোষ বলেন? মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে সে কিভাবে তার প্রিয়জনের ডাক উপেক্ষা করবে? আপনি হলে কি করতেন? আমি হলে কি করতাম?

খুব কম সংখ্যক ব্যক্তি আছেন যারা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে দেশ নিয়ে বা অন্যকে নিয়ে ভাবতে পারেন। মৃত্যু ভয় বড় কঠিন ভয়। এইবার আসুন একবার চিন্তা করে দেখি তাদের দেশে আসা ঠেকাতে আমরা কি করতে পারতাম। আমরা যদি করোনার শুরু থেকেই নিজ দেশে প্রচারণা চালাতাম যে এমন একটা ভাইরাস আসছে যা প্রাণ কেড়ে নিবে সবার। আমরা একেবারে তৃণ মুল পর্যায়ে কাউন্সেলিং করতাম, মাইকিং করতে পারতাম, লিফলেট বিতরণ করতাম, ছোট ছোট বিজ্ঞাপন বানাতাম, মোবাইলে এত পুশ ম্যাসেজের ভীড়ে দুই চারটা করোনা ম্যাসেজ পুশ করতে পারতাম।

এই সব উপায়ে এটা বুঝাতে সক্ষম হতাম যে, যে যেখানে আছে, যে দেশে আছে নিরাপদে আছে। এই জনবহুল দেশ বরং সবার জন্য অনিরাপদ। তাহলে কি হতো? কোনো মা, কোনো বোন, কোনো স্ত্রী তার প্রিয়জনকে দেশে আসার আকুতি না জানিয়ে বরং যেখানে আছে সেখানে সাবধানে থাকার অনুরোধ করতো। এটা আমার মোটা মাথায় আসা চিন্তার ক্ষুদ্র বিশ্বাস মাত্র। আপনাদের উচু দরের চিন্তা ভাবনার ভীড়ে আমার এই ভাবনাটা কেবল আতশ বাজির ক্ষয়ে যাওয়া স্ফুলিংগ মাত্র।

২১/০৩/২০২০, ১১.৫৬ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *