বাচ্চা-কাচ্চা (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

বাচ্চা পালার আমার কিছু নিজস্ব তরিকা আছে। একটু পুরানা, আমার দাদার থেকে শেখা। কিছুটা হার্ড, কিন্তু লাইন খারাপ না। কিছু টিপস মিলাই নিতে পারেন। কাজে লাগলেও লাগতে পারে।
১) দাদা আম্মারে বলতেন, ” ওবা ফুয়াইন্দরে এত ‘ধ’ নগইজ্জ, ধ গইল্যে ফুয়া ন ফাইবা” । তর্জমা হইল, বাচ্চাদের বেশী ত্যালাইওনা। বেশি ত্যালাইলে বাচ্চা হারাবা।” দাদার এই কথাটা আমি সারসত্য বলে মানি। তাই বাচ্চারে আদর করার সময় কোথায় থামতে হবে আমি সেইটা খুব মনে রাখি। বেহুদা আহ্লাদ বাচ্চাদের বেপরোয়া করে এইটা চিরন্তন সত্য। সুতরাং প্রয়োজনের অতিরিক্ত আদর গিলে ফেলে ডোজ মতো ‘টাইট’ আমি বাচ্চাদের দিই। এই জন্যই দিই যে, আমার আদরের ঝাল যেনো অন্য মানুষরে যেন টানতে না হয়। “পেটের বাচ্চা-কি করি” টাইপ থিওরি আমার জীবনে নিষিদ্ধ। সব বাচ্চাই মায়ের পেট থেকেই আসে।

২) মা হিসেবে আমি সামান্য নিষ্ঠুর। আমার বাচ্চা হোচট খাইয়া পইড়া গেলে আমি কইলজা ফাটা চিৎকার দিয়া একশ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াইয়া তারে তুলতে যাইনা। তারে সময় দিই নিজেই যেনো ওইঠা দাঁড়ায়। বাচ্চা যদি খেলতে খেলতে আগুনে হাত দিতে যায় আমি তারে বাধা দিইনা। সে আগুনে হাত দিয়া ছ্যাঁকা খায়, তারপর নিজেই বুঝে যে এইটার নাম আগুন। বাচ্চা আড়াই দিন না খায়া থাকলেও আমি তার পেছনে খাবার নিয়া দৌড়াইনা। ক্ষুদা সহ্য করতে না পারলে নিজেই একসময় খাবার নিয়ে খায়। আমি সে পর্যন্ত অপেক্ষা করি। বাচ্চারে তার নিজের টয়লেট নিজে পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে নিজের হাতে খাওয়া, নিজের বিছানা কাপড় গোছানো, রান্না করা, বই পত্র-ঘর দোর গোছানো এসব আমি নিজে দাঁড়াই থেকে শিখাইসি ছোটবেলা থেকেই। হ্যাঁ, কষ্ট আমারও হইসে। কিন্তু আই হ্যাভ টু বি ক্রুয়েল অনলি ফর টু বি কাইন্ড।

৩) মনে রাখবেন, নিজের শরীর নড়াচড়া করতে না দিয়ে সাত আট দশ বারো বছরের বাচ্চারে ভাত কচলাইয়া মুখে তুইলা খাওয়াইয়া তারে অথর্ব বানাইলে ক্ষতি কিন্তু আখেরে তারই। আপনার কলিজার টুকরার পাশে আপনি সারাজীবন থাকবেন না – এটাই ফ্যাক্ট। তাই দয়া করে আপনার সন্তান প্রিন্সেস নাকি রাজকুমার – এসব হ্যালুসিনেশনে ডুবায় তার মানুষ হওয়ার ক্ষমতা মা-বাবা হয়ে আপনি নষ্ট কইরেননা। সে মানুষ, তার মাথা – মন – শরীর সবই অনেক সম্ভাবনাময়। তারে চিন্তা করতে শেখান, সমস্যা নিয়ে ভাবতে দেন, আত্মনির্ভরশীল হইতে দেন।

[চলবে]

০৬-০৮-২০২০, ১১.১০ AM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *