বিচ্ছেদ-অবিচ্ছেদে দিনগুজরান

  •  
  •  
  •  
  •  

আজকাল বিচ্ছেদ ব্যাপারটা এত সস্তা হয়ে গেছে যে আনফ্রেন্ড কিংবা ব্লক করে দেয়াটাই সম্পর্কের দফারফার পন্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সম্পর্ক গড়ে উঠবার ব্যাপারটাও একই রকম সস্তা হয়ে গেছে যেন ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা মানেই সম্পর্ক থাকা। বিচ্ছেদ বা সম্পর্ক বলতে এখানে শুধু বিয়ে কিংবা প্রেমসংক্রান্ত বিষয়গুলোর কথা বলছি না। বরং সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এই বিষয়গুলো সত্য। ফেসবুকে আনফ্রেন্ড কিংবা ব্লক করার মাধ্যমেই বহুদিনের গড়ে ওঠা একটা সম্পর্কের উপর যতিচিহ্ন বসিয়ে ফেলা যায়? তবু আমরা রেগে গেলে প্রিয় মানুষদের ব্লক করে দেখছি, কেউ ব্লক করে দিলে চূড়ান্ত অপমান মনে করে নিজের ইগোর কারণে আর তার সাথে যোগাযোগ করছি না কখনোই। অতীতেও যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোতে ঝগড়া, মনোমালিন্য হতো না তেমনও নয়। বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে তো মারামারি পর্যন্ত হতো।

তারপর কিছুদিন কথা বলা বন্ধ থাকতো। কিন্তু ধীরে ধীরে আবার সম্পর্কটা পুনঃস্থাপন হয়ে যেত। কিন্তু এখন ব্যাপারটা এমন যেহেতু ও আমাকে ব্লক করে দিয়েছে, ব্যাপারটা চূড়ান্ত অপমানের, ওর সাথে আর কথা বলা যাবে না। কারো উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে, দিলাম আনফ্রেন্ড করে! ব্যস সব শেষ! কত সহজে মানুষ আজকাল সব শেষ করে! যেন ফেসবুকে ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা মানে একটা অলিখিত কাবিননামার মতো গুরত্বপূর্ণ বিষয়, যেন ব্লক মানেই তালাকনামা! স্বামী-স্ত্রীরাও আজকাল মনোমালিন্য হলেই ডিভোর্স পেপার নিয়ে এসে সাইন করে ফেলছে। একটা সময় ঝগড়া হলে কথাবার্তা বন্ধ করতো, সেপারেশনে যেত। এরপর ধীরে ধীরে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের ব্যাপারে ভাবত। এতে করে অনেক সময় জীবনে একে অন্যের গুরুত্বটুকু অনুভব করবার, নিজের ভুলগুলো উপলব্ধি করবার এবং সম্পর্কে ফিরে আসবার একটা অবকাশ পেত।

কিন্তু এখন তো মারমার, কাটকাট, দিয়ে দাও ডিভোর্স। আসলে ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসবার পরে তো মানুষের সঙ্গের অভাব নেই। এ গেলে ও আসবে, ও গেলে সে আসবে তাই কাউকে মূল্যায়নের কোনো তাগিদ কেউ অনুভব করে না। অথচ এই সস্তায় পাওয়া এ বা সে সবাই একসময় নেই হয়ে গেলে মানুষ চূড়ান্ত একা হয়ে পড়ে। এই যে আমরা ক্ষমা চাইবার কিংবা ক্ষমা করবার সুযোগ রাখছি না, ভুল সংশোধনের সময় দিচ্ছি না এসবই আমাদের অসামাজিক করে দিচ্ছে। কী অদ্ভুত এক সময়। আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার আগেই আমরা সামাজিক ছিলাম।

৩০/০৬/২০২০, ১০.৫০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *