বিষয় “আত্মজ্ঞান”

  •  
  •  
  •  
  •  

এরপর একজন পুরুষ বললো,
– আমাদেরকে আত্মজ্ঞান সম্পর্কে বলুন।
আর তিনি বললেন,
– তোমাদের হৃদয় নীরবে জানে দিন ও রাত্রির গোপন রহস্যাবলি। কিন্তু তোমাদের কান তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকে তোমাদের অন্তরের জ্ঞানের ধ্বনির জন্য। যা তোমাদের ভাবনায় সব সময় জেনে এসেছো তা তোমরা এখন কথার মাধ্যমে জানতে চাও। তোমরা চাও তোমাদের স্বপ্নের নগ্ন দেহকে তোমাদের আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করতে। আর তোমাদের এই চাওয়াটা খুবই ভালো। তোমাদের আত্মার লুকানো কুয়ার জলকে উত্থিত হয়ে কলকল করতে করতে সাগরের পানে ছুটে যেতেই হবে। এবং তখন তোমাদের অন্তহীন গভীরতার ঐশ্বর্যসমূহ তোমাদের চোখের সামনে উন্মোচিত হবে।

কিন্তু তোমাদের ঐশ্বর্যসমূহ ওজন করার জন্য কোনো দাঁড়িপাল্লা যেন না থাকে। আর জ্ঞানের গভীরতা মাপার জন্য তোমরা কোনো বংশদণ্ড অথবা রজ্জু ব্যবহার করো না। কারণ সত্তা হল একটা অসীম ও অপরিমাপযোগ্য সমুদ্র। তোমরা বলো না যে সত্যের সন্ধান পেয়েছো, বরং বলো, আমি একটা সত্যের সন্ধান পেয়েছি। তোমরা বলো না, আত্মার পথ খুঁজে পেয়েছি, বরং ব’লো, আমার রাস্তায় হেঁটে যাওয়া আত্মার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। কারণ আত্মা সকল রাস্তা দিয়েই হাঁটে। আত্মা একটা রেখা ধরে হাঁটে না, তা একটা নলখাগড়ার মতোও বেড়ে ওঠে না। আত্মা নিজেকে উন্মোচিত করে একটা পদ্ম ফুলের অসংখ্য পাপড়ির মতো করে।

[মূল লেখক – কাহলিল জিবরান]

১৭/০৫/২০১৯, ১১.২৯ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *