বিয়ের একাল সেকাল (চতুর্থ পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

এরেঞ্জড ম্যারেজই একমাত্র প্রাগৈতিহাসিক জিনিস যেটা এই আলট্রা মডার্ন যুগেও সম্পূর্ণ স্বকীয়তা সহ গর্বের সাথে টিকে আছে। স্পেশালি ভারত উপমহাদেশে এটাকেই একমাত্র ফুলপ্রুফ বিবাহের মাধ্যম হিসেবে ধরে নেয়া হয়। আপনি যদি আপনার কোনো ইউরোপিয়ান, আমেরিকান ফ্রেন্ড কে বলেন যে, আপনি এমন একজনকে বিয়ে করেছেন যার সাথে আপনার কোনো পরিচয় ছিল না, তার সাথে একদিন ডেট এ যান নাই অথবা তাকে জীবনেই স্পর্শ করেন নাই, সে চোখ কপালে তুলে বলবে,
– তুমি ফ্রিকিং কথাবার্তা বলতেসো মামু। চিনোনা জানোনা এরকম একজনকে বিয়ে কৈরালাইলা? কেম্নে কি? এইটা কি একটা খেলা?

সেই বিদেশীকে কে বোঝাবে যে আমাদের সমাজে প্রেম, ভালোবাসার বিবাহকেই মনে করা হয় ছেলে খেলা। কাজের জিনিস যদি কিছু থাকে সেটা হলো এরেঞ্জড ম্যারেজ। যে বিয়েতে, বাবা, মা, ভাই, বোন, খালা, ফুফু, পাশের বাসার আন্টি এমনকি বাড়ির কাজের লোকের একটা রোল থাকে শুধু যার বিয়ে সে থাকে পুরাপুরি বেকার। স্টেটাস, শিক্ষাদীক্ষা, বাড়ি গাড়ি সমস্ত জিনিস পত্র ম্যাচ হবার পর পাত্র আর পাত্রী একজন আরেকজনকে দেখার সুযোগ পায়, সেই সিস্টেমও খুব বেশিদিন হয়নাই।

ত্রিশ চল্লিশ বছর আগে ডাইরেক্ট বাসর ঘরে দেখা হতো বর বৌ এর। এমনকি বিয়ে পড়ানোর সময়ও দেখার কোনো চান্স ছিল না। পাত্রী থাকতো পর্দার আড়ালে, মাথায় থাকতো তিন হাত ঘোমটা, ভয়ে, লজ্জায়, টেনশনে চোখ থাকতো বন্ধ। ম্যাক্সিমাম সময় কবুল বলার পরপরই তারা সেন্সলেস হয়ে যেত। সে এক বিরাট বিপদ। এই জন্য দেখেন না, পুরোনো বাংলা সিনেমায় দেখায়, বর বাসর ঘরে ঢুকে বৌ এর ঘোমটা তুলে বলে,
– কে তুমি? তুমি কি সেই যাকে একটু আগে আমি কবুল বলে বিয়ে করেছি?
এই প্রশ্ন শোনার পরে নববধূ আরেকবার সেন্সলেস হতো কিনা সেই তথ্য অবশ্য কারো জানা নাই।

[চলবে]

২৩/০৬/২০১৯, ১০.৩১ AM

বিয়ের একাল সেকাল (প্রথম পর্ব)

বিয়ের একাল সেকাল (দ্বিতীয় পর্ব)

বিয়ের একাল সেকাল (তৃতীয় পর্ব)

বিয়ের একাল সেকাল (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *