বৃষ্টি (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  

– “কি বৃষ্টিরে বাবা! থামার নাম নাই”।
কথাটা বলে শোভন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করল। সুন্দরী মেয়ে দেখলে তার এরকম হয়। দৃষ্টি আকর্ষন করতে ইচ্ছা করে। বেশির ভাগ সময়েই কোন লাভ হয়না। মেয়েরা পাত্তা দেয় না। তারপরেও চেষ্টা অব্যাহত থাকে। ছেলে জগতের সাধারণ সমস্যা।
– “আপা, চা খাবেন?”
মেয়েটা চুপ করে আছে। বোঝাই যাচ্ছে অপরিচিত বা অল্পপরিচিত ছেলেদের সাথে কথা বলা টাইপ সে না। মেয়েটা গোলাপী কামিজ পড়া, গোলাপী কামিজের সাথে সাদা ওড়না। মেয়েদের পোশাক সম্পর্কে শোভনের ধারণা কম, একবার বোনের জন্য জামা কিনতে গিয়েছিল, প্রাইস ট্যাগ ছয়শ টাকা মনে করে নিয়ে গিয়ে দেখে জামাটার দাম ছিল ৬ হাজার টাকা। শোভনের খুবই মন খারাপ হয়েছিল।

মন সারাক্ষণ এমনিতেই ছোট থাকে তার উপর এমন অপমান। শোভন আশেপাশে তাকিয়ে দেখে কয়েকজন তার দিকে তাকিয়ে ছিল। চোখে করুণা কম, অন্যকে বিব্রত হতে দেখার মজা বেশি। শোভন ঠিক করেছে চাকরী পেলে সে বসুন্ধরা সিটির ওই দোকানে গিয়ে ঠিকই সেই ছয় হাজার টাকার জামাটা কিনে নিবে, দাম দিতে গিয়ে এমন ভাব দেখাবে বোনের জন্য এমন জামা সে প্রতি সপ্তাহে দুটো কিনে। শোভন গোলাপী কামিজের মেয়েটার সাথে কথা বলার চেষ্টা করাতে আপাতত বিরতি আনলো। ভয়াবহ বৃষ্টি হচ্ছে তাই চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়েছে শোভন। মেয়েটাও উপায় না পেয়ে এখানে এসেছে।

চায়ের দোকানের বাইরের জায়গা খোলা আকাশের নিচেই হয়। বৃষ্টির কারণে উপরে প্লাস্টিক দেওয়া। প্লাস্টিকে বৃষ্টির ফোটা পড়ছে আর ঝমঝম আওয়াজ হচ্ছে। আওয়াজে শোভন ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। শোভন মনে সাহস নিয়ে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল,
– “আপা মৌলিক রঙ কোনগুলা জানেন নাকি”?
মেয়েটা অবাক হয়ে শোভনের দিকে তাকিয়ে থাকল। চোখের দৃষ্টিতে বিরক্তি বোঝা যায়, তবে সে কথা বলল,
– “আপনি আর একটা কথা বললে আমি এখান থেকে চলে যাব”।
– “না না আপা। ভুল বুঝবেন না। আসলে চাকরীর ইন্টারভিউ তো, এর আগে এক জায়গায় জিজ্ঞেস করেছিল বলতে পারিনাই। এইবার ভাল মত শিখে এসেছি”।
মেয়েটা মুখ ফিরিয়ে নিল। এই কথার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করল না।

[চলবে]

১২/০৭/২০২০, ১০.৪২ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *