বেওয়ারিশ বেজন্মা (প্রথম পর্ব)

  •  
  •  
  •  
  •  


অবশেষে মিতু সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তাঁর গত হয়ে যাওয়া প্রেমিক- জন্মপরিচয়হীন ছিল। এই সিদ্ধান্ত পাকাপোক্ত হবার পরে নিজেকে খুব ‘অপবিত্রা’ মনে হচ্ছিল তাঁর। ‘ছি: একজন বেজন্মা আমাকে ছুঁয়ে ছিল। এর আগে আমার মরণ কেন হলো না!’। ছিটেফোটা যে সব স্মৃতি ছিল ওই বেওয়ারিশ প্রেমিকের সাথে, মনে হতেই গা গুলিয়ে আসছে তাঁর। হাতের তালু, আঙ্গুল, নখ অনেকবারই স্যাভলন ডেটল দিয়ে ধুঁয়েছে। তবুও তাঁর ঘেন্না হচ্ছে। নিজ হাতে খেতেও পারছে না। একটা বিভৎস গন্ধ যেন বের হচ্ছে হাত থেকে। উফফ! অসহ্য। ভাগ্যিস, পরিণতির আগেই ছেলে জন্মপরিচয় ফাঁস হলো! না হলে যে সন্তান গর্ভে আসতো সেও তো হতো – বাস্টার্ড চাইল্ড। বাচ্চাটাকেও হয়তো শেয়াল-কুকুরের খাবার বানিয়ে দেয়া লাগতো। চারপাশে এতো ভাল মানুষ, সবার কত কত বড় পিতৃপরিচয়। সেসব রেখে এক বেওয়ারিশের সাথে? নাহ আর ভাবতে পারছে না সে।


অমিত এসেছে কিছুক্ষণ আগে। মিতু মন খারাপ থাকলে অমিত বুঝতে পারে। টেলিপ্যাথি বলা যায়। সেটা বুঝেই সে সরাসরি চলে এসেছে মিতুর বাসায়। অনেকভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু মিতু স্বাভাবিকই হচ্ছে না। মিতুর একসময়ের প্রেমিক ছিল অমিত। সময়ের ঘোরে প্রেম কিছুটা মরে যায় তাঁদের মধ্যে। সেটা ঠেকেছে এখন বেস্ট ফ্রেন্ডে। যে কোন সমস্যাতেই মিতু এখন তাকেই নক করে। তবে মিতুও জানে অমিতের চেয়ে ভাল কেউ আসবে না। তাই অন্তত বন্ধু হয়েই সে পাশে থাকুক। আর অনন্যা নামের সদ্য এক ডিভোর্সি মেয়ের সাথে একই ফ্ল্যাটে থাকে অমিত। তাই তাঁকে চাইলেই কী আর পাওয়া যায়।

তবে মিতুর প্রতি এখনো অমিতের ভালবাসা প্রেম মরেনি। কোন ছেলের পাশে মিতুকে সে সহ্য করতে পারে না। সরাসরি মিতুকে তা বলতে পারে না, কিন্তু চোখ দেখলেই মিতু বুঝতে পারে। এমনকি মিতুর সদ্য সাবেক হওয়া প্রেমিককেও সে সহ্য করতে পারতো না। অনেকটা কান্না করার পর মিতু মাথা তুললো। অমিত বসে আছে সামনেই। মিতু হাউমাউ করে কেঁদে অমিতকে জড়িয়ে ধরলো। সে কান্না অমিতকেও ছুঁয়ে গেল। একসময় সেও মিতুকে অনেক কান্না করিয়েছে। মেয়েটাকে কতজনের সামনে অপমান করেছে। কিন্তু অন্য কেউ কেন ওকে কান্না করাবে?

[চলবে]

১৯/০৫/২০২০, ০৮.০০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *