ব্যাচেলর ট্রিপ

  • 1
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

সুযোগ পেলে ‘অমানুষ’ হয়ে জন্ম নিতাম। অন্তত ‘অমানুষ’দের সাথে মিশতে মিশতে তাদের বুঝতে পারতাম। তারপরের জন্মে না হয় ‘মানুষ’ হয়েই জন্ম নিতাম। সে জন্মে এক পলকেই ‘অমানুষ’ নামের কালসাপদের এক দেখাতেই চিনতে পারতাম। কোন এক অজানা কারনে ‘অমানুষ’ শ্রেণী মানুষের সাথেই বেশি দেখা হয়। এদের মায়ার জাল বাংলাদেশ থেকে চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত। আমিও মাছের মতো নির্বোধ। ‘আহার’ বলে অনায়াসেই বিশ্বাস করে গিলে ফেলি বরশি। উগরাতে পারি ঠিকই, তবে যতক্ষণে পারি ততক্ষণে মৃত্যুদেবতার সাথে একটা ছোটখাটো ‘চা-চক্র’ হয়ে যায়। তবুও আমি বলি,
– কোনো খেলাতেই আমি হারি না। প্রত্যেক খেলাতেই আমি হয় জিতি না হয় শিখি। যদিও শেখার পাল্লাটা ক্রমশই ওজনদার হয়ে যাচ্ছে। তবুও বলি, লাইফ ইজ বিউটিফুল।

বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনে চলাটা সহজ কথা নয়। যাঁরা পারে, তারা মহামানব। আমিও সেই মহামানবদের কাতারেই ধীরে ধীরে এগোচ্ছি। ফ্যান্টাসির রঙিন জগত থেকে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছি। বিরুদ্ধ যে কোন কিছুকেই ‘ইটস ওকে’ বলে ওভারটেক করতে পারি। জোকারের মতো গাল কেটে ঠোঁটে ঝুলিয়ে রাখতে পারি ‘সুখের হাসি”। এই ‘পারা’টা একদিনে হয়নি। বহুত নিদারুণ অভিজ্ঞতা থেকে আজকে আমি বাস্তবতাকে লোভাতুর লাল পানি ভেবে আলো আধারির আলোতে খুব সহজেই পান করতে পারি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে প্রতি মুহুর্ত একটু একটু করে শিক্ষা দিয়েছে ‘কেহ নয় আপন’।

দিনশেষে তুমিই শুধু তোমার। চলার পথে কেউ স্থায়ী সঙ্গী নয়। যে প্রেমিকা আমাকে ছাড়া বাস্তব দিন কল্পনাও করতে পারতো না, সে দিব্বি এই শহরে তথাকথিত স্বামী, প্রেমিক কিংবা বন্ধুর হাত ধরেই ঘুরে বেড়ায়। আমি অবাক হই না। যে বন্ধু বলেছিল,
– দোস্ত তোকে ছাড়া থাকতেই পারবো না। সেও দিব্বি নতুন দোস্তের সাথে মাস্তি করে ঘুরে বেড়ায়।
এই বাস্তবতা আমার অবিশ্বাসকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে। জিবরালের মতো নিজেকেই আমি বিশ্বাস করি না। কারন আমি জানি, ‘বিলাসী’ গল্পের সেই সদ্য স্বামীহারা রমণীর মতো সবাই একা। অবস্থান পরিবর্তন হলেই চিৎকার করে বলে উঠবে,
– ‘আমি একলা থাকতে পারবো না’।
আদতে পারেও না।

০১/০৫/২০২০, ১০.১৮ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *