ভাঙ্গা মন নিয়ে তুমি আর কেঁদো না

  •  
  •  
  •  
  •  

তুমি কখনো পূর্নিমার রাতে বৃষ্টিতে ভিজেছো? ছাদে দাঁড়িয়েও হয়তো বৃষ্টিতে ভিজেছো, তাই না? তখন কি রাত ছিলো? খোলা আকাশের নিচে, পূর্নিমা বা অমাবস্যায়? হয়তো লোডশেডিং ছিলো। অথবা ছাদে নও, খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছো। তোমার চুল বেয়ে পানি মিশে গিয়েছিলো ধরনীতে। আচ্ছা, সেদিন কি তোমার মনে খুব কষ্ট ছিলো? তোমার বুকের ভেতর কিছু কি পাক খেয়ে কিংবা তোমার গলায় ভারী কিছু কি দলা বেঁধে ছিলো? আচ্ছা তুমি কি পূর্নিমার সেই বৃষ্টিস্নাত রাতে কাঁদছিলে? আচ্ছা, তুমি কি আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল গুঁজে দেয়ার মানে জানো? তুমি কতখানি গুনতে পারো? কখনো কি চেষ্টা করেছো জলপ্রপাত হয়ে ভেসে যেতে? পড়ন্ত বিকেলে কি বাঁশির সুর তোমায় পাগল করে? অথৈ জোছনা না জোনাকি পোঁকা? রাত গভীর হলে কার ছায়া খুঁজো তুমি?

তোমার পিসিতে গান বাজছে, দরজা জানালা বন্ধ তোমার। আশে পাশে ছড়িয়ে আছে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে রাখা কাগজ। তুমি লেখার চেষ্টা করছো তোমার অনুভূতিগুলো। হচ্ছে না কিছুই তাই না? অনুভূতি কি বের করতেই হবে? অথবা, তোমার অনুভূতি কি লিখেই জানাতে হবে? অনুভূতিকে ষ্পর্শ না করে তাহলে অনুভূতির প্রখরতা কোথায়? নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস মেলাতে কি ইচ্ছে হয় না তোমার? এ মন, তোমার মন ছুঁবে বলেই মন আজ দিশেহারা। দৃষ্টিতে হাজার শব্দের কথা থাকলেও, মন শুধু মনকেই ষ্পর্শ করতে চায়। চোখের দৃষ্টি কবিতা হয়ে ধরা দেবে, মনে মনে তুমি কবিতায় সুর দেবে। এভাবেই রচিত হবে পৃথিবীর আদিমতম কাব্য।

কিন্তু তারপরেও তুমি কি তাই চেয়েছিলে? আমার মতো করে? তোমাকে কি কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়নি? মন কি তোমার সত্যিই মন ছুঁয়েছে, নাকি যা ভাবছো তা শুধুই প্রাকৃতিক দূর্যোগ নাকি সড়ক ও জনপদের রাস্তা খনন এবং দূর্ভোগ বুনন? আচ্ছা তুমি কিভাবে এ হৃদয় ছুতে চাও? শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, তুমি তা জানো। তুমি হয়তো চাও, হয়তো চাওনা। তুমি মহাকালের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে কি থাকবে না সে তুমিই ভালো জানো। কান্না যদি এতোই ভালোবাসো তাহলে বৃষ্টির জলকেই চিরসাথী করছোনা কেনো? তুমি কি জানতে চাও আমি কিভাবে তোমাকে পেতে চাই? এক শব্দে জবাব দেবো – পুরোপুরি। এক ফোঁটাও কাউকে পেতে দেবো না। হ্যা, আমি তোমাকে পুরোপুরি পেতে চাই। একান্ত আমার করে।

২১/০৭/২০২০, ১১.০০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *