ভালোবাসা কারে কয়

  • 1
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

“কাজল মানে নেশা, কাজল মানে ঘোর,
কাজল চোখের কোন মেয়েটা জানে
কে কতোটা ডুবছে অকাতর!”
– সাদাত হোসাইন

ফেবুর শুরুর দিকে আমার ষ্ট্যাটাস গুলো কিঞ্চিত, আরে না না কিঞ্চিত না একটু বেশীই বড় হতো। যখন ডায়েরী লিখতাম তখনও কেন যেন কলমের লাগাম ছেড়ে দিয়ে ডায়েরীর পাতাময় দাপিয়ে বেড়াতাম। একসময় ভাবলাম, যে বন্ধুদের জন্য আমার লেখা। তারা মনে হয় আমার লেখা পড়ছে না। একদিন এক অল্প পরিচিতা বলেই ফেলল,
– “এই যে মিষ্টার, এতো বড় লিখেন কেন? পড়তে পড়তে জান বেরিয়ে যায়।”
অল্প পরিচিতার এহেন কথায় আমি দারুন বিষম খেলাম। আমার ভেতরের আমি কবিতা আওড়াতে লাগলো –

“তুমি এলে অনেক দিনের পরে যেন বৃষ্টি এলো,
তুমি এলে অনেক কথা এলোমেলো মনে হলো।”
কিন্তু একদিন, খুব হঠাৎ করে সেই অল্প পরিচিতা কাউকে কিছু না বলেই হারিয়ে গেলো। আর আমারও বিদেশ-বিভূইয়ে প্রচন্ড ব্যাস্ততার কারনে ফেবুর স্ট্যাটাসও ধীরে ধীরে ত্রিপল এক্সেল সাইজ থেকে মিনি প্যাক হয়ে হয়ে একদম টুনি প্যাকে এসে ঠেকেছে। আপনারা হয়তো ভাবছেন, আমি এতো ইতং-বিতং করছি ক্যানো? আছে “গল্পের পেছনে ও গল্প আছে”। সেটাই এখন বলবো।

আজ সন্ধ্যায় আমার ছোট বোন আমাকে আমার একসময় কার বড় বড় ষ্ট্যাটাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলল,
– “ভাইয়া, আবার লিখো, আর কেউ না পড়লেও আমি পড়বো। বেশ লাগে।”
একমাত্র আদরের ছোট বোন বলে কথা। আমি আবার আমার কলম থুক্কু কি-বোর্ড শানিত করে মহা আয়োজনে বসে পড়লাম ল্যাপটপের সামনে। কিন্তু কি লিখবো, কি লিখবো করে করে যখন আমার প্রান উষ্ঠাগত তখন একবন্ধুর কথা মনে পড়লো।
কোন এক আড্ডাবাজ মূহুর্তে আমার কাছে সে জানতে চেয়েছিলো,
– “দোস্ত, ভালবাসা কারে কয়?”
আমি তাকে এক ঝাঁরি মেরে বলেছিলাম,
– “রবি ঠাকুর ও একই কথা জিজ্ঞাস করেছিলো।”
সরল প্রান বন্ধু আমার আঁতকে উঠে বলেছিলো,
– “সেকিরে, রবি ঠাকুর তোর বন্ধু ছিলো নাকি?”
আমি বন্ধুর মাথায় চাটি মেরে বলেছিলাম,
– “আরে গাধা, রবি ঠাকুর বলেছিলো শুনিস নি “সখি ভালবাসা কারে কয়?”
সেদিন বন্ধুর প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারিনি, আজো পারবোনা জানি। তবে একটু, খুব সামান্য হলেও যৎ কিঞ্চিৎ বলতে তো পারবো। আমি বন্ধুকে বলতে লাগলাম,
– “শোন দোস্ত, ভালবাসা হলো প্রচন্ড গরমে “ঠান্ডা পানি” এর মত। হয়তো এমনি পানি হলেই চলে, তবুও মানুষ একটু বেশি চায়, একটু বেশি ঠান্ডা চায়। একটু বেশিই তৃপ্ত হতে চায়! তারপর একদিন দেখা যায়, মানুষটার প্রচন্ড ঠান্ডা লেগে গেছে। সে একটু পর পর খুক খুক করে কাশছে। মানুষটার মনে হতে থাকে, ঐ ভালোবাসাটুকুই ভুল ছিল। ঠান্ডা পানি চাওয়াটাই ভুল ছিল!”

ভালোবাসাটা আসলে ভুল না। একটু বেশি তৃপ্তির জন্য একটু কাশি তো সহ্য করাই যায়। একটুখানি ভালোবাসার জন্য একটুখানি কষ্ট তো সহ্য করাই যায়। স্বপ্নে বিভোর হয়ে মিটিমিটি হাসি নিয়ে অনেকগুলা রাত নিশ্চিন্তে ঘুমানোর পর দুই-একটা রাত তো বালিশে মুখ চেপে নির্ঘুম কাটানোই যায়, যায় না?

অনেকগুলা পূর্ণিমা রাতের পর কোন একটা রাতে অমাবস্যা আসবেই। তাই বলে আকাশের দিকে চেয়ে থাকাটা কখনোই ভুল ছিল না! আর মানুষ ভালবাসতেই জানে শুধু। ভালবাসার মানুষকে ভুলতে জানে না। ভালবাসাটা হলো ঠিক আমাদের সামনের সমুদ্র স্রোতের মত। বারবার ফিরে আসে, ধাক্কা দিয়ে যায় ভেতরটাকে। সমুদ্র কখনো শুকিয়ে যাবেনা, স্রোতটাও কখনো হারাবে না।

১৮/০৬/২০১৬, ১২.৪০ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *