মাস্ক সমাচার

  •  
  •  
  •  
  •  

অনেক দিন পরে মধুর সাথে দেখা। মুখটা মলিন। মনে হচ্ছে খুব টেনশনে আছে। জিজ্ঞেস করলাম,
– “কি রে কি হইসে?”
মধুর পাল্টা প্রশ্ন,
– “দোস্ত এক্টা উপকার করবি?”
– বল…।
– “তোর ভাবীকে গত পাঁচ-সাত দিনে, প্রায় ১২/১৪ টা মাস্ক কিনে দিয়েছি। তার নাকি এক্টাও পছন্দ হয় নাই। ড্রেসের সাথে ম্যাচিং ছিলো বলেই কেবল সেগুলো ইউজ করেছে সে।”
কথাটা বলতে বলতেই তার হাতে থাকা আধ পুড়ে যাওয়া সাদা বেন্সনে একটা টান মেরে আকাশের দিকে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে অন্য মনস্ক হয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড।

বুঝলাম এর গভীরে ইন্টারেস্টিং কিছু অবশ্যই আছে। বল্লাম,
– তারপর?
– “দোস্ত, ১৬ তারিখে ভাগ্নীর বিয়ে।”
– ও আচ্ছা, তো ভাগ্নীর বিয়ের সাথে মাস্কের কি সম্পর্ক? আর কি যেন বল্লি উপকারের কথা?
– “তোর ভাবী ও বিয়েতে যাবে।”
– ভালো তো, তোর ভাগ্নীর বিয়েতে তোর বউ যাবে। এটাইতো স্বাভাবিক তাই না?
– “একটা মাস্কের ব্যাবস্থা করে দিতে পারবি? সেটা তোর ভাবীর শাড়ির সাথে ম্যাচিং হতে হবে, ডিফারেন্ট, ফ্যাশনেবল হতে হবে। বিয়ে বাড়িতে সেইম জিনিস অন্য কেও পড়তে পারে, সেটা সে পরে যাবে না। সার্জিক্যাল মাস্ক বা লোকাল কোনটাই সে পরবে না। গর্জিয়াস কিছু তার চাই। কি বিপদের পরলাম বল তো দেখি। বুঝলাম, মধু ভালো প্যারায় আছে। বললাম,
– এখন কি করবি? কিছু ভেবেছিস?
মধু কোন উত্তর দিলো না। শুধু সিগারেটে শেষ টানটা দিয়ে গম্ভীরমুখে বললো,
– “না, পারলে হেল্প কর।”

ওর মতিগতি আমার কাছে ভালো মনে হলো না। মনে হচ্ছে ওর বিপি বেড়ে গেছে। যেকোনো সময় সে স্ট্রোক করবে। ওয়েট না করে, বাতেন কাকাকে কল দিলাম। বিষয়টা বিস্তারিত জানানোর পর, কাকা জানালো মধুকে সাথে নিয়ে বিকেলের দিকে তার অফিসে যেতে। বিকেলে বাতেন কাকা যা দেখালেন, আমাদের দুজনের চোখ রীতিমতো কপালে। কি জিনিস মাইরি! মধু কথা দিয়েছিলো, যদি ওর বউ এটা পছন্দ করে তবে, আমাদের দুজনকেই আজ সকালে নাস্তা খাওয়াবে। সকাল থেকে ওর ফোনটা বন্ধ পাচ্ছি!

১৪/০৩/২০২০, ১১.৩৩ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *