মা

  •  
  •  
  •  
  •  

মা – একটা শব্দ। এই শব্দটা নিজেই একটা অস্তিত্ব। যেই অস্তিত্ব অনেক গুলো অস্তিত্বের জন্ম দেয়। অনেকগুলো অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। জীবনের দৌড় ঝাপগুলো যাকে ছাড়া মোমের মূর্তি হয়ে থাকে।
মা – একটা শব্দ, যে শব্দের অর্থই হল ত্যাগ। শুধুই ত্যাগ, নিজে না ঘুমিয়ে তার ঘুম গুলো জমিয়ে রাখে তার অসুস্থ্য মেয়ের জন্য। নিজে না খেয়ে খাবারটা রেখে দেয় তার অভুক্ত শিশুর জন্য। কেন জানো? কারন সে নিজে খেয়ে ফেললে তার সন্তানের যদি কম পড়ে যায়? নিজের অর্ধভাংগা স্বপ্নগুলো পূর্ণ করে দেখে তার স্বামির চোখে। নিজের সুখ? উহু তার সন্তানদের হাসিমুখই তো তার সুখ। কখনো ইদ বা কখনো পুজা যাই হোক না কেন ছেলেমেয়ের জন্য নতুন জামা চাই ই চাই। তাতে নিজের পরনের শাড়িটা যদি কুচির নিচে ছিড়াও থাকে, তাতে কি?

মা – একটা প্রাণ। পুরো পরিবার যেই প্রানের বিনিময়ে বেচে থাকে। সে রাঁধুনি, সে বাঁধুনি ও। অক্লান্ত পরিশ্রম করে যখন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে, তখন তার সংসার নামক যুদ্ধে হতে হয় সৈনিক। প্রচন্ড তাপ ও যদি থাকে শরীরে তবুও ছেলের স্কুলের ইউনিফর্ম টা তাকে ধুতেই হবে। ছেলেকি ময়লা জামা পড়ে স্কুলে যাবে?
মা – একটা শব্দ। যেই শব্দের মধ্যে কোনো রাগ বা অভিমান নিহিত নেই। শত কষ্ট হলেও তার হাসি মুখটাই সবসময় বিদ্যমান। পাছে তার সন্তানরা আবার কোনো প্রশ্ন করে বসে নাকি? সমাজ তাকে পরিবার নামক কারাগারে বন্দি করে দেয়। আর বছরের পর সে কয়েদির মত খেটে যায় তার পরিবারের সুখের জন্য। হোক সে অনক বড় কোনো বিপদ, হোক না সে বিপদের সমস্ত দায় ভার তার উপর তুবুও সে মাথা নিচু করেই সব মেনে নিয়ে সেই কারাগারে যুদ্ধ করে নিজে বাঁচার জন্য না। তার পরিবারকে বাচিয়ে রাখার যুদ্ধ।

মা – একটা সম্পর্ক। যেই সম্পর্কের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। যে সম্পর্ক এ কোনো ইগো নেই। আত্নসম্মানবোধ ও নেই স্বামি তাকে যতই আঘাত করুক। কষ্ট দিক এতে হয়ত তার চোখের জলের বন্যা বয়ে যাবে কিন্তু তবুও স্বামি ঘরে এলে তার জন্য খাবার তৈরী করতে গিয়ে তাড়াহুড়া তে কখনো গরম খুন্তি লেগে হাত পুড়ে যায়। কখনো পিয়াজ কাটতে গিয়ে আঙুল ও কেটে যায়। তবুও তার কেনো ক্ষোভ নেই। ছেলেমেয়েরা অনেক মর্ডান হয়ে যায়। কখনো হয়ত তাকে তোয়াক্কাই করে না। দুই চারটা তর্ক তো আজকাল সব ছেলেমেরাই করে। কত কড়া কড়া কথাও শুনিয়ে দেয় তবুও সে তার ছেলেমেয়েদের ২ টা কড়া কথা উত্তরে বলেনা যদি তার সন্তানেরা আঘাত পায়? বার বার ধমক বা ঝারিযুক্ত কথা বার্তা শুনার পরও মেয়ের ঘরের দরজায় অনবরর ঠক ঠক করতেই থাকে পাছে মেয়েটা না আবার না খেয়ে ঘুমিয়ে যায়। সমস্ত কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও ছেলেটা ঠিক মত বাসায় গেলে কিনা কি খেলো সব খবর নিতেই হবে তাকে, দুনিয়া উল্টিয়ে যাক তার পরিবার আকড়ে ধরে তাকে বাঁচতে হবে। কারন ঐ যে অসহায় তার অচল সব অনুভুতিগুলো শুধুই যে তার পরিবারের ভীড়েই হুমড়ি খায়।

মা – একটা শব্দ যার কোন পাওয়া নেই, চাওয়া তো দূর। যে শুধু বেচে থাকে দিয়ে যাওয়ার জন্য, রাতের পর রাত অসুস্থ্য মেয়ের সেবা করার জন্য। স্বামির খেদমত করার জন্য, ছেলের খাবার জোগানোর জন্য আর পরিবারের সবার অভিযোগের বোঝা মাথায় নেয়ার জন্য। অথচ এই মাকেই দিনে একবারো তার সন্তানেরা জিজ্ঞেস করে না মা তুমি খেয়েছে? একবারো মায়ের ঘরে গিয়ে দেখেনা মা কেন চুপ চাপ শুয়ে আছে। একবারো জিজ্ঞেস করে না পিয়াজ কেটে হাত কাটার সময় বেশি রক্ত পড়েছে কিনা। মা ওষুধ ঠিক মত খাচ্ছে কিনা। ৩ বেলা খাবার জোটানোর পর নিজে খাবার মুখে দিচ্ছে কিনা তার ছেলেমেয়েরা জিজ্ঞেস করেনা তাকে। তার ইদের জামার প্র‍য়োজন আছে কিনা। তার একটু বিশ্রাম লাগে কিনা। সে সুস্থ্য আছে কিনা। দরকার নাই জানার। কারন পরিবার তাকে কিছু দিতে শিখেনি। শিখেছে তার কাছ থেকে নিতে।
মা – একটা শব্দ। যেই শব্দে এত কিছুর পরও কোনো অভিযোগের বানান নেই। কারন মা’ শব্দটা নিজেই একটা অস্তিত্ব যে অনেক গুলো অস্তিত্ব তৈরী করে। এবং টিকিয়ে রাখে। তেমায় ভালবাসি মা, নিজেরও একটু যত্ন নিও। আর ক্ষমা করে দিও কারন আমিও স্বার্থের শিকলে বন্দি আরেকজন কয়েদি, যে শুধু তোমার থেকে হয়ত নিয়েই গিয়েছে কিছুই দিতে পারেনি।

২৮/০৭/২০১৮, ১১.৩২ PM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *